Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

মেট্রোরেলে এডিবির চেয়ে দ্বিগুণ খরচ জাপানের

Advertisement

আরমান হেকিম

আরমান হেকিম

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মেট্রোরেলে এডিবির চেয়ে দ্বিগুণ খরচ জাপানের

সংগৃহীত

Advertisement

মেট্রোরেল নির্মাণে জাপানের প্রস্তাব নিয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে তুমুল বিতর্ক হয়েছে। আলোচনায় গড়ায় জাপানের ঋণে এমআরটি-৫ (উত্তর) ও এমআরটি-১ বাস্তবায়ন করবে নাকি বাদ দেওয়া হবে-সেই পর্যন্তও। কারণ জাপানের অর্থায়নে হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত এমআরটি লাইন-৫ উত্তর রুটে কিলোমিটারপ্রতি গড় ব্যয় পড়ছে প্রায় ৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা। বিপরীতে এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়নে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত লাইন-৫ দক্ষিণ রুটে একই হিসাবে ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ উত্তর রুটের প্রতি কিলোমিটার নির্মাণে দক্ষিণ রুটের তুলনায় প্রায় ১ হাজার ৮৪৭ কোটি টাকা বেশি লাগছে।

সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা যুগান্তরকে জানিয়েছেন, প্রকল্পটি ইতোমধ্যে জাপানি অর্থায়নের কাঠামোয় এগিয়ে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অর্থায়নকারী বদলানোর সুযোগ তৈরি হয়নি। আবার এখন চুক্তিবদ্ধ না হলে সামনে জাপানের ঋণের সুদের হার বৃদ্ধি পেলে তখন খরচ আরও বাড়তে পারে-এমন শঙ্কায়ও শেষ পর্যন্ত অনুমোদন দেওয়া হয় প্রকল্প দুটির সংশোধিত প্রস্তাব।

সূত্র জানায়, জাপানের অর্থায়নে বাস্তবায়িত প্রকল্প দুটি একনেক এজেন্ডায় ছিল না। তবে কোনো এক অদৃশ্য কারণে সন্ধ্যার দিকে প্রকল্প দুটি একনেক টেবিলে উত্থাপনের সিদ্ধান্ত হয় এবং সে অনুযায়ী প্রস্তুতি নেওয়া হয়। এটি করতে গিয়ে অফিস সময়ের বাইরেও কর্মকর্তাদের কাজ করতে হয়েছে। আরেক কর্মকর্তা জানান, শুরু থেকেই জাপানের অর্থায়নের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ায় প্রকল্প থেকে সরে যাওয়ার সুযোগ সীমিত ছিল। তবে এডিবির অর্থায়নে লাইন-৫ দক্ষিণ তুলনামূলক কম ব্যয়ে নির্মাণের সুযোগ তৈরি হওয়ায় ভবিষ্যৎ প্রকল্পে ব্যয় কমানোর জন্য দরকষাকষির ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে। এমন যুক্তিতেই প্রকল্প দুটি অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

নর্দান রুটে কিলোমিটারে ব্যয় ৪ হাজার ৪৯২ কোটি : হেমায়েতপুর থেকে ভাটারা পর্যন্ত ২০ কিলোমিটার এমআরটি লাইন-৫ উত্তর রুটের মূল ব্যয় ছিল ৪১ হাজার ২৩৮ কোটি ৫৫ লাখ টাকা। সংশোধিত ব্যয় দাঁড়িয়েছে ৮৯ হাজার ৮৪৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা। অর্থাৎ বেড়েছে ৪৮ হাজার ৬০৯ কোটি ৮১ লাখ টাকা বা ১১৭ দশমিক ৮৭ শতাংশ। এর মধ্যে জাপানের ঋণ ৬৭ হাজার ৫১৮ কোটি ২৫ লাখ টাকা এবং সরকারের অর্থ ২২ হাজার ৩৩০ কোটি ১১ লাখ টাকা।

এ রুটের ১৩ দশমিক ৫ কিলোমিটার হবে পাতাল এবং ৬ দশমিক ৫ কিলোমিটার উড়ালপথ। মোট ১৪টি স্টেশনের মধ্যে ৯টি পাতাল ও ৫টি উড়াল। প্রকল্পটি ২০২৮ সালে শেষ করার লক্ষ্য থাকলেও সংশোধিত পরিকল্পনায় তা পিছিয়ে ২০৩২ সালের ডিসেম্বর করা হয়েছে। ফলে কিলোমিটারপ্রতি গড় ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৪ হাজার ৪৯২ কোটি টাকা।

সাউদার্নে কিলোমিটারে ব্যয় ২ হাজার ৬৪৬ কোটি : অন্যদিকে গাবতলী থেকে দাশেরকান্দি পর্যন্ত ১৭ দশমিক ২০ কিলোমিটার লাইন-৫ দক্ষিণ রুটের ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৫ হাজার ৫০৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থ ১৫ হাজার ১৯৭ কোটি ৬৬ লাখ এবং এডিবি ও দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থায়ন ৩০ হাজার ৩০৬ কোটি ১০ লাখ টাকা।

এ রুটের ১৩ দশমিক ১০ কিলোমিটার হবে পাতাল এবং ৪ দশমিক ১৫ কিলোমিটার উড়ালপথ। মোট ১৫টি স্টেশনের মধ্যে ১১টি পাতাল ও ৪টি উড়াল। প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে ২০৩৩ সালের আগস্ট পর্যন্ত। কিলোমিটারপ্রতি গড় ব্যয় প্রায় ২ হাজার ৬৪৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ নর্দান রুটে প্রতি কিলোমিটারে ব্যয় সাউদার্নের তুলনায় প্রায় ৭০ শতাংশ বেশি।

বুয়েটের সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান বলেন, মেট্রোরেলের দরপত্র প্রক্রিয়া ক্রমেই সীমিত টেন্ডারিংয়ের দিকে চলে যাচ্ছে। কারণ, প্রকল্পের ডিজাইন এমনভাবে করা হচ্ছে এবং নির্মাণের ক্ষেত্রে ঠিকাদারদের নির্দিষ্ট ধরনের কনস্ট্রাকশন পদ্ধতি অনুসরণ করতে বলা হচ্ছে, যা মূলত জাপানি পেটেন্ট বা বিশেষায়িত প্রযুক্তিনির্ভর। ফলে এ ধরনের পদ্ধতিতে কাজ করার সক্ষমতা জাপানি ঠিকাদারদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। তিনি বলেন, ঢাকায় বিভিন্ন অর্থায়ন চুক্তির অধীনে বাস্তবায়নাধীন মেট্রোরেল প্রকল্পগুলোর ব্যয় ও ঠিকাদার নির্বাচন প্রক্রিয়ার মধ্যে তুলনা করা জরুরি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম