Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

সারা দেশে কৃত্রিম সংকট

বেশি দাম দিলে মিলছে সার, বিপাকে কৃষক

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বেশি দাম দিলে মিলছে সার, বিপাকে কৃষক

Advertisement

দেশের বিভিন্ন স্থানে সরকারি মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। কোথাও সার না কিনতে পেরে কৃষক হতাশ হয়ে পড়েছেন। কিছু জায়গায় বেশি দাম দিলেই মিলছে পর্যাপ্ত সার, অথচ ডিলাররা পাঁচ কেজির বেশি দিচ্ছেন না। বেশি দামে বিক্রির নেপথ্যে ডিলার ও খুচরা দোকানির কারসাজি রয়েছে। এ কারণে কৃষক বেশি দামে সার কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে অসাধু সিন্ডিকেট। কুড়িগ্রামের রাজারহাট, রাজশাহীর চারঘাট, পাবনা, টাঙ্গাইল ও নাটোরে এমন পরিস্থিতির তথ্য মিলেছে। দিনাজপুরের খানসামায় ১৫৭৭ বস্তা ও চট্টগ্রামে কোস্টগার্ডের অভিযানে ৭০০ বস্তা সার জব্দ করা হয়েছে। প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর-

রাজারহাট (কুড়িগ্রাম) : কুড়িগ্রামের রাজারহাটে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি দামে ইউরিয়া সার বিক্রির অভিযোগ উঠেছে কিছু ডিলারের বিরুদ্ধে। কৃষকদের অভিযোগ, কৃষি কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতিতে কোথাও কোথাও প্রতি কেজি ইউরিয়া সার ৩০ টাকা দরে বিক্রি করা হচ্ছে। সরকার নির্ধারিত মূল্যে বর্তমানে কৃষক পর্যায়ে প্রতি কেজি ইউরিয়া সারের দাম ২৭ টাকা। সে হিসাবে ৫০ কেজির এক বস্তা ইউরিয়া সারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ৩৫০ টাকা। অন্যদিকে ডিলার পর্যায়ে প্রতি কেজির নির্ধারিত মূল্য ২৫ টাকা। রাজারহাট উপজেলার নাজিমখান ইউনিয়নের মনিডাকুয়া গ্রামের কৃষক সহিদার রহমান জানান, ডিলারের মেসার্স ভাই ভাই ফার্টিলাইজার স্টোর থেকে খুচরা প্রতি কেজি ইউরিয়া সার ৩০ টাকা দরে কিনেছেন। এ হিসাবে ৫০ কেজির এক বস্তা সারের দাম দাঁড়ায় ১ হাজার ৫০০ টাকা, যা সরকারি নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে ১৫০ টাকা বেশি।

চারঘাট (রাজশাহী) : রাজশাহীর চারঘাটে সরকারি দামের চেয়ে বেশি দামে সার কিনতে হচ্ছে কৃষকের। অনেক ডিলারের দোকানে সার থাকলেও কৃষকদের ফিরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। আবার অনেক ডিলার চাহিদার চেয়ে কম দিচ্ছেন। ৫০ কেজি চাইলে ডিলার দিচ্ছেন ৫ কেজি বা ১০ কেজি। বেশি বাড়াবাড়ি করলে সার নেই বলে তাড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। তবে কৃষি বিভাগ ও ডিলারদের দাবি সারের সংকট নেই। চারঘাটে জমিতে পানি সেচ, কীটনাশক এবং আগাছা পরিষ্কারের পাশাপাশি এখন সারের প্রয়োজন। কিন্তু বাজারে গিয়ে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না কৃষকরা। কৃষি বিভাগের তথ্যমতে, খোলা বাজারে ইউরিয়া ও টিএসপি সার কেজিপ্রতি ২৭ টাকা, ডিএপি ২১ টাকা এবং এমওপি ২০ টাকা নির্ধারণ করেছে সরকার। তবে খুচরা বাজারে এসব দামে সার মিলছে না বলে অভিযোগ কৃষকদের। ভায়ালক্ষ্মীপুর ইউনিয়নের বুদিরহাট এলাকার বাসিন্দা কৃষক আকবর আলীর অভিযোগ, টাকা বেশি দিলে সার আছে, কম দিলে নেই। খুচরা বাজারে ইউরিয়া প্রতি কেজি বিক্রি হচ্ছে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা, টিএসপি ৩০ থেকে ৩২ টাকা আর ডিওপি ২৮ থেকে ৩০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।

পাবনা : পাবনায় কৃষকরা ডিলারের কাছে চাহিদামতো সার পাচ্ছেন না। ডিলাররা বলছেন, প্রয়োজনের তুলনায় সারের বরাদ্দ অনেক কম। কৃষকদের অভিযোগ, ডিলারের কাছে প্রয়োজন মাফিক সার না পেলেও খুচরা দোকানির কাছ থেকে বেশি দামে সার কিনছেন তারা। আবার কোনো কোনো ডিলাররা সাব-ডিলারদের কাছে সার ভেদে বস্তাপ্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি দাম নিচ্ছেন। এরপর খুচরা বিক্রেতারা আরও বেশি দামে কৃষকের কাছে বিক্রি করছেন। পাবনা সদর উপজেলার কোমরপুর গ্রামের কৃষক আজিম প্রামাণিক ও রাধাকান্তপুরের কৃষক বাবলু খাঁ বলেন, ২ বস্তা সার আনতে গেলে দেওয়া হয় ১০ কেজি।

টাঙ্গাইল : টাঙ্গাইল সদরের বড় বিন্নাফৈর গ্রামের কৃষক ফজলুর রহমান। চলতি মৌসুমে চার বিঘা জমিতে রোপা আমনের চাষ করেছেন। প্রতি ৫০ কেজির ডিএপি সারের বস্তার দাম সরকার ১০৫০ টাকা নির্ধারণ করলেও তিনি কিনেছেন ২২০০ টাকা দিয়ে। শুধু দাইন্যা ইউনিয়ন নয়, পোড়াবাড়ী, বাঘিল, গালা, ঘাারিন্দা, করটিয়াসহ বিভিন্ন এলাকার চিত্র একই। সরকারি প্রতি কেজি ইউরিয়া ও টিএসপি ২৭ টাকা করে, ডিএপি ২১ টাকা ও এমওপি সার ২০ টাকা বিক্রি করতে ডিলার ও বিক্রেতাদের নির্দেশনা দিলেও তা মানা হচ্ছে না। কৃষকরা জানিয়েছেন, একদিকে আকাশছোঁয়া উৎপাদন খরচ, অন্যদিকে ফসলের ন্যায্য দাম নিয়ে রয়েছে অনিশ্চয়তা।

সিংড়া (নাটোর) : নাটোরের সিংড়ায় অবৈধভাবে সার মজুত করে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টির অভিযোগে রাসেল নামের এক ব্যবসায়ীকে ৭০ হাজার টাকা এবং মিজানুর রহমান নামের অপর এক কীটনাশক ব্যবসায়ীকে কুড়ি হাজার টাকা অর্থদণ্ড করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। বৃহস্পতিবার রাতে এ অভিযান চালায় উপজেলা প্রশাসন। উপজেলার বিয়াশ বাজারের মেসার্স হামিদ এন্টারপ্রাইজে অভিযান চালিয়ে অবৈধ ২২০ বস্তা সার মজুত পাওয়া যায়। ওই প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী হামিদুল ইসলামের ছেলে রাসেলকে সার ব্যবস্থাপনা আইনে ৩০ হাজার ও ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে আরও ৪০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়। জব্দ সার সরকারি মূল্যে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বিক্রির নির্দেশনা দেন ভ্রাম্যমাণ আদালত।

চট্টগ্রাম : সীতাকুণ্ড উপজেলার বাঁশবাড়িয়া এলাকা থেকে বৃহস্পাতিবার রাতে মিয়ানমারে পাচারের প্রস্তুতিকালে ৭০০ বস্তা ইউরিয়া সারসহ তিনটি ট্রাক জব্দ করেছে কোস্ট গার্ড। এ ঘটনায় পাচারকারী দুজনকে গ্রেফতার করা হয়। পরে জব্দ সার ৮ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় সন্দ্বীপের এক ডিলারের কাছে বিক্রি করে দেওয়া হয়। চট্টগ্রাম কোস্ট গার্ড এক বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানিয়েছে।

দিনাজপুর : দিনাজপুরের খানসামায় মজুত ও অনিয়মের অভিযোগে অভিযান চালিয়ে ২ দিনে ১ হাজার ৫৭৭ বস্তা সার জব্দ করেছে প্রশাসন ও কৃষি বিভাগ। অভিযানে সংশ্লিষ্ট মোট ৯০ হাজার টাকা জরিমানা ও একটি গুদাম সিলগালা করা হয়েছে। এক ডিলারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। শুক্রবার উপজেলার পাকেরহাট এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার মহিতোষ চন্দ্র চন্দের ‘মেসার্স মহাদেব ট্রেডার্স’র গুদামে ও টংগুয়া বাজারে মেসার্স আসাদুজ্জামান ট্রেডার্সে অভিযান চালানো হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম