Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতি

অভিযোগ তদন্তে কমিটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

অভিযোগ তদন্তে কমিটি ভূমি মন্ত্রণালয়ের

Advertisement

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে জমি অধিগ্রহণে দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি করেছে ভূমি মন্ত্রণালয়। সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমদ রোববার মন্ত্রণালয়ে জরুরি সভা আহ্বান করে যুগান্তরে প্রকাশিত অভিযোগ তদন্তে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেন। তদন্ত কমিটি এরই মধ্যে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক কর্মকর্তা।

অধিগ্রহণ-১ শাখার উপসচিব মুহাম্মদ আব্দুল লতিফ স্বাক্ষরিত কমিটি গঠন সংক্রান্ত চিঠি রোববার জারি করা হয়। এতে বলা হয়, ‘জমি অধিগ্রহণের ৮ কোটি টাকা পেতে ঘুস এক কোটি : ডিসি অফিসের ঘুসের ফাঁদে মারা যান সাহাবুদ্দিন’ শিরোনামে ১৯ অক্টোবর যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশিত হয়। উল্লিখিত অভিযোগের বিষয়টি জনগুরুত্বপূর্ণ। তাই সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে কমিটি গঠন করা হয়েছে। ঢাকার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) মো. আফজাল হোসেনকে কমিটির আহ্বায়ক, ভূমি মন্ত্রণালয়ের উপসচিব (অধিগ্রহণ-১) মুহাম্মদ আব্দুল লতিফকে সদস্য সচিব এবং একই মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সহকারী সচিব মো. সাইফুল ইসলামকে সদস্য করা হয়েছে। ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে সরেজমিন তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। প্রয়োজনে এই কমিটি একাধিক সদস্য কো-অপ্ট করতে পারবে।

এদিকে নরসিংদীর নতুন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আনোয়ার হোসাইন সোমবার যুগান্তরকে বলেন, ‘যুগান্তরে প্রকাশিত অভিযোগ জেলা প্রশাসনসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে এসেছে। অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘অধিকতর তদন্তের স্বার্থে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে অভিযোগ বাক্স খোলা হবে। সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ লাঘবে আমি নিজেই এই বাক্স স্থাপন করব। বাক্সের চাবি থাকবে আমার কাছে।’

এক প্রশ্নের জবাবে ডিসি বলেন, ‘স্থানীয় পর্যায়ে দায়ী কর্মকর্তাদের জেলা থেকে প্রত্যাহার করতে সুপারিশ করা হয়েছে। আমরা চাই অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত হোক। আমার আশপাশে দুর্নীতি তো প্রশ্নই আসে না, দুর্নীতিবাজ কোনো ব্যক্তিরও স্থান থাকবে না।’

সাত জেলায় অধিগ্রহণের যত জমি : তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০২১ সালে সংশোধিত ডিপিপি অনুমোদনের পর ভূমি অধিগ্রহণের তালিকা চূড়ান্ত করা হয়। ঢাকা-সিলেট অংশে সাত জেলায় মোট ৮ একর ৩০ শতক জমি অধিগ্রহণের আওতায় ৬৬টির মধ্যে এখন পর্যন্ত মাত্র ১১টি এলএ কেসের দখল হস্তান্তর হয়েছে। চার বছরে এই প্রকল্পের অগ্রগতি মাত্র ১৫ শতাংশ।

নারায়ণগঞ্জ জেলার ৪টি এলএ কেসের ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব ২০২১ সালের অক্টোবর-নভেম্বরে দাখিল করা হয়। এ পর্যন্ত ২টি কেসের দখল হস্তান্তর হয়েছে। নরসিংদী জেলায় ৯টি ভূমি অধিগ্রহণ প্রস্তাব পাঠানো হয় ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের জুলাই সময়ে। এ জেলায় ৩টি এলএ কেসের দখল হস্তান্তর হয়েছে। ৫টিই ঝুলে আছে। কিশোরগঞ্জ জেলায় ১টি এলএ প্রস্তাব ২০২২ সালের জানুয়ারিতে দাখিল করা হলেও কোনো অগ্রগতি নেই। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার তিনটি প্রস্তাবের ২টির দখল হস্তান্তর হয়েছে। মৌলভীবাজারে দুই প্রস্তাবের দুটিই হস্তান্তর করা হয়েছে।

হবিগঞ্জ জেলায় ৩০টি এলএ প্রস্তাব পাঠানো হয় ২০২১ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৩ সালের এপ্রিল পর্যন্ত। এ পর্যন্ত মাত্র দুটি এলএ কেসের দখল হস্তান্তর হয়েছে। সিলেটে ঢাকা-সিলেট অংশে ২০২১ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২২ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৭টি এলএ প্রস্তাব দাখিল করা হলেও এ পর্যন্ত কোনো জমির দখল হস্তান্তর হয়নি। এমনকি কোনো প্রাক্কলনও পাওয়া যায়নি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম