চট্টগ্রামে নেতাকর্মীদের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কঠোর বার্তা
কোনো ধরনের অপরাধে জড়ানো যাবে না
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
চট্টগ্রাম বিএনপির সাংগঠনিক সভায় দলীয় নেতাকর্মীদের কঠোর বার্তা দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, কোনো ধরনের অপরাধে জড়ানো যাবে না। অপরাধীকে প্রশ্রয়ও দেওয়া যাবে না। দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির লক্ষ্যে প্রশাসনকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে হবে। মাদক-জুয়া থেকে দেশকে, যুব সমাজকে বাঁচাতে হবে। আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দল থেকে যোগ্য প্রার্থী বাছাই করে তাদের সমর্থন ও সহযোগিতা দিতে হবে। ত্যাগী নেতাদের প্রতি সদয় আচরণ করতে হবে। সর্বোপরি সব ধরনের বিভেদ ভুলে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে হবে। মঙ্গলবার নগরীর একটি হোটেলে অনুষ্ঠিত বিএনপির চট্টগ্রাম মহানগর, উত্তর, দক্ষিণ ও অঙ্গসংগঠনের নেতাদের নিয়ে অনুষ্ঠিত সাংগঠনিক সভায় এই বার্তা দেন দলের চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, সরকারের বিরুদ্ধে বহুমুখী ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। এই ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধেও সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। সাংগঠনিক সভায় উপস্থিত একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে দলীয় প্রধানের এই বার্তা প্রদানের তথ্য পাওয়া গেছে।
মঙ্গলবারের সাংগঠনিক সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে দলের চেয়ারম্যান আরও বলেন, অতীতে প্রশাসনের সহযোগিতায় ভোট কেড়ে নেওয়া হয়েছে। অবস্থা এমন ছিল যে, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ছিলেন যেন দলের সভাপতি আর ওসি ছিলেন সাধারণ সম্পাদক। বিএনপি এমন দলীয়করণে বিশ্বাস করে না। দেশের জনগণ বিএনপির ওপর আস্থা রেখেছে বলেই ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় পাঠিয়েছে। দলের নেতাকর্মীদের কাজের মাধ্যমে সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটাতে হবে। দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। সমাজের বিত্তবান গুণী মানুষদের সঙ্গে নিয়ে সাধারণ মানুষের কাছে যেতে হবে নেতাকর্মীদের। সংসদ চলাকালীন ছাড়া অন্য সময় এমপিদের এলাকায় থাকার নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী। কোনো নেতাকর্মী অপরাধে জড়ালে বা অপরাধীদের প্রশ্রয় দিলে তাদের কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। এ ব্যাপারে দলের পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স নীতি অবলম্বন করা হবে বলেও ঘোষণা করেন।
সাংগঠনিক সভায় উপস্থিত চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বার্তা স্পষ্ট। দেশের মানুষের শান্তি, নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য দলের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে বলেছেন। সন্ত্রাস-চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অপরাধ থেকে মুক্ত থাকতে বলেছেন। দেশে অস্থিতিশীলতাকারী, অস্ত্রবাজ-সন্ত্রাসীদের প্রশাসনের হাতে তুলে দিতে বলেছেন। কারণ প্রশাসনের একার পক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করা সম্ভব নয়।

