কিশোর গ্যাং দমনে রাজনৈতিক পরিচয় প্রাধান্য পাবে না: চিফ হুইপ
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৭ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
কিশোর গ্যাং দমনে রাজনৈতিক পরিচয় প্রাধান্য পাবে না বলে জানিয়েছেন সরকারদলীয় চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি। তিনি যুগান্তরকে বলেন, যে কোনো মূল্যে কিশোর গ্যাং দমন করতে হবে। পাড়া-মহল্লার কিশোর গ্যাং লিডার ও সক্রিয় সদস্যদের নাম তালিকাভুক্ত করা হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। এসআরবি, পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদেরও এ বিষয়ে নজরদারি করতে বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে কারও রাজনৈতিক পরিচয় প্রাধান্য পাবে না।
৯০ দিনের সময়সীমা বেঁধে দিয়ে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি আরও বলেন, সম্প্রতি আমরা সংসদীয় কমিটিতে কিশোর গ্যাং দমনের বিষয়ে আলোচনা করেছি। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয়েছে-যে কোনো মূল্যে কিশোর গ্যাং দমন করতে হবে। ঘোষিত সময়ের মধ্যেই আমরা একটা সহনীয় অবস্থার মধ্যে যেতে পারব।
সরকারদলীয় রাজনৈতিক নেতাদের শেল্টারে কিশোর গ্যাং লালন-পালনের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সরকারপ্রধানও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। রাজনৈতিক পরিচয়ে কারও বিরুদ্ধে যদি কিশোর গ্যাং লালন-পালনের অভিযোগ পাওয়া যায়, তাকেও কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না। তবে আমাদের মনে রাখতে হবে, গণতান্ত্রিক দেশে বিদ্যমান রাজনৈতিক সংস্কৃতি রাতারাতি বদল করা সম্ভব নয়। তবে রাজনৈতিক বিশ্লেষক এবং সমাজ বিজ্ঞানীরা বলছেন, সমস্যার শিকড় অনেক গভীরে। ফলে এভাবে সময়সীমা বেঁধে দিয়ে কিশোর গ্যাং দমনের ঘোষণা এক ধরনের জনতুষ্টিমূলক রাজনৈতিক বক্তব্য ছাড়া আর কিছু নয়।
পাথরঘাটায় ওসিকে দুই মাসের আলটিমেটাম : যুগান্তরের বরগুনা ও দক্ষিণ প্রতিনিধি জানান, কিশোর গ্যাং নির্মূলে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ২ মাসের সময়সীমা বেঁধে দিয়েছেন জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ ও বরগুনা-২ আসনের এমপি মো. নূরুল ইসলাম মনি। তিনি বলেছেন, আগামী ২ মাসের মধ্যে কিশোর গ্যাং যদি নির্মূল করতে না পারেন আপনি থাকবেন না। আগামী ২ মাস টাইম; ২ মাস। কিশোর গ্যাং উলটিয়ে গাছে ঝুলাবেন। শুক্রবার সকালে পাথরঘাটা উপজেলা পরিষদের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত উন্নয়ন ও আইনশৃঙ্খলাবিষয়ক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ হুঁশিয়ারি দেন। সভায় পাথরঘাটা থানার ওসি মো. আব্দুল আলীম উপস্থিত ছিলেন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘চাঁদাবাজির কোনো জায়গা পাথরঘাটায় নাই। ওসি সাহেব-আপনাকে আমি এখানে বললাম, চাঁদাবাজির প্রশ্নে যদি কোনো সমস্যা থাকে, হয় আপনি থাকবেন না হয় চাঁদাবাজ থাকবে। সন্ত্রাসী আর দখলবাজ পাথরঘাটায় থাকতে পারবে না। এছাড়া ওসিকে নির্দেশ দিয়ে তিনি বলেন, আমার নাম নিয়ে আউয়াল নামের এক ব্যক্তি কোথায় কি করার কথা বলে চাঁদা খেয়েছে। আউয়ালসহ আরও একজন এখন পলাতক। আউয়ালকে আপনি ধরবেন এবং সেই মামলায় গ্রেফতার দেখাবেন। চাঁদাবাজ সন্ত্রাসীদের কোনো জায়গা নাই, সন্ত্রাসীদের কোনো দল নাই।
