Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

ইয়েমেনে সংঘর্ষ তীব্র, হরমুজে ট্যাংকারে হামলা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ইয়েমেনে সংঘর্ষ তীব্র, হরমুজে ট্যাংকারে হামলা

সৌদিতে ড্রোন হামলা প্রতিহত করতে গিয়ে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। সংগৃহীত ছবি

Advertisement

ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুথি বিদ্রোহীদের লড়াই তীব্র হয়েছে। শুক্রবার সৌদি আরবের সীমান্তঘেঁষা দেশটির মারিব প্রদেশের দিকে হুথিদের অভিযান পুরো ইয়েমেনের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টাকে ইঙ্গিত করছে। দেশটির সরকারি বাহিনী প্রতিরোধ গড়ে তুললে ব্যাপক সংঘর্ষ বাধে। অন্যদিকে অবরুদ্ধ হরমুজ প্রণালিতে দুটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। এতে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে নতুন করে সেখানে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা।

সূত্রের বরাত দিয়ে শুক্রবার দ্য নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, ইয়েমেনের দুটি কৌশলগত প্রদেশের কাছে লড়াই তীব্র হয়েছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, লোহিত সাগরের উপকূলীয় অঞ্চল দখলের পর ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা তাদের আক্রমণাত্মক অভিযান আরও বিস্তৃত করছে। মারিব প্রদেশসহ ইয়েমেনের সম্পদসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলীয় এলাকাগুলোতে হুথিদের ধারাবাহিক অগ্রযাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অর্থনৈতিক প্রাণকেন্দ্রের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। সেই সঙ্গে লাখ লাখ ইয়েমেনির মধ্যে নতুন করে মানবিক সংকটের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

২০১৪ সালে রাজধানী সানা দখলের পর থেকে হুথিরা উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের বড় একটি অংশ দখলে নিতে সক্ষম হলেও মারিব এখন পর্যন্ত তাদের নাগালের বাইরেই রয়ে গেছে। ওয়াশিংটনভিত্তিক ইয়েমেনবিষয়ক ঝুঁকি বিশ্লেষক মোহাম্মদ আল-বাশা বলেন, ‘এক দশকেরও বেশি সময় আগে সশস্ত্র সংগঠনটির অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে যারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল, তাদের জন্য এটি উত্তরের প্রধান ঘাঁটি ও দুর্গ। তারা যদি এটি দখল করতে পারে, তবে তা তাদের জন্য অত্যন্ত প্রতীকী ও কৌশলগত এক বিজয় হবে।’

বিশ্ববাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জলপথ বাব আল মান্দেব প্রণালির কাছাকাছি এলাকা দখলের পর সানার প্রায় ৭৫ মাইল পূর্বে অবস্থিত মারিব এবং দক্ষিণের শহর তাইজ হুথিদের সম্ভাব্য প্রধান লক্ষ্যবস্তু হয়ে উঠেছে। এ অগ্রযাত্রার ফলে লোহিত সাগরে চলাচল করা জাহাজগুলোর ওপর হুথিরা তাদের চাপ বাড়াতে সক্ষম হয়েছে।

গত এক মাস ধরে সরকার-সমর্থিত বাহিনীগুলো যুদ্ধবিমান ও ড্রোন ব্যবহার করে উভয় প্রদেশেই হুথিদের অবস্থানে আঘাত হেনেছে। তাদের দাবি, তারা হুথিদের অগ্রযাত্রা প্রতিহত করতে পেরেছে। এর জবাবে হুথিরা সরকারি নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকাগুলোতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে।

ইয়েমেনের বৃহত্তম কয়েকটি তেল ও গ্যাস ক্ষেত্র মারিবে অবস্থিত। এর নিয়ন্ত্রণ হারালে সরকারের আর্থিক অবস্থার পাশাপাশি তাদের বৈধতার দাবির ওপরও বড় ধরনের আঘাত আসবে। মারিবের পতন ঘটলে তা হুথিদের জন্য ইয়েমেনের বৃহত্তম প্রদেশ হাদরামুতের দিকে অগ্রসর হওয়ার পথ খুলে দেবে। সৌদি আরবের সঙ্গে এ প্রদেশটির দীর্ঘ সীমান্ত রয়েছে।

ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের ইয়েমেন বিষয়ক জ্যেষ্ঠ বিশ্লেষক আহমেদ নাগি বলেন, ‘মারিব যদি হুথিদের দখলে চলে যায়, তবে এর অর্থ হবে যে সৌদি-ইয়েমেন সীমান্তের নাগালের মধ্যে চলে আসবে হুথিরা। সৌদির কাছে এটি হবে অগ্রহণযোগ্য এবং তা তাদের জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।’

হরমুজে দুই ট্যাংকারে হামলা : হরমুজ প্রণালিতেও নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। আল জাজিরা জানায়, শুক্রবার হরমুজ প্রণালিতে দুটি ট্যাংকারে হামলা হয়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশন্স জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে তাদের একটি ট্যাংকার অজ্ঞাত বস্তুর হামলার শিকার হয়েছে। এর আগে ইরানের আইআরজিসি জানায়, অবৈধভাবে যাওয়ার চেষ্টা করায় তারা ট্যাগোর পতাকাবাহী একটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে একটি ট্যাংকার থেকে ধোঁয়া উড়তে দেখা গেছে। চলমান উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইরানিদের ধ্বংস করবেন কিনা সে বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তিনি মার্কিন গণমাধ্যমকে বলেন, যে কোনো কিছু ঘটতে পারে। এ পরিস্থিতিতে হরমুজ অচলাবস্থার মধ্যে ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ কূটনৈতিক সমাধানের কথা বলেছেন।

বাব আল মান্দেবে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে ইতালি : ইতালির প্রতিরক্ষামন্ত্রী গুইদো ক্রোসেত্তো জানিয়েছেন, বাব আল মান্দেব প্রণালি দিয়ে দেশটির বাণিজ্যিক জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত করতে ইতালি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করবে। তিনি বলেন, এ বিষয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ সিদ্ধান্তের জন্য রোম অপেক্ষা করবে না। ক্রোসেত্তো বলেন, ‘এ নৌপথটি সুরক্ষিত রাখার সক্ষমতা আমাদের রয়েছে।’ তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নৌপথটি চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়ে, তবে এর অর্থনৈতিক পরিণতি হবে ভয়াবহ।

ইরানে সেনা পাঠাবে না দক্ষিণ কোরিয়া : আল জাজিরা জানায়, শুক্রবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি জে-মিউং ট্রাম্প প্রশাসনের চাপ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন যুদ্ধে সহায়তার জন্য তার দেশ কোনো সেনা বা সামরিক সম্পদ মোতায়েন করবে না।

সম্প্রতি প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রকাশ্যে দক্ষিণ কোরীয় নেতাকে নিয়ে কটাক্ষ করেন। উত্তর কোরিয়ার হাত থেকে দক্ষিণ কোরিয়াকে রক্ষার জন্য কোরীয় উপদ্বীপে মার্কিন সেনা মোতায়েন থাকা সত্ত্বেও হরমুজ প্রণালি রক্ষায় সিউলের সহায়তা করতে অস্বীকৃতি জানানোর বিষয়টি নিয়ে তিনি হতাশা প্রকাশ করেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম