পক্ষাঘাতগ্রস্ত স্ত্রীকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা
Advertisement
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১০ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শেরপুরের শ্রীবরদীতে অসুস্থ স্ত্রীকে জীবন্ত কবর দেওয়ার চেষ্টা করেছে স্বামী। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। শুক্রবার দুপুরে শ্রীবরদী উপজেলার কাকিলাকুড়া ইউনিয়নের খোশালপুর কানিপাড়া বাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ওই অসুস্থ খোশেদা বেগম ছয় বছর ধরে পক্ষাঘাতগ্রস্ত, শয্যাশায়ী হয়ে বিছানায় মলত্যাগ করায় স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে এ ঘটনা ঘটান বলে স্থানীয়রা জানান। অভিযুক্ত স্বামী মো. খলিলুর রহমান খোশালপুর মধ্যপাড়ার মৃত জহুর আলীর ছেলে।
ভিডিওতে দেখা যায়, খোশালপুর মধ্যপাড়ার খলিল তার স্ত্রীকে ঘর থেকে টেনে উঠানে নিয়ে আসছেন। এর আগেই ঘরের সামনে উঠানের একটি অংশে কোদাল দিয়ে সামান্য পরিমাণ গর্ত করে রাখেন। সেই গর্তের ভেতর তাকে রেখে তার ওপর কোদাল দিয়ে মাটি চাপা দেওয়ার চেষ্টা করছেন। এতে অসুস্থ ওই বৃদ্ধা আত্মরক্ষায় চিৎকার করছেন। এতে তার স্বামী ক্ষিপ্ত হয়ে মুখে চড় মারছেন। অন্যদিকে তার পাশে একাধিক মানুষ থাকলেও কেউ তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে আসছেন না। এছাড়াও নিখুঁতভাবে একজন ভিডিও করছেন তিনিও রক্ষায় এগিয়ে যাচ্ছেন না। তবে ভিডিওটি তাদের নাতি মো. খোকন ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট করেছেন বলে জানান স্থানীয়রা। পরবর্তীকালে এ ভিডিও রাতারাতি ভাইরাল হয়ে যায়।
স্থানীয়রা জানায়, খোশেদাকে একটা সময় চিকিৎসা করেও কোনো কাজে আসেনি। বর্তমানে তার স্বামী আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে তার সঠিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছেন না। দীর্ঘ সময় যন্ত্রণা সইতে না পেরে অতিষ্ঠ হয়ে যান বৃদ্ধ স্বামী। স্ত্রীর চিকিৎসা, ওষুধ, সেবা করতে করতে তার অসহ্য হয়ে গেছে। আসলে দীর্ঘ সময় পারিবারিক যন্ত্রণা ভোগ করতে করতে রাগে-ক্ষোভে এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন।
স্থানীয় রহিম মিয়া বলেন, খলিল কাকা আসলে খারাপ লোক না। তবে তার স্ত্রীর অসুস্থতার পর থেকে মন খারাপ থাকে। তিনি আজ এমন কাণ্ড কেন ঘটালেন বুঝতে পারছি না।
পাশের বাড়ির সুজন বলেন, তিনি গরিব মানুষ। গতকালই স্ত্রীর জন্য একটি চেয়ার ও কমোড কিনে আনেন। স্ত্রী চোখে ভালো দেখেন না। একটু কথা না শোনায় আজ এ ঘটনা ঘটে। তবে তার নাতি ভিডিওটি ফেসবুকে পোস্ট করায় বিষয়টি ছড়িয়ে পড়ে।
শ্রীবরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আনোয়ার জাহিদ বলেন, ভিডিও চিত্র দেখার সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ পাঠানো হয়েছে। অভিযুক্ত খলিল পালিয়েছেন। বিষয়টি স্থানীয় নেতাদের মাধ্যমে সামাজিকভাবে সমাধান হয়েছে শুনেছি। তবে লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীবরদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ জাবের আহমেদ সাংবাদিকদের বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি। বিষয়টি সত্যিই মর্মান্তিক। এ বিষয়ে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
