Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

বাসের পর এবার ট্রেনে আগুন

নাশকতার ‘কন্ট্রোল’ দেশের বাইরে

৮ যানবাহনে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ফুটেজ বিশ্লেষণে আ.লীগ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের সংশ্লিষ্টতা

Advertisement

সিরাজুল ইসলাম সিরাজুল ইসলাম

আরমান ভূঁইয়া আরমান ভূঁইয়া

প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

নাশকতার ‘কন্ট্রোল’ দেশের বাইরে

ট্রেনে আগুন: রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে রোববার রাতে দুর্বৃত্তের দেওয়া আগুনে জ্বলছে হাওড় এক্সপ্রেসের একটি বগি -যুগান্তর

Advertisement

দেশজুড়ে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের নেপথ্য গডফাদাররা দেশের বাইরে থেকে কার্যক্রম পরিচালনা করছে। দেশের ভেতরেও রয়েছে তাদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাওনকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। 

রোববার রাতে রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে ট্রেনে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এর আগে গত কয়েক দিনে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। 

বাহিনীর সূত্র বলছে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের কিছু উচ্ছৃঙ্খল কর্মী সড়কে ঝটিকা মিছিল বের করে ভীতিকর পরিস্থিতি তৈরি করতে চায়। তাদের মাধ্যমেই নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। এসব কর্মকাণ্ডের ইন্ধনদাতারা দেশের বাইরে থেকে উসকানি দিচ্ছে, অন্যদিকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য অর্থও ব্যয় করছে। তাদেরই একটি অংশ দেশের ভেতরে সক্রিয় রয়েছে। 

এদিকে একটি গোয়েন্দা সংস্থার সর্বশেষ রিপোর্র্টে দেশকে অস্থিতিশীল করার কাজে জড়িত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, যুবলীগ ও নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের শতাধিক নেতার নাম উঠে এসেছে বলে জানা গেছে। তাদের কয়েকজনকে নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার জন্য বিভিন্ন অঞ্চল ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। উত্তরা, যাত্রাবাড়ী, মিরপুর, গুলিস্তান, মোহাম্মদপুর, ধানমন্ডি, লালবাগ, তেজগাঁও, রমনা ও বাড্ডায় জোনভিত্তিক নাশকতামূলক কাজের জন্য টর্গেট করা হয়েছে। এসব জোনের সমন্বয়ের দায়িত্বে আছেন যুবলীগের মাইনুল হাসান খান নিখিল এবং মিরপুরের সাবেক সংসদ-সদস্য ইলিয়াস মোল্লা। 

সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের ভেতর সহিংসতা উসকে দিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্র হিসাবে চিত্রায়িত করার সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে চক্রটি। দেশের ভেতর ও বাইরে অবস্থানরত ষড়যন্ত্রকারীরা যৌথভাবে নাশকতা পরিচালনা ও অর্থায়নে জড়িত। গোয়েন্দারা এ সংক্রান্ত বেশকিছু অডিও রেকর্ড, ডিজিটাল প্রমাণ ও গোপন বৈঠকের সুনির্দিষ্ট তথ্য সংগ্রহ করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ রোববার সাংবাদিকদের বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নাশকতামূলক অপতৎপরতা চালাচ্ছে। ককটেল নিক্ষেপের ঘটনায় মোটরসাইকেলসহ কয়েকজনকে গ্রেফতার করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। হাইকোর্টের ফটক ও যাত্রাবাড়ীর ঘটনায় জড়িতদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে অন্যান্য ঘটনায় জড়িতদেরও শনাক্ত করার কাজ চলছে। মন্ত্রী বলেন, জনগণ ও সরকার এসব অপতৎপরতায় মোটেও শঙ্কিত নয়। দেশবাসী ইতোমধ্যে তাদের বর্জন ও প্রত্যাখ্যান করেছে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তা ও গোয়েন্দাদের মতে, নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল ও স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী নিজেদের সুবিধা অনুযায়ী নির্দিষ্ট ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করতে চাচ্ছে। তারা জনমনে এমন একটি বার্তা দেওয়ারও চেষ্টা করছে যে, রাজপথে সহিংসতা বা ঝটিকা মিছিল করে আগুন দেওয়ার কাজ তাদের নয়। সুসংগঠিত দল হিসাবে বিশাল জনসমর্থন রয়েছে তাদের এবং তারা আন্দোলনের মাধ্যমে রাজপথ দখল করতে পারে-এমনটিই জনমনে প্রতিষ্ঠিত করতে চাইছে। কিন্তু বাস্তবে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের চক্রান্তকারীরাই দেশব্যাপী চরম অস্থিতিশীলতা ও নাশকতা উসকে দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বাসে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল নিক্ষেপের জন্য মাঠপর্যায়ে অর্থ ও বিস্ফোরক সরবরাহকারীদের তালিকা এখন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। মাঠপর্যায়ে যারা আগুন দিচ্ছে বা ককটেল ফাটাচ্ছে, তাদের বেশির ভাগই কিশোর গ্যাংয়ের সদস্য, যারা অল্পকিছু টাকার বিনিময়ে এসব করছে। আসল চক্রান্তকারী ও পরিকল্পনাকারীরা রয়েছেন পর্দার আড়ালে। নেপথ্যের নির্দেশদাতা ও অর্থদাতাদের আইনের আওতায় আনতে কাজ করছে বিভিন্ন বাহিনী। ষড়যন্ত্রকারীদের আইনের আওতায় আনতে পুলিশ সদর দপ্তর থেকে মাঠ পর্যায়ে বিশেষ বার্তাও দেওয়া হয়েছে। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে বাসে আগুন বা ককটেল হামলার মতো নাশকতা রোধে পোশাকধারী পুলিশের পাশাপাশি সাদা পোশাকে পর্যাপ্ত গোয়েন্দা মোতায়েন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নীতিনির্ধারকরা জানিয়েছেন, জনগণের জানমাল রক্ষায় তারা সর্বোচ্চ কঠোর অবস্থানে থাকবেন। 

এদিকে রাজধানীতে গত তিন দিনে অন্তত আটটি যানবাহনে আগুন এবং দুই ডজনের বেশি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীদের গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। 

একের পর এক নাশকতার ঘটনা : রোববার সকাল সোয়া ৭টার দিকে পল্লবীর সিরামিক রোডে পার্ক করা পরিস্থান পরিবহণের একটি বাসে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। এদিন দুপুর ১টার দিকে হাইকোর্টের সামনে এবং সোয়া ১টার দিকে শিল্পকলা একাডেমির সামনে পৃথক দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটে। এর আগে শনিবার সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত পর্যন্ত রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় একের পর এক বাসে আগুন ও ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। মিরপুরে দুটি যাত্রীবাহী বাস, মধ্য বাড্ডায় একটি স্টাফ বাস, দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে জব্দ করে রাখা একটি পিকআপ এবং মাতুয়াইলে একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। যাত্রাবাড়ী, ধানমন্ডি, কমলাপুর রেলস্টেশন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, লালবাগ ও মহাখালী এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। শনিবার সন্ধ্যার পর মিরপুর-১ নম্বর বাসস্ট্যান্ডে গাজীপুর থেকে আসা অভিজাত পরিবহণের একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টা হয়। কিছুক্ষণ পর মিরপুর-১১ নম্বরের জমজম টাওয়ারের পাশে শিকড় পরিবহণের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। রাত পৌনে ৮টার দিকে মধ্য বাড্ডায় আলিফ এন্টারপ্রাইজের একটি স্টাফ বাসে আগুন লাগে। রাত সাড়ে ৯টার দিকে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার সামনে পুলিশের জব্দ করে রাখা একটি পিকআপে এবং রাত ১টার দিকে মাতুয়াইলে পার্ক করে রাখা ঠিকানা পরিবহণের একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এ বিষয়ে ডিএমপির মিরপুর বিভাগের ডিসি মো. মোস্তাক সরকার বলেন, এসব ঘটনার পরিকল্পনায় দেশের বাইরের লোকজন জড়িত। মাঠপর্যায়ে পরিকল্পনা বাস্তবায়নে কর্মীদের ব্যবহার করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি। একই রাতে যাত্রাবাড়ী মোড়ে পরপর কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণে এক রিকশাচালক আহত হন। ওই রাতে যাত্রবাড়ীর শহীদ ফারুক সড়কে ককটেল বিস্ফোরণে এক পথচারী আহত হন। কমলাপুর রেলস্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফরম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তিন নেতার মাজারের সামনে, লালবাগ বেড়িবাঁধ ও মহাখালী এলাকায়ও বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।

শুক্রবার রাতে যাত্রাবাড়ী এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনায় সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চারজনকে গ্রেফতার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরে বংশাল ও লালবাগ এলাকা থেকে মো. রায়হান উদ্দিন, রাসেল খান, আলাউদ্দিন ও আবদুল্লাহকে গ্রেফতার করা হয়। ডিবির ওয়ারী বিভাগের ডিসি মোল্লা মো. শাহীন বলেন, গ্রেফতার ব্যক্তিদের মধ্যে রায়হান বংশাল থানা আওয়ামী লীগের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের ৬ নম্বর ইউনিটের দপ্তর সম্পাদক। অন্য তিনজন কর্মী। তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা তদন্তে আওয়ামী লীগ ও তাদের সমর্থিত লোকজনের সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে। 

এর আগে শুক্রবার রাজধানীর বেশ কয়েকটি স্থানে ককটেল বিস্ফোরণ ও বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে। 

ককটেল হামলায় জড়িত চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগ নেতা গ্রেফতার : শনিবার রাত সোয়া ২টার দিকে আজিমপুর মেটানির ওভারব্রিজের নিচে পার্ক করে রাখা ভিআইপি পরিবহণের একটি বাসে আগুন দেওয়ার চেষ্টার সময় আমিনুল ইসলাম শাওন (৪০) নামে একজনকে হাতেনাতে আটক করে পুলিশ। লালবাগ থানার ওসি মো. জামিল হোসেন জানান, শাওন চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রাম যুবলীগের রাজনীতি করেন। আজিমপুরে স্থানীয় এক আওয়ামী লীগ নেতার নেতৃত্বে বাসে অগ্নিসংযোগের চেষ্টা করা হয়েছিল বলে তিনি জানান। 

নিরাপত্তা জোরদার : টানা অগ্নিসংযোগ ও বিস্ফোরণের ঘটনায় রাজধানীর নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। গুরুত্বপূর্ণ সড়ক, ফ্লাইওভার, প্রবেশ ও বহির্গমনপথসহ বিভিন্ন পয়েন্টে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও যানবাহনে তল্লাশির পাশাপাশি মোটরসাইকেল চলাচলেও নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। 

ডিএমপির মিডিয়া বিভাগের অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার নিয়াজ মেহেদী বলেন, রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট, ফ্লাইওভার ও প্রবেশপথে দুই শতাধিক চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। নিয়মিত চেকপোস্ট ও টহল কার্যক্রমও চলছে।

ডিএমপির পাশাপাশি স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও স্থাপনায় চেকপোস্ট এবং টহল জোরদার করেছে। এসআরবির লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক উইং কমান্ডার এমজেডএম ইন্তেখাব চৌধুরী জানান, রাজধানীজুড়ে ৪০টির বেশি চেকপোস্ট এবং ২১টি টহল দল কাজ করছে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা ও আভিযানিক দলও মাঠে কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফরমেও নজরদারি চালানো হচ্ছে।

রাজধানীতে এবার ট্রেনে আগুন : রাজধানীর কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে মোহনগঞ্জগামী আন্তঃনগর ট্রেন হাওড় এক্সপ্রেসের একটি বগিতে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে স্টেশনের ২ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে আগুনের ঘটনা ঘটে। এতে একটি বগি পুড়ে গেছে। তবে ঘটনার সময় বগিটিতে কোনো যাত্রী ছিল না।

বিষয়টি যুগান্তরকে নিশ্চিত করেন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স অধিদপ্তরের মিডিয়া কর্মকর্তা তালহা বিন জসিম। তিনি বলেন, খবর পেয়ে খিলগাঁও ফায়ার স্টেশনের দুটি এবং সিদ্দিক বাজার ফায়ার স্টেশনের তিনটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। 

রাত ১১টায় কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, হাওড় এক্সপ্রেস ট্রেনটি রাত ১০টা ১৫ মিনিটে কমলাপুর থেকে যাত্রী নিয়ে ছেড়ে যাওয়ার কথা ছিল। এ জন্য স্টেশনসংলগ্ন ওয়াশপিট থেকে খালি ট্রেনটি ২ নম্বর প্লাটফর্মে নিয়ে আসা হচ্ছিল। প্লাটফর্মে ট্রেনটি প্রবেশের মুহূর্তেই ট্রেনটির ‘চ’ বগিতে আগুন লাগার দৃশ্য দেখা যায়। মো. আনোয়ার হোসেন আরও বলেন, এ ঘটনায় ‘চ’ বগি বাতিল করা হয়েছে। তবে ট্রেনটির যাত্রা বাতিল করা হয়নি। ওই বগির সাধারণ যাত্রীদের টিকিটের মূল্য ফেরত দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। পরে তিনি বলেন, জনসমর্থন না থাকায় আওয়ামী লীগের দোসররা নাশকতার মাধ্যমে জনমনে ভীতি তৈরি করতে চায়। ফলে তারা আন্দোলনের পরিবর্তে নাশকতার পথ বেছে নিয়েছে। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। রেলওয়ে, রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনী, পুলিশ, রেল পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন : অন্যদিকে ট্রেনে আগুনের ঘটনায় ৫ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। রেলের বিভাগীয় পরিবহণ কর্মকর্তা ফুয়াদ হোসেন আনন্দকে এ কমিটির প্রধান করা হয়। তিন কার্য দিবসের মধ্যেই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম