Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

তারেক-পেজেশকিয়ান বৈঠক

হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

Advertisement

Icon

নেসারুল হক খোকন, নিউইয়র্ক থেকে

প্রকাশ: ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

হরমুজে বাংলাদেশি জাহাজের নিরাপত্তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

নিউইয়র্কের ম্যানহাটনে ‘হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্ক’ হোটেলে স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক -সংগৃহীত

Advertisement

মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের কারণে উত্তপ্ত হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাংলাদেশি কনটেইনার জাহাজগুলোর নিরাপদ চলাচলের ব্যবস্থা করতে ইরানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যে কর্মরত বাংলাদেশিদের নিরাপত্তা, রেমিট্যান্স, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণ এবং সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট নিয়ে উদ্বেগের কথাও এ সময় জানিয়েছেন তিনি। বুধবার সন্ধ্যায় নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের সঙ্গে বৈঠকে এই সহযোগিতা চাওয়া এবং উদ্বেগের কথা জানান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির, জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি আইরিন খান, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। 

বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। বলা হয়েছে, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এ অঞ্চলে থাকা বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর নিরাপত্তা ঝুঁকির মুখে পড়বে। তাছাড়া প্রবাসী শ্রমিকদের পাঠানো রেমিট্যান্সের ওপরও বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বাংলাদেশের অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের বিপুলসংখ্যক প্রবাসীদের অবদানের কথাও তুলে ধরা হয়েছে বৈঠকে। হরমুজ প্রণালি বাংলাদেশের বাণিজ্য ও জ্বালানি নিরাপত্তার জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। সংঘাতের কারণে কয়েকটি বাংলাদেশি কনটেইনার জাহাজ সেখানে আটকে রয়েছে। এসব জাহাজ যাতে নিরাপদে ও নির্বিঘ্নে প্রণালি পেরিয়ে দেশে ফিরতে পারে, সে বিষয়ে ইরানের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। 

ইরানের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তার বিষয়টিও বিশেষ গুরুত্ব পায়। হরমুজ প্রণালি ঘিরে বর্তমান উত্তেজনাকর পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে তেল ও গ্যাস সরবরাহে সংকট তৈরি হবে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। মধ্যপ্রাচ্য সংকট দ্রুত কূটনৈতিক সমাধানের দিকে গেলে বাংলাদেশের জ্বালানি ও বাণিজ্যিক স্বার্থ সুরক্ষিত রাখা সহজ হবে বলে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

পরে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানে উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ অঞ্চলে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি কর্মী কাজ করেন এবং তাদের পাঠানো রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। ফলে সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এর প্রভাব বাংলাদেশেও পড়তে পারে। আলোচনার বিষয়বস্তু তুলে ধরে পররাষ্ট্র প্রতমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ মনে করে, জাতিসংঘ একটি নিরপেক্ষ জায়গা। এ নিরপেক্ষ জায়গায় ইরানের রাষ্ট্রপতি উপস্থিত। আমাদের একটা উল্লেখযোগ্য সংখ্যক, প্রায় ৮ মিলিয়ন প্রবাসী শ্রমিক মধ্যপ্রাচ্যে কাজ করছেন। এখানো যদি পরিস্থিতিটা শান্তিপূর্ণ একটা রেজলুশনের দিকে না যায়; এই সংঘাতের প্রভাব তাহলে আমাদের দেশেও পড়বে, রেমিট্যান্সের ওপর পড়বে, এটি আমাদের জন্য গভীর উদ্বেগের বিষয়। হুমায়ুন কবির বলেন, এছাড়া আমাদের কনটেইনারগুলোসহ অনেক জাহাজ আটকে আছে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ সংঘাতের কারণে। সেজন্য আমরা আহ্বান জানিয়েছি ইরানের প্রেসিডেন্টকে যে, আমরা দ্রুত এটা সমাধান চাই এবং কূটনীতির মাধ্যমে যাতে এই যুদ্ধের একটা সমাধান হয়। এই সমাধান হওয়ার পরে যাতে আমাদের যে জাহাজগুলা আটকে আছে, সেগুলো যাতে নিরাপদে দেশে আসতে পারে এ ব্যাপারে যেন তারা ব্যবস্থা নেন। এ সহযোগিতা আমরা চেয়েছি। পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, জ্বালানি সংকটে যাতে আমরা না পড়ি, এ ব্যাপারে আমাদের উদ্বেগের কথা বলেছি। 

ব্রিফিংয়ে বলা হয়েছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশের অবস্থান হচ্ছে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সংলাপ ও কূটনীতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া। হরমুজ প্রণালি বাংলাদেশের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় বৈঠকে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহণের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে পণ্য পরিবহণের সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি অর্থনীতির জন্যও ক্ষতিকর। এসব সম্ভাব্য প্রভাব বিবেচনায় নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পরিস্থিতির দ্রুত শান্তিপূর্ণ সমাধানের ওপর জোর দেওয়া হয়। বৈঠকে ইরানের প্রেসিডেন্ট বাংলাদেশের উদ্বেগগুলো মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং নোট করেন।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম