ময়মনসিংহ মেডিকেল
নষ্ট লিফটে আগুন, ৬ জনের মৃত্যু
Advertisement
ময়মনসিংহ ব্যুরো
প্রকাশ: ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নষ্ট লিফটে আগুনের ঘটনায় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় আরও ১৪ জন আহত হন। সোমবার বিকালে এ ঘটনা ঘটে। প্রথমে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বা পুলিশের পক্ষ থেকে হতাহতের তথ্য জানানো হয়নি। নানা নাটকীয়তার পর গভীর রাতে প্রশাসন পাঁচজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করে। তবে গোয়েন্দা সূত্র ছয়জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে।
বিভিন্ন সূত্রে মৃত পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলেন-নেত্রকোনার পূর্বধলা এলাকার হাজেরা বেগম (৫০), ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া এলাকার রাঙ্গামাটিয়া গ্রামের শাহজাহান (৪০), রমজান (৩৮) জাহানারা (৫০) এবং ময়মনসিংহের তারাকান্দা এলাকার বালিখা গ্রামের কুলসুমা (৩৫)। তবে মারা যাওয়া শিশুটির পরিচয় এখন পর্যন্ত জানা যায়নি। পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর বিষয়ে ডিআইজি জাহিদুল হাসান জানান, পুরো বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। মৃত্যু নিয়ে বিভিন্ন গণমাধ্যমের তথ্যগুলো চেকলিস্ট করছি।
ময়মনসিংহ বিভাগীয় কমিশনার হুমায়ুন কবির সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে জানান, পদদলিত হয়ে ছয়জনের মৃত্যুর খবরটি সঠিক নয়। পাঁচজনের মৃত্যুর খবর আমরা পেয়েছি, তবে তারা স্বাভাবিকভাবে মারা গেছেন। দুজনের মৃত্যু নিয়ে আমরা সন্দিহান, পদদলিত হয়ে মারা গেছেন কি না সে বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। এর আগে হাসপাতালটিতে আগুন লাগার খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ময়মনসিংহ সদরের তিনটি ইউনিট ও বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি ইউনিট এসে এক ঘণ্টায় তা নিয়ন্ত্রণে আনে।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তা সানোয়ার হোসেন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, লিফটের শর্ট সার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। এতে লিফটের সব যন্ত্রপাতি পুড়ে গেছে। এদিকে আগুনের ঘটনায় প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালের নতুন ভবনের অন্যান্য চলমান লিফটও বন্ধ ছিল। হাসপাতালের স্টোর অফিসার ডা. ঝন্টু সরকার জানান, হাসপাতালের ৮তলা নতুন ভবনের এই লিফটটি দীর্ঘদিন ধরে নষ্ট ছিল। রোগীর স্বজনরা খাবারের উচ্ছিষ্ট অংশ ও ময়লা-আবর্জনা ফেলে রাখায় কোথাও কোথাও ময়লার স্তূপ জমে। ফলে লিফটের দ্বিতীয় তলা থেকে নিমিষেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে ৮তলা ভবনের লিফটের ছাদ পর্যন্ত। এ সময় হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী রোগীর স্বজন, হাসপাতালে নিয়োজিত আনসার ও পুলিশ সদস্যরা জানান, সিগারেটের আগুন বা বিদ্যুতের শর্ট সার্কিট থেকে আগুন লাগতে পারে। সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে প্রথমে নতুন ভবনের দ্বিতীয় তলায় নষ্ট লিফটে ধোঁয়া দেখা যায়। পরে নিমিষেই আগুনের লেলিহান শিখা ৮তলার ছাদ পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় আগুন আতঙ্কে সিঁড়ি দিয়ে হুড়োহুড়ি করে রোগী ও স্বজনরা রাস্তায় নেমে আসেন। পুরো হাসপাতালজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে আগুন আতঙ্ক। নিরাপত্তাকর্মী, পুলিশ ও স্টাফরাও রোগীদের সরিয়ে নিতে সহযোগিতা করেন।
ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা জানান, নগরীতে যানজটের কারণে হাসপাতালে ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট পৌঁছতে একটু বিলম্ব হয়েছে। তবে আগুনের খবর পাওয়া মাত্রই ইউনিটগুলো যথাসময়ে যাত্রা করে। হাসপাতালের উপপরিচালক জাকিউল ইসলাম জানান, আগুনে হাসপাতালের ওয়ার্ডের বা রোগীদের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। আগুন লাগার কারণ তদন্তে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেবে।
