Logo
Logo
×
   

যুগান্তরের বিশেষ আয়োজন

মুন্সী আব্দুর রউফের বাড়ি সাপ-বিচ্ছুর আবাসস্থল

জাহিদ রিপন

জাহিদ রিপন

প্রকাশ: ১৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মুন্সী আব্দুর রউফের বাড়ি সাপ-বিচ্ছুর আবাসস্থল

বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিচিহ্ন

ফরিদপুরের মধুখালী উপজেলার কামারখালী ইউনিয়নের সালামতপুর গ্রামে (রউফ নগর) বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিচিহ্ন জন্মভিটা পড়ে রয়েছে অযত্ন আর অবহেলায়। রউফ নগরের জন্মভূমি বাড়িটি রয়েছে তার স্মৃতিচিহ্ন হয়ে। সেই বাড়িটি অযত্ন আর অবহেলায় ধ্বংস হতে চলছে। এরই মাঝে দু-একটি বাদে দরজা-জানালাসহ সবকিছু চুরি হয়ে গেছে। এদিকে বীরশ্রেষ্ঠের গ্রামের বাড়ি যাতায়াতের একমাত্র রাস্তাটিও পাকা করা হয়নি স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও। প্রতিবছরই মধুমতির ভাঙনের কবলে পড়ে যাতায়াত অনেকটা দুরূহ হয়ে পড়ে। আর প্রতিবছরই রাস্তার ভাঙন ঠেকাতে সিসি ব্লক ফেলে রক্ষার চেষ্টা করা হয়। ফলে শুধু গ্রামবাসীই নয়, দূরদূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের চরম ভোগান্তিও পোহাতে হয় তার স্মৃতিচিহ্ন বাড়ি ও তার নামের গ্রন্থাগারটি দেখতে। ভ্রমণপিপাসু ও পর্যটকরা মুন্সী আব্দুর রউফের বাড়িটি দেখে শুধুই হতাশ নন, তাদের অন্তরে ব্যথা অনুভব করেন। এছাড়া মুন্সী আব্দুর রউফের মা মারা গেছেন কয়েক বছর আগে। প্রতিবছর বীরশ্রেষ্ঠের জন্মদিন এবং মৃত্যুদিন কেটে যায় নামকাওয়াস্তে প্রশাসনের কর্মসূচির মাধ্যমে। মুন্সী আব্দুর রউফের মা মকিদুন্নেছা মারা যাওয়ার পর আর তেমন একটা খোঁজ-খবর নেন না কেউ। এ ব্যাপারে এলাকাবাসী ও ভ্রমণকারী দর্শনার্থীরা বীরশ্রেষ্ঠ মুন্সী আব্দুর রউফের স্মৃতিচিহ্ন রক্ষায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগের দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

মুক্তিযুদ্ধের প্রাক্কালে পূর্ব পাকিস্তান রাইফেলসের ল্যান্স নায়েক হিসাবে কর্মরত ছিলেন। তিনি অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের রাঙামাটি-মহালছড়ি জলপথে দায়িত্বপ্রাপ্ত হন। ৮ এপ্রিল (মতান্তরে ২০ এপ্রিল) পাকিস্তানি বাহিনীর দুই কোম্পানি সৈন্য বুড়িঘাটের মুক্তিবাহিনীর নতুন প্রতিরক্ষা ঘাঁটিকে বিধ্বস্ত করতে সাতটি স্পিডবোট এবং দুইটি লঞ্চ নিয়ে এগিয়ে আসে। এ সময় তার সঙ্গের অন্য সদস্যদের সরে যেতে সময় দিয়ে নিজে একাই বাঙ্কারে গুলি চালাতে থাকেন। এ সময় শত্রু পক্ষের লঞ্চ থেকে মর্টারের একটি শেল তার বাঙ্কারে এসে পড়ে তিনি শহীদ হন। সেদিন আব্দুর রউফের আত্মত্যাগে তার কোম্পানির প্রায় ১৫০ জন মুক্তিযোদ্ধার জীবনরক্ষা পায়। তাকে পাবর্ত চট্টগামের রাঙামাটির নানিয়ারচরে কবর দেওয়া হয়।

সালমতপুর গ্রামের স্থানীয়রা বলেন, মধুমতি নদীর তীরের সালামতপুর গ্রামটি এখন রউফনগর হিসাবে পরিচিত। দেশবাসীর কাছে মুন্সী আব্দুর রউফ একটি গর্ব ও ভালোবাসার নাম।

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম