রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিটিএমএ নেতাদের সাক্ষাৎ
বস্ত্র খাতের সমস্যা সমাধানের আশ্বাস
বন্ড সুবিধায় কটন সুতা আমদানি প্রত্যাহারের আদেশ বহাল রাখাসহ ৫ দফা দাবি পেশ
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
বঙ্গভবনে সোমবার রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির সহসভাপতি ও যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলামসহ প্রতিনিধিদলের সদস্যরা সাক্ষাৎ করেন। এ সময় বিটিএমএর পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির হাতে একটি তৈলচিত্র তুলে দেন তারা -সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বন্ড সুবিধায় কটন সুতা আমদানি প্রত্যাহারের আদেশ বহাল ও শিল্পে নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহসহ ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন টেক্সটাইল শিল্পমালিকরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে অর্থনীতিতে টেক্সটাইল শিল্পের অবদানের কথা স্বীকার করে এ খাতের বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোমবার বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশনের (বিটিএমএ) সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে সংগঠনটির ২৩ সদস্যের প্রতিনিধিদল সাক্ষাৎকালে তিনি এ আশ্বাস দেন।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলে ছিলেন বিটিএমএ’র সহসভাপতি ও যমুনা গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামীম ইসলাম, শফিকুল ইসলাম সরকার, সংগঠনের সাবেক সভাপতি আব্দুল হাই সরকার প্রমুখ। এ সময় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন, জনপ্রশাসন বিভাগের সচিব এজেএম সালাহউদ্দিন নাগরী ও প্রেস সচিব সরওয়ার আলম।
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, রাজনৈতিক অস্থিরতাসহ বিভিন্ন কারণে স্বাধীনতার ৫৫ বছর পরও আমরা আমাদের অর্থনীতিকে কাঙ্ক্ষিত লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারিনি। বর্তমানে গণতান্ত্রিক সরকার দায়িত্ব গ্রহণের ফলে অর্থনীতির খাতগুলোতে পুনর্নির্মাণের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। এ সুযোগকে কাজে লাগাতে দেশের ব্যবসায়ী নেতাদের কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, বর্তমান সময়ে জ্বালানি সংকট সব থেকে বড় সমস্যা হয়ে দেখা দিয়েছে। বিগত সময়ে দেশের নিজস্ব গ্যাস ও জ্বালানি অনুসন্ধান ও আহরণ এবং দীর্ঘস্থায়ী জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কোনো উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়নি। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধে বাংলাদেশের মতো উন্নয়নশীল অর্থনীতির দেশগুলো বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, জ্বালানি সমস্যা সমাধানে সরকারের আন্তরিক প্রচেষ্টা অব্যাহত আছে। রাষ্ট্রপতি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে বস্ত্র খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দেশের বস্ত্র খাতকে এগিয়ে নিতে প্রতিযোগী দেশগুলোর মতো বাংলাদেশের শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোর জন্যও বাস্তবভিত্তিক সমন্বিত নীতি সহায়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সাক্ষাৎকালে বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল দেশের প্রাইমারি টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পের বর্তমান পরিস্থিতি, সম্ভাবনা ও বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ তুলে ধরেন। এ সময় বিটিএমএ সভাপতি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে শিল্প খাতে বিশেষত টেক্সটাইল ও স্পিনিং শিল্পে গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি হয়েছে, যা শিল্পের উৎপাদন কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলছে। শিল্পের উৎপাদন, কর্মসংস্থান ও রপ্তানি সক্ষমতা সুরক্ষায় গ্যাস সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকারের গৃহীত উদ্যোগের জন্য তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং এ ধারাবাহিকতা অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। শিল্পের বিদ্যমান চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিটিএমএ নেতারা রাষ্ট্রপতির কাছে ৫ দফা দাবি জানিয়েছেন। এগুলো হচ্ছে-বন্ড সুবিধায় ১০-৩০ কাউন্টের কটন সুতা আমদানি প্রত্যাহারে এনবিআরের জারিকৃত আদেশ বহাল রাখা। এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকলে স্থানীয়ভাবে উৎপাদনযোগ্য কটন সুতা আমদানির পরিমাণ হ্রাস পাবে এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরে আমদানিকৃত প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা মূল্যের সুতার সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করা সম্ভব হবে। দ্বিতীয়ত, নন-বন্ডেড শিল্পের ব্যাংক গ্যারান্টিভিত্তিক কাঁচামাল আমদানিতে ৩০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজনের শর্ত পুনর্বহাল এবং এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী রপ্তানি সক্ষমতা নিশ্চিত করতে সব রপ্তানির ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৪০ শতাংশ স্থানীয় মূল্য সংযোজন নিশ্চিত করা। তৃতীয়ত, প্রতিযোগী দেশগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে টেক্সটাইল অ্যান্ড অ্যাপারেল কম্পিটিটিভনেস পলিসি প্রণয়ন করা; যাতে শুল্ক, কর, জ্বালানি, অর্থায়ন ও রপ্তানি সহায়তাসহ সংশ্লিষ্ট নীতিগুলো সমন্বিতভাবে বিবেচিত হবে। চতুর্থত, গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রেখে প্রয়োজনীয় চাপ ও নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা। পঞ্চমত, বন্ড সুবিধার অপব্যবহার রোধে কার্যকর নজরদারি, যাচাই ও আইনানুগ ব্যবস্থা আরও জোরদার করা।
