Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

তাপমাত্রা বৃদ্ধির জের

গরমে বছরে ক্ষতি ২১ হাজার কোটি টাকা

বিশ্বব্যাংকের প্রতিবেদন: মন্ত্রী-এমপিদের প্লট দিতে গিয়ে রাজউক যা ক্ষতি করার করেছে -সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

গরমে বছরে ক্ষতি ২১ হাজার কোটি টাকা

Advertisement

তাপমাত্রা বৃদ্ধির ফলে গরম ও স্বাস্থ্যগত কারণে ২০২৪ সালে বাংলাদেশের আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ১৩৩ কোটি থেকে ১৭৮ কোটি ডলার, যা স্থানীয় মুদ্রায় প্রায় ১৫ হাজার ৯৬০ কোটি থেকে ২১ হাজার ৩৬০ কোটি টাকা। এটি ওই বছরে জিডিপির (মোট দেশজ উৎপাদন) শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ থেকে শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ। এছাড়া ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস কম তাপের তুলনায় যখন তাপমাত্রা ৩৭ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়, তখন শ্রমজীবী মানুষের উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। বিশ্বব্যাংকের ‘অ্যান আনসাসটেইনেবল লাইফ : দি ইমপ্যাক্ট অব হিট অন হেলথ অ্যান্ড দি ইকোনমি অব বাংলাদেশ’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। মঙ্গলবার রাজধানীর একটি হোটেলে আনুষ্ঠানিকভাবে এটি প্রকাশ করে সংস্থাটি। এতে বলা হয়েছে, দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং অপরিকল্পিত নগর উন্নয়নের কারণে সবুজ প্রকৃতি আর বনায়ন কমছে। যেগুলো ঢাকার ‘নগর তাপ দ্বীপের’ প্রভাব সৃষ্টি হওয়ার কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম।

প্রকাশনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান এবং বিশেষ অতিথি প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) ডা. মো. সায়েদুর রহমান উপস্থিত ছিলেন। বিশ্বব্যাংকের ডিভিশনাল ডিরেক্টর জেন পেসমির সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন বিশ্বব্যাংকের সিনিয়র অপারেশন অফিসার ইফফাত মাহমুদ এবং হেলথ স্পেশালিস্ট ওমিকিউ এ. রাজা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ৪৩ বছরে সারা দেশে গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেয়েছে ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তবে ঢাকায় সেটি আরও বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৪ ডিগ্রি সেলসিয়াসে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, তাপ বৃদ্ধিজনিত কারণে সবচেয়ে বেশি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদি কাশি। শীতকালে যেখানে এমন কাশিতে আক্রান্তের হার ৩ দশমিক ৩ শতাংশ, যা গ্রীষ্মকালে বেড় হয় ৬ শতাংশ।

জরিপে অংশ নেওয়া ২ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ মনে করে, তাপজনিত কারণে তারা ক্লান্ত ছিলেন। ৩৬ থেকে ৬৫ বছর বয়সি কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর মানুষের ক্লান্তি বেশি। এর মধ্যে ৬৬ বছর বয়সি বা তদূর্ধ্ব মানুষের তাপজনিত ক্লান্তি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া ডায়রিয়া রোগের হার ঋতুভেদে ব্যাপক পরিবর্তিত হয়। গ্রীষ্মকালে ডায়রিয়া আক্রান্ত হওয়ার হার ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। শীতকালে এই হার থাকে ১ দশমিক ৮ শতাংশ। এই রোগে সবেচেয়ে বেশি আক্রান্ত হয় নারী এবং ৫ বছরের কম বয়সি শিশু। এছাড়া তাপ বৃদ্ধি মানসিক সমস্যাও তৈরি করে। শীতে যেখানে বিষণ্নতায় ভোগার হার ১৬ দশমিক ২ শতাংশ, সেখানে গ্রীষ্মে বেড়ে দাঁড়ায় ২০ শতাংশে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বাংলাদেশ ক্রমবর্ধমান তীব্র তাপপ্রবাহের সম্মুখীন। তাপমাত্রা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বৈশ্বিক প্রবণতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে ১৯৮০ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ১ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। এছাড়া তাপসূচক বা অনুভূত তাপমাত্রা আরও আশঙ্কাজনকভাবে ৪ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে। বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা উল্লেখ করেছে, ৯ বছর ছিল বিশ্বের সবচেয়ে গরম, যা জলবায়ুসংক্রান্ত স্বাস্থ্যের ঝুঁকির জন্য একটি উদ্বেগজনক প্রবণতা।

প্রতিবেদনে দেওয়া সুপারিশে বলা হয়েছে, তাপপ্রবাহ আরও ভালোভাবে মোকাবিলার জন্য জাতীয় প্রস্তুতির সক্ষমতা বাড়াতে হবে। সেটি করতে হবে বহুপাক্ষিক সমন্বিত পদক্ষেপের মাধ্যমে। এছাড়া উচ্চ তাপমাত্রাজনিত স্বাস্থ্য সমস্যা প্রাণহানি রোধে শক্তিশালী পদক্ষেপ নিতে হবে। তাপপ্রবাহ থেকে স্বাস্থ্য রক্ষায় উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার করতে হবে। কার্যকর সিদ্ধান্ত গ্রহণের জন্য সঠিক ও বিস্তারিত আবহাওয়ার তথ্য সংগ্রহ করতে হবে। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির প্রভাব কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও অর্থায়নের ব্যবস্থা করতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, মন্ত্রী-এমপিদের প্লট দিতে গিয়ে রাজউক যা ক্ষতি করার করেছে। এখন এসব বন্ধ করে ক্ষতি পোষানোর উদ্যোগ নিতে হবে। সবুজ ধ্বংস করে রাজউকের আবাসিক প্রকল্প করা যাবে না। সেই সঙ্গে ঢাকা থেকে মাওয়া পর্যন্ত গেলে দেখা যায়, ধানখেতে হাজার হাজার আবাসন প্রকল্পের সাইনবোর্ড। এগুলো কেন বন্ধ করা যাচ্ছে না, তা ভেবে দেখতে হবে। সঠিকভাবে ড্যাপ তৈরি এবং বাস্তবায়ন করতে হবে। ঢাকাকে ব্যবসায়ীদের হাতে তুলে না দিয়ে নগরবাসীর হাতে দিতে হবে। জনগণেরও দায়বদ্ধতা আছে। আইন মানতে হবে। এছাড়া ঢাকাকে বিকেন্দ্রীকরণ করতে হবে। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) ডা. মো. সায়েদুর রহমান বলেন, তাপমাত্রাজনিত স্বাস্থ্য ক্ষতি কমাতে আন্তর্জাতিক সহায়তার প্রয়োজন। সেই সঙ্গে অভ্যন্তরীণ উদ্যোগ থাকতে হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম