Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

কাদের নাছিমদের কত সম্পদ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

কাদের নাছিমদের কত সম্পদ

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের ও যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। ফাইল ছবি

Advertisement

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের সাত নেতাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। রায়ে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিলসহ পাঁচজনের ৫০ শতাংশ স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে। বাজেয়াপ্ত সম্পদ জুলাইয়ের শহীদদের পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ হিসাবে দেওয়ার নির্দেশ দেন আদালত। নির্বাচনি হলফনামায় দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ওবায়দুল কাদের, বাহাউদ্দিন নাছিম, মোহাম্মদ আলী আরাফাত ও মাইনুল হোসেন খান নিখিলের ঘোষিত স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মোট দলিল মূল্য প্রায় ৪৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা। এর অর্ধেক মূল্য প্রায় ২৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা।

২০২৪ সালের দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নোয়াখালী-৫ আসনে প্রার্থী হয়ে ওবায়দুল কাদের হলফনামা জমা দেন। এতে তার অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয় প্রায় ৩ কোটি ২৩ লাখ টাকা। এর মধ্যে নগদ অর্থ ৮০ হাজার টাকা, ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রায় ৭৬ লাখ টাকা, সঞ্চয়পত্র প্রায় দেড় কোটি টাকা এবং একটি গাড়ির মূল্য ৭৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ২৫ তোলা সোনার মূল্য দেখানো হয়েছে দেড় লাখ টাকা। এছাড়া ইলেকট্রনিকস সামগ্রী ও আসবাব রয়েছে। স্থাবর সম্পদ হিসাবে ঢাকার উত্তরায় ৫ কাঠা জমির মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৫১ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে তার সম্পদের মূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৪ লাখ টাকা।

ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী হিসাবে দেওয়া হলফনামায় বাহাউদ্দিন নাছিমের অস্থাবর সম্পদের মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ২৯ কোটি ৭৯ লাখ টাকা। তার হাতে নগদ ছিল ৭ কোটি ৬৯ লাখ এবং ব্যাংকে ৯ কোটি ৫৬ লাখ টাকা। বিভিন্ন কোম্পানির শেয়ার ও বন্ডের মূল্য ১১ কোটি ১৪ লাখ টাকা। এছাড়া সঞ্চয়পত্র, দুটি গাড়ি, সোনা, ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাব রয়েছে। নাছিমের স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৫ কোটি ৪০ লাখ টাকা। মাদারীপুর ও সাভারে ১৩৯ শতাংশ কৃষিজমি এবং দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ, মাদারীপুর ও গাজীপুরে ১৫৩ শতাংশ অকৃষিজমির মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ২৪ লাখ টাকা। ঢাকার উত্তরায় একটি ভবনের মূল্য ২ কোটি ৭১ লাখ এবং মিরপুরের একটি ফ্ল্যাটের মূল্য ৪৫ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে নাছিমের ঘোষিত সম্পদের মূল্য প্রায় ৩৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। ঢাকা-১৭ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাতের হলফনামায় স্থাবর সম্পদের মধ্যে গুলশান-২ এলাকায় একটি অ্যাপার্টমেন্টের মূল্য দেখানো হয়েছে ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা। অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নয়টি কোম্পানির শেয়ারের মূল্য প্রায় ১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। এছাড়া ৩৪ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ১৭ লাখ ২০ হাজার টাকার গাড়ি এবং ৩ লাখ টাকার ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী রয়েছে। সব মিলিয়ে তার সম্পদের মূল্য প্রায় ৪ কোটি ৬৯ লাখ টাকা।

ঢাকা-১৪ আসনের সাবেক সংসদ-সদস্য মাইনুল হোসেন খান নিখিলের হলফনামায় স্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ৬৯ লাখ ১৬ হাজার টাকা। এর মধ্যে সাড়ে ৬ একর কৃষিজমির মূল্য ৪ লাখ ৪৫ হাজার এবং ৫৭ দশমিক ৫০ শতাংশ কৃষিজমির মূল্য ২৫ লাখ ৫২ হাজার টাকা। তিন কাঠার অকৃষি প্লটের মূল্য ৪ লাখ ৭১ হাজার ৬০০ টাকা। বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্ট শ্রেণিতে রয়েছে ৩৪ লাখ ৪৭ হাজার ৬১০ টাকার সম্পদ।

নিখিলের অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ অর্থ ২৪ লাখ টাকার কিছু বেশি, নিজের নামে ১ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত এবং বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের শেয়ার রয়েছে। নাবিল প্রোপার্টিজে ৮ লাখ ও নাবিল প্যাকেজিং অ্যান্ড প্রিন্টিংয়ে ৬২ লাখ টাকার শেয়ার রয়েছে। তিনটি যানবাহনের মূল্য দেখানো হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ টাকার বেশি। এছাড়া ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী ও আসবাব রয়েছে। অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে নিখিলের ঘোষিত সম্পদের মূল্য প্রায় ৬ কোটি ১৯ লাখ টাকা। রায়ে এই চারজন ছাড়াও যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশের সম্পদের হিসাব ২০২৪ সালের নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় তার নির্বাচনি হলফনামা নেই। ফলে তার সম্পদের হিসাব পাওয়া যায়নি। এর আগে ২০২৫ সালের ১৭ নভেম্বর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে মৃত্যুদণ্ড দেন ট্রাইব্যুনাল। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তেরও আদেশ দেওয়া হয়। বাজেয়াপ্ত সম্পদ জুলাই শহীদপরিবার ও আহত ব্যক্তিদের ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম