ড. মঞ্জুর চৌধুরীর প্রতিক্রিয়া
পদ্মা সেতুর কিছু হলে রাষ্ট্রের বড় ক্ষতি হবে
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
পদ্মা সেতু। ছবি: সংগৃহীত
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
পদ্মা সেতুর মতো গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর স্থাপনার কাছাকাছি এলাকা থেকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার আয়োজন কার স্বার্থে করা হচ্ছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী। তিনি বলেছেন, বালু ব্যবসায়ীরা সাধারণত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে বালু তোলে না। দেশীয় পদ্ধতিতে ড্রেজার দিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু তোলার ফলে আশপাশ এলাকায় ব্যাপক ভাঙন হয়। এর প্রভাবে পদ্মা সেতুর কিছু হলে রাষ্ট্রের বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। পদ্মা সেতু এলাকায় আইকনিক সোর্সিং নামক প্রতিষ্ঠানকে বালু তোলার অনুমতি দেওয়ার চলমান প্রক্রিয়ার পরিপ্রেক্ষিতে যুগান্তরকে তিনি এ প্রতিক্রিয়া দেন।
ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, নদীর নাব্য সংকটের কারণে বালু তোলার প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ অভ্যন্তরীন নৌ-পরিবহণ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ), পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষ বা পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। এটাই আইন ও নিয়ম। ওই নিয়ম না মেনে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে কেন বালু তোলার সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে সেই প্রশ্ন রেখে তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতু একটি কেপিআই (অতি সংবেদনশীল স্থাপনা)। ওই সেতুর কাছে বালু তোলার অনুমতির প্রক্রিয়ায় অশুভ বিষয় দেখছি।’
অনুমতি দেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তোলেন নদী রক্ষা কমিশনের সাবেক এ চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, ‘বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন ও বিধিমালা অনুযায়ী নদী থেকে বালু তুলতে হলে বালুমহাল ঘোষণা এবং ইজারার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান নির্ধারণ করতে হবে। এ বিধান অনুসরণ করা না হলে তা নিয়ে প্রশ্ন উঠবে। বিআইডব্লিউটিএ কোনো প্রতিষ্ঠানকে মনোনীত করার এখতিয়ার রাখে না। যেসব সরকারি কর্মকর্তা আইনের অনুসরণ করবে না, তাদেরকে শাস্তির আওতায় আনা উচিত।’
নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে ড. মঞ্জুর আহমেদ চৌধুরী বলেন, ‘চাঁদপুরের আলোচিত আওয়ামী লীগ সেলিম খান (বালু সেলিম) মেঘনা নদী থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু তুলেছিল। এরফলে চাঁদপুরে ভাঙন সৃষ্টি হয়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে এ ধরনের কার্যক্রম দেখা যাচ্ছে। যেসব স্থানে বালু তোলা হচ্ছে, সেখানে ভাঙন হচ্ছে। মানুষ রাস্তায় আন্দোলনে নামছে। এতে সরকারের সুনাম ক্ষুণ্ন্ন হচ্ছে।’
