Logo
Logo
×
   

Advertisement

সরকারের ৬ মাস

১১ দলের মূল্যায়ন

ছয় মাসের কার্যক্রমে জনগণ হতাশ

Advertisement

Icon

শহীদুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

Advertisement

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকার ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতা গ্রহণের পর আজ ৬ মাস পূর্ণ করছে। দেশের প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যের নেতারা সরকারের এ ছয় মাসকে নেতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন। তারা বলছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার প্রথমেই জাতির সঙ্গে বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানপরবর্তী নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের যা প্রত্যাশা ছিল, বিএনপি সরকার দেশকে তার পুরোপুরি বিপরীতদিকে নিয়ে যাচ্ছে। সরকারের ৬ মাসের কার্যক্রমে জনগণ হতাশ।

১১ দলের শীর্ষস্থানীয় নেতারা চলমান গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকট, একের পর এক শিল্পপ্রতিষ্ঠান বন্ধ, আইনশৃঙ্খলার অবনতি, সবকিছুতে দলীয়করণ, চাঁদাবাজি প্রভৃতি বিষয়কে সরকারের চরম ব্যর্থতা হিসাবে উল্লেখ করছেন। তারা বলছেন, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে জুলাই-পরবর্তী নির্বাচিত সরকার পথ দেখাবে বলে জনগণের প্রত্যাশা থাকলেও ৬ মাসে বহু মানুষ নতুন করে বেকার হয়েছে। জুলাইয়ের প্রত্যাশা ছিল একটি সুন্দর বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করা। এর পরিবর্তে সরকার ফ্যাসিস্টের পথেই হাঁটছে। তবে বিরোধী মত-পথের মানুষকে গুম ও চরম নির্যাতন হাসিনা সরকারের মতো এখন পর্যন্ত যায়নি বলে এ একটি জায়গা স্বস্তির বলে মূল্যায়ন করছেন ১১ দলের নেতারা।

সরকারের ৬ মাসের মূল্যায়ন প্রশ্নে প্রধান বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার শনিবার যুগান্তরকে বলেন, গ্যাস-বিদ্যুতের সংকট আছে আমরা জানি। কিন্তু এত সংকট তো দেখিনি কখনো। শিল্পকারখানা বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। শ্রমিক বেকার হয়ে পড়ছেন। অথচ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের অন্যতম দাবি ছিল নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা। এখন ঘটছে এর বিপরীত। এটা হলো সরকারের ম্যানেজমেন্ট সমস্যা এবং সততা ও যোগ্যতার অভাব। তাদের ব্যর্থতা এখানেই। তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে। চাঁদাবাজি কয়েকগুণ বেড়েছে। বলা যায়, একে প্রাতিষ্ঠানিকীকরণ করে ফেলেছে বিএনপি। তারা জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে জাতির সঙ্গে বেইমানি ও বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। দেশকে সামনের দিকে নিয়ে যাওয়ার পরিবর্তে ৬ মাসেই তারা ফ্যাসিস্টের দেখানো অন্ধকারের পথে নিয়ে গেছে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সিনিয়র যুগ্ম-আহ্বায়ক সরোয়ার তুষার শনিবার যুগান্তরকে বলেন, চব্বিশের জুলাইয়ে মানুষ যে প্রত্যাশা নিয়ে অকাতরে জীবন দিয়েছে, সরকার ৬ মাসে তার প্রতিটি ক্ষেত্রেই চরম ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। তিনি বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে জনগণের নাভিশ্বাস উঠেছে। গ্যাস, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটে মানুষের ত্রাহি ত্রাহি অবস্থা। দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি বেড়েছে সীমাহীন। মানুষের জীবন-জীবিকা থমকে গেছে। একটা ভালো দিক হলো-প্রধানমন্ত্রী মুচকি হেসে কথা বলেন। ওনার প্ল্যান আছে। বাস্তবে দেশকে তিনি এ ৬ মাসেই অনেক পেছনে নিয়ে গেছেন।

১১ দলের অন্যতম শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের মহাসচিব মাওলানা জালাল উদ্দিন বলেন, ভিন্নমতের ওপর চরম নির্যাতন আর গুমের পথ বেছে নেয়নি সরকার। শুধু এতটুকুই ভালো দিক বলা যায়। এর বাইরে ৬ মাসে সরকারের কোনো সফলতা নেই। প্রধানমন্ত্রীর মনোভাব ভালো; কিন্তু কাজে প্রমাণ নেই। মন্ত্রীরা ভারসাম্যহীন কথা বলেন।

জালাল উদ্দিন বলেন, ৬ মাসে সরকার কোনো কূটনৈতিক সফলতা দেখাতে পারেনি। জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না করে সরকার ৭০ ভাগ জনগণের রায়ের প্রতি চরম বিশ্বাসঘাতকতা করেছে। জনগণ এখন আর তাদের বিশ্বাস করে না। জুলাই শহীদদের রক্তের সঙ্গে তারা বেইমানি করছে। ব্যাংক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, স্থানীয় সরকার, এমনকি মসজিদ-মাদ্রাসায়ও এখন তারা দলীয়করণ করছে।

১১ দলের আরেক শরিক আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, সরকারের ইতিবাচক দিক হলো-প্রধানমন্ত্রী তার আচরণ ও কর্মযজ্ঞে মিতব্যয়িতা ও সময়ানুবর্তিতার চর্চা, জৌলুস পরিহার করে সাদামাটা জীবনাচরণের নতুন সংস্কৃতি চালু করেছেন। প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী খাল খনন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় পুরোহিতদের ভাতা চালুসহ বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি দ্রুত বাস্তবায়নে উদ্যোগ নিয়েছেন।

তিনি বলেন, সরকারের পারফরম্যান্স মূল্যায়নের জন্য কয়েকটি সূচক থাকে, যার মধ্যে অর্থনীতি, আইনশৃঙ্খলা, দ্রব্যমূল্য, শাসনব্যবস্থা, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, ব্যবসা-বাণিজ্য, গণতান্ত্রিক চর্চার উন্নয়ন উল্লেখযোগ্য। এসব সূচকের বিবেচনায় ৬ মাসে তেমন আশানুরূপ উন্নতি নেই। বিশেষ করে সরকারের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবস্থাপনা এ মুহূর্তে খুবই হতাশাজনক পরিস্থিতি তৈরি করেছে। মানুষের জীবনধারণের ব্যয় বেড়েছে; কিন্তু সে অনুযায়ী জীবনমান উন্নত না হয়ে আরও অধঃপতিত হয়েছে।

জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) সহসভাপতি ও দলীয় মুখপাত্র রাশেদ প্রধান বলেন, জুলাইয়ের সঙ্গে বেইমানি করেই এই সরকার যাত্রা শুরু করেছে। বিদ্যুৎ দিতে পারে না, আবার দুই দফা দাম বাড়িয়ে, ভূতুড়ে বিল আদায় করে জনভোগান্তিকে তারা চরম পর্যায়ে নিয়ে গেছে। সবকিছুকে যেভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে তাতে নতুন স্বৈরাচারের আলামত স্পষ্ট। তারা ৬ মাসেই যা দেখিয়েছে, তাতে আশঙ্কা হচ্ছে ৫ বছর ক্ষমতায় থাকলে তারা দেশকে দুর্বৃত্তে পরিণত করবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম