Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

সংসদীয় আসনের খসড়া তালিকা প্রকাশ

১৪ জেলার ৪০টির সীমানায় রদবদল

গাজীপুরে একটি আসন বেড়েছে, কমেছে বাগেরহাটের * রক্ষা করা হয়নি কয়েক উপজেলার অখণ্ডতা

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ৩১ জুলাই ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

১৪ জেলার ৪০টির সীমানায় রদবদল

Advertisement

জাতীয় সংসদের ৪০টি আসনের সীমানায় রদবদল এনে খসড়া তালিকা প্রকাশ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, কুমিল্লা, সিলেট, সিরাজগঞ্জসহ ১৪টি জেলায় এসব আসন অবস্থিত। খসড়া তালিকায় গাজীপুরে একটি আসন বেড়ে ছয়টি হয়েছে। আর বাগেরহাটের চারটি আসন থেকে একটি কমিয়ে তিনটি করা হয়েছে। কঠোর গোপনীয়তায় তৈরি করা এ খসড়ায় বেশকিছু আসনের উপজেলার প্রশাসনিক এলাকার অখণ্ডতা রক্ষা করেনি ইসি। বাকি ৫০টি জেলার ২৬০টি আসনের আগের সীমানা বহাল রাখা হয়েছে। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বুধবার এ খসড়া তালিকার গেজেট প্রকাশ করল ইসি। এ তালিকার ওপর ১০ আগস্ট পর্যন্ত অভিযোগ, দাবি ও আপত্তি জানানো যাবে। ওইসব দাবি-আপত্তি শুনানি করে চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করবে কমিশন।

যেসব আসনের সীমানায় রদবদল হয়েছে, সেগুলো হচ্ছে-পঞ্চগড়-১ ও ২; রংপুর-৩; সিরাজগঞ্জ-১ ও ২; বাগেরহাট-২ ও ৩; সাতক্ষীরা-৩ ও ৪; শরীয়তপুর-২ ও ৩; ঢাকা-২, ৩, ৭, ১০, ১৪ ও ১৯; গাজীপুর- ১, ২, ৩, ৫ ও ৬; নারায়ণগঞ্জ-৩, ৪ ও ৫; সিলেট-১ ও ৩; ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ ও ৩; কুমিল্লা-১, ২, ৯, ১০, ১১; নোয়াখালী-১, ২, ৪ ও ৫; এবং চট্টগ্রাম-৭ ও ৮। ইসি জানিয়েছে, জনসংখ্যা, ভোটার সংখ্যা, উপজেলা বা থানা ইউনিটকে যতদূর সম্ভব অখণ্ড রাখা, প্রশাসনিক অখণ্ডতাসহ ১২টি মানদণ্ডের ভিত্তিতে এসব আসনের সীমানায় রদবদল করা হয়েছে। যদিও নির্বাচন কমিশন দাবি করেছে, এসব আসনে ‘ছোটখাটো’ পরিবর্তন আনা হয়েছে।

নির্বাচন কমিশনার ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ কমিটির প্রধান মো. আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বুধবার নিজ কার্যালয়ে খসড়া সীমানা তালিকা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, আমরা ৬৪ জেলার গড় ভোটার নির্ধারণ করেছি ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০। এটা ধরে সীমানা পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। জনসংখ্যা ও ভোটার সংখ্যা বিবেচনায় গাজীপুরে একটি আসন বেড়েছে এবং বাগেরহাটের একটি আসন কমেছে। আর কোনো জেলায় আসন কম-বেশি হয়নি। ৩৯টি আসনে অ্যাডজাস্টমেন্ট রয়েছে।

সীমানা পুনর্নির্ধারণের প্রক্রিয়ার বিষয়ে এ নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংবিধান অনুযায়ী সংসদীয় আসনের সীমানা নির্ধারণের এখতিয়ার ইসির। ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের সীমানা নির্ধারণে ইতোমধ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ১৬ জুলাই সীমানা নির্ধারণে ভূগোলবিদ, নগরবিদ, পরিসংখ্যানবিদসহ বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ৯ সদস্যের বিশেষায়িত কারিগরি কমিটি করা হয়। বিদ্যমান আইন অনুযায়ী এ টিম ৬৪ জেলার ৩০০ আসনের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করে ৪২টি আসনের সীমানায় পরিবর্তনের প্রস্তাব করে। ইসি ৩৯টি আসনের সীমানা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তিনি আরও বলেন, আদমশুমারি ২০২২ ধরে কাজ করতে গিয়ে কারিগরি কমিটি দেখল অসামঞ্জস্য রয়েছে আদমশুমারিতে। বর্তমানে ইসির হালনাগাদ ভোটার সংখ্যা রয়েছে। সেই ভোটার সংখ্যার ভিত্তিতে ৪ লাখ ২০ হাজার ৫০০ কমবেশি গড় ভিত্তিতে গ্রেডিং করেছে কারিগরি কমিটি।

এ নির্বাচন কমিশনার জানান, সর্বনিম্ন ভোটার সংখ্যা যে জেলায়, সেখানে ফিক্স আপ করেছে। এক, দুই, তিন আসনবিশিষ্ট জেলাগুলোকে আসন বাড়ানো বা কমানোয় বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। এছাড়া আড়াইশ আসনের বিষয়ে কারও কোনো আপত্তি আবেদন না আসায় বিদ্যমান সীমানাই বহাল রাখা হয়েছে।

নথিপত্র বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নির্বাচন কমিশন ৩৯টি আসনের সীমানা পরিবর্তনের কথা জানালেও বাস্তবে ৪০টি আসনের সীমানায় রদবদল করা হয়েছে। যেসব আসনের সীমানায় রদবদলের কথা বলা হয়েছে, সেখানে কুমিল্লা-৯ আসনের কথা উল্লেখ নেই।

এর আগে দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে ১২টি আসনের সীমানা পরিবর্তন করেছিল তৎকালীন কমিশন।

রক্ষা হয়নি প্রশাসনিক অখণ্ডতা: খসড়া তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, অনেক আসনে উপজেলার অখণ্ডতা রক্ষা করা হয়নি। কোথাও কোথাও উপজেলাকে ভেঙে একাধিক আসনে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড়-১ ও ২ আসন। সদর, তেঁতুলিয়া ও আটোয়ারি উপজেলা নিয়ে গঠিত পঞ্চগড়-১ আসনের বোদা পৌরসভার ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ড পঞ্চগড়-২ আসনের ভাগ দেওয়া হয়েছে। রংপুর সেনানিবাস এলাকাকে রংপুর-৩ আসনের আওতাভুক্ত করা হয়েছে।

একই চিত্র দেখা গেছে, সিরাজগঞ্জ-১ ও ২ আসনে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার মেছড়া, রতনকান্দি, বাঘবাটি ও ছোনগাছা ইউনিয়ন এবং কাজীপুর উপজেলা নিয়ে সিরাজগঞ্জ-১ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী ইউনিয়ন পরিষদ কেটে সিরাজগঞ্জ-২ আসনে নেওয়া হয়েছে। বাগেরহাট সদর, কচুয়া ও রামপাল উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-১ ও মোংলা, মোড়েলগঞ্জ ও শরণখোলা উপজেলা নিয়ে বাগেরহাট-২ সংসদীয় আসনের নতুন সীমানা করা হয়েছে। বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনকে বাগেরহাট-২ আসনের সঙ্গে মিলিয়ে দেওয়া হয়েছে।

কালীগঞ্জ ও দেবহাটা উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-৩ এবং আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলা নিয়ে সাতক্ষীরা-৪ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। আগে দেবহাটা ও কালীগঞ্জ উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন অন্য আসনে ছিল। অর্থাৎ এ দুটি আসনের উপজেলার অখণ্ডতা রক্ষা করা হয়েছে।

সাভার ও কেরানীগঞ্জ উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-২ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ আসন থেকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ওয়ার্ডগুলোকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কেরানীগঞ্জ উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে ঢাকা-৩ আসন করা হয়েছে। এখানে কেরানীগঞ্জের দুটি ইউনিয়ন যুক্ত হয়েছে। ঢাকা-৭ আসনে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৫৬ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ড এবং ঢাকা-১০ আসনে সিটি করপোরেশনের ৫৫ নম্বর ওয়ার্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ঢাকা-১৪ সংসদীয় আসন থেকে সাভার উপজেলার কাউন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদ বাদ দেওয়া হয়েছে। ঢাকা-১৯ আসনে সাভার ইউনিয়ন ও সাভার পৌরসভাকে যুক্ত করা হয়েছে।

কালিয়াকৈর উপজেলা ও গাজীপুর সিটি করপোরেশনের ১-১২ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর-১, সিটি করপোরেশনের ১৩-৩৩ নম্বর ওয়ার্ড ও সদর উপজেলার বাড়িয়া ইউনিয়ন নিয়ে গাজীপুর-২, শিবপুর উপজেলা নিয়ে গাজীপুর-৩, কালিগঞ্জ উপজেলা নিয়ে গাজীপুর-৫ এবং সিটি করপোরেশনের ৩৪-৫৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর-৬ আসন গঠন করা হয়েছে। সোনারগাঁও ও বন্দর উপজেলা নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৩ আসন, সদর উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ে নারায়ণগঞ্জ-৪ এবং সিটি করপোরেশন এলাকাকে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসন নির্ধারণ করা হয়েছে।

সিটি করপোরেশনের ১-২৪ নম্বর ওয়ার্ড, ৩১-৩৯ নম্বর পর্যন্ত ওয়ার্ড নিয়ে সিলেট-১ এবং সিটি করপোরেশনের ২৫-৩০, ৪০, ৪১ ও ৪২ নম্বর ওয়ার্ড, দক্ষিণ সুরমা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও বালাগঞ্জ উপজেলা নিয়ে সিলেট-৩ আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। সরাইল, আশুগঞ্জ এবং বিজয়নগর উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ এবং সদর উপজেলা ও বিজয়নগর উপজেলার ৭ ইউনিয়ন নিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন নির্ধারণ করা হয়েছে।

দাউদকান্দি ও মেঘনা উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১, হোমনা ও তিতাস উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-২. লালমাই ও লাকসাম উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-৯, নাঙ্গলকোট ও মনোহরগঞ্জ উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১০ এবং সদর দক্ষিণ ও চৌদ্দগ্রাম উপজেলা নিয়ে কুমিল্লা-১১ আসন নির্ধারণ করা হয়েছে। চাটখিল উপজেলা ও সোনাইমুড়ি উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে নোয়াখালী-১, সেনবাগ ও সোনাইমুড়ি উপজেলার তিনটি ইউনিয়ন পরিষদ নিয়ে নোয়াখালী-২, সুবর্ণচর এবং সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন নিয়ে নোয়াখালী-৪ এবং কবিরহাট, কোম্পানীগঞ্জ এবং সদর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে নোয়াখালী-৫ আসনের সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে। শুধু রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নিয়ে চট্টগ্রাম-৭ এবং বোয়ালখালী উপজেলা ও সিটি করপোরেশনের ৩-৭ নম্বর ওয়ার্ড নিয়ে চট্টগ্রাম-৮ আসন করা হয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম