জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্য
ফজলুর দলীয় পদ ৩ মাসের জন্য স্থগিত
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন ও ইটনা (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৭ আগস্ট ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে বিতর্কিত বক্তব্যের অভিযোগে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ফজলুর রহমানের দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ ৩ মাসের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। মঙ্গলবার দলের এ সিদ্ধান্ত চিঠির মাধ্যমে ফজলুর রহমানকে জানানো হয়েছে বলে বিএনপির একটি সূত্র যুগান্তরকে নিশ্চিত করেছে। এদিকে কারণ দর্শানোর চিঠির জবাবে ফজলুর রহমান বলেছেন, মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে অপশক্তির বিরুদ্ধে নিরন্তর কথা বলা এবং প্রতিবাদ করাকে পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করি।
বিএনপির চিঠিতে বলা হয়, ‘কারণ দর্শানোর নোটিশের যে জবাব আপনি দিয়েছেন তা সন্তোষজনক নয়। তথাপিও বীর মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে মুক্তিযুদ্ধে আপনার অবদান বিবেচনা করে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে আপনার দলীয় প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ ৩ মাসের জন্য নির্দেশক্রমে স্থগিত করা হলো।’
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘এখন থেকে আপনি টকশো বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলার সময় দেশের মর্যাদা ও দলের নীতিমালা যাতে ক্ষুণ্ন না হয় এবং দেশের জনগোষ্ঠীর ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত না লাগে সে বিষয়ে সর্বদা সতর্ক থাকবেন।’ সম্প্রতি জুলাই গণ-অভ্যুত্থান নিয়ে ফজলুর রহমানের বিতর্কিত বক্তব্য ঘিরে উত্তেজনা তৈরি হয়। তার মন্তব্যের প্রতিবাদে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে তার বাসার সামনে রোববার রাত থেকে সোমবার দিনভর অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন বেশ কয়েকজন। এছাড়া রাজধানীসহ বিভিন্ন স্থানে প্রতিবাদ জানান অনেকে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার কুশপুত্তলিকা দাহ করা হয়। নিজ জেলা কিশোরগঞ্জে তাকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয়। এরই মধ্যে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করে ফজলুর রহমান দাবি করেন, দেশ-বিদেশ থেকে মব সৃষ্টিকারীরা তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। তার জীবন বড় শঙ্কায় আছে বলেও জানান তিনি। এদিকে ফজলুর রহমানের নামে অপপ্রচার চালিয়ে মব সৃষ্টি ও হত্যার হুমকির প্রতিবাদে মঙ্গলবার তার নির্বাচনি এলাকা কিশোরগঞ্জের ইটনায় প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এদিকে মঙ্গলবার দলের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশের জবাব দেন অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমান। বিকালে তার স্ত্রী অ্যাডভোকেট উম্মে কুলসুম রেখা জানান, উনি (ফজলুর রহমান) এই সংক্রান্ত চিঠির জবাবে লিখিতভাবে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জমা দিয়েছেন। বিশেষ বার্তা প্রেরক সেটা জমা দিয়ে এসেছেন। এখন উনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলবেন না।
অ্যাডভোকেট ফজলুর রহমানের নামে নিজস্ব প্যাডে চার পৃষ্ঠার এই জবাবে দলের তরফ থেকে যা জানতে চাওয়া হয়েছে তা বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেছেন বলে জানান তার সহধর্মিণী। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বরাবর জবাবটি লেখা হয়েছে। লিখিত জবাবে ফজলুর রহমান বলেছেন, আমার প্রিয় দল বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা মুক্তিযুদ্ধের মহান ঘোষক ‘মেজর জিয়া’ পরবর্তী সময়ে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের প্রতিষ্ঠিত দেশের সবচাইতে বৃহৎ রাজনৈতিক দল। তার মহান স্মৃতিকে শ্রদ্ধা এবং স্মরণ করেই আমি মুক্তিযোদ্ধা হিসাবে এই অপশক্তির বিরুদ্ধে নিরন্তর কথা বলা এবং প্রতিবাদ করাকে আমার পবিত্র দায়িত্ব বলে মনে করি।
তার দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, আমার সার্বিক বক্তব্য উপস্থাপনায় যদি প্রমাণিত হয় আমি কোনো ভুল বক্তব্য দিয়েছি তবে আমি দুঃখ প্রকাশ করব। তিনি বলেন, আমার প্রিয় দল বিএনপির কোনো ক্ষতি হয়-এমন কোনো কথা ও কাজ আমি করিনি এবং করব না। জাতীয়তাবাদী দলের নেতৃত্বের বিচার-বিবেচনার প্রতি আমার সর্বোচ্চ আস্থা আছে। আশা করি আমি সুবিচার পাব এবং দলের বৃহত্তর স্বার্থে যে কোনো সিদ্ধান্তের প্রতি সর্বদাই অনুগত থাকব।
ইটনায় বিএনপির প্রতিবাদ সমাবেশ : এদিকে ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও মব সৃষ্টি করে হত্যার হুমকির প্রতিবাদে কিশোরগঞ্জের ইটনায় বিএনপির প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বিকালে উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম কামাল হোসেনের নেতৃত্বে বড়বাজারে অস্থায়ী কার্যালয় থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু হয়। মিছিলটি সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদিক্ষিণ করে সোনালী ব্যাংকের সামনে সমাবেশে মিলিত হয়। এ সময় বক্তব্য দেন বীর মুক্তিযোদ্ধা রওশন আলী রুশো, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সিদ্দিকুজ্জামান ঠাকুর স্বপন, সহসভাপতি হাবিবুল হান্নান, সাংগঠনিক সম্পাদক তারিকুল ইসলাম জুয়েল, সদর ইউনিয়নের সভাপতি এমএ ছালেক, যুবদলের আহ্বায়ক তানভীর সিদ্দিকী রিয়াদ, যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল ইসলাম অপু, আবুল কালাম আজাদ, স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি মুনসুর আলম প্রমুখ।
