Logo
Logo
×
   

Advertisement

প্রথম পাতা

শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা

অনির্দিষ্টকাল বন্ধ বাকৃবি, হল ত্যাগের নির্দেশ

উপাচার্যসহ দুই শতাধিক শিক্ষক ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ * আন্দোলনকারীদের ওপর ‘বহিরাগতদের’ হামলা, প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর

Advertisement

Icon

বাকৃবি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অনির্দিষ্টকাল বন্ধ বাকৃবি, হল ত্যাগের নির্দেশ

Advertisement

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (বাকৃবি) অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। আবাসিক ছাত্র-ছাত্রীদের আজ সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। কম্বাইন্ড বা সমন্বিত ডিগ্রির দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে রোববার দিনভর উত্তপ্ত পরিস্থিতির পর রাতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এর আগে উপাচার্যসহ দুই শতাধিক শিক্ষককে ৭ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন দুটি অনুষদের শিক্ষার্থীরা। পরে ‘বহিরাগতরা’ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করে শিক্ষকদের মুক্ত করে। এর প্রতিবাদে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ও উপাচার্যের বাসভবন ভাঙচুর চালায়। 

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের পশুপালন ও ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থীদের সমন্বিত ডিগ্রির (বিএসসি ইন ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল হাজবেন্ড্রি) দাবিতে চলমান আন্দোলনের পরিপ্রেক্ষিতে রোববার বেলা ১১টায় একাডেমিক কাউন্সিলের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন মিলনায়তনে এই সভায় কম্বাইন্ড ডিগ্রি চালুর পাশাপাশি পশুপালন ও ভেটেরিনারি ডিগ্রিও চালু রাখার সিদ্ধান্ত হয়। তবে মোট তিনটি ডিগ্রি চালু রাখার সিদ্ধান্ত মানতে নারাজ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা। সভা শেষে তিন ডিগ্রির সিদ্ধান্ত ঘোষণা দেওয়া হলে ‘এক পেশায় এক ডিগ্রির (কম্বাইন্ড ডিগ্রি)’ দাবিতে মিলনায়তনে তালা ঝুলিয়ে দেন আন্দোলনকারীরা। এতে অবরুদ্ধ হয়ে পড়েন উপাচার্য অধ্যাপক একে ফজলুল হক ভূঁইয়াসহ দুই শতাধিক শিক্ষক। সন্ধ্যা ৭টা ৪০ মিনিটে লাঠিসোঁটা হাতে বহিরাগতরা নিরস্ত্র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়। তারা মিলনায়তনের তালা খুলে শিক্ষকদের মুক্ত করেন। একজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন দমাতে উপাচার্য ও কিছু শিক্ষকের প্রত্যক্ষ ইন্ধনে বহিরাগতদের ক্যাম্পাসে আনা হয়েছে। 

এদিকে এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় রাত সাড়ে ৮টায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন হল থেকে বের হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিস ও ভিসির বাসভবন ভাঙচুর করে। 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যা থেকেই ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের মিলনায়তনের আশপাশে অবস্থান করতে দেখা যায়। পরে তারাই শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলা চালায়।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, রাত সাড়ে ৯টায় অনলাইনে জরুরি সিন্ডিকেট সভা হয়েছে। সেখানে নেওয়া সিদ্ধান্ত অনুযায়ী অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা এবং শিক্ষার্থীদের আজ সকাল ৯টার মধ্যে হল ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক মো. আসাদুজ্জামান বলেন, অন্যান্য অনুষদের শিক্ষার্থীরা তালা ভেঙে আমাদের বের করেছে। বহিরাগতরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে কিনা সেটি আমরা জানি না। শিক্ষার্থীদের দাবি মেনে নেওয়ার পরও তারা আমাদের আটকে রাখে। শিক্ষক সমিতির জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের কোনো শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষকরা অংশগ্রহণ করবেন না।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. আবদুল আলীম বলেন, আমি সবার পরে বের হয়েছি। দেখলাম, কয়েকজন লোক লাঠি হাতে দাঁড়িয়ে আছে। তারা বহিরাগত ছিলেন নাকি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী সেটি আমি বুঝতে পারিনি।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম