Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

তিতাসের তীরে দুই শতাব্দীর সাক্ষী হরিপুর জমিদারবাড়ি

Advertisement

Icon

মানিরুল হোসাইন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)

প্রকাশ: ০২ নভেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

তিতাসের তীরে দুই শতাব্দীর সাক্ষী হরিপুর জমিদারবাড়ি

Advertisement

তিতাস নদীর কোল ঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে দুই শতাব্দীর সাক্ষী হরিপুর জমিদারবাড়ি। তিনতলাবিশিষ্ট সুবিশাল এ ভবন শুধু স্থাপত্য নয়, ধারণ করে একসময়কার জমিদার ঐতিহ্য ও নদীপাড়ের জীবনের স্মৃতি। এ তিতাসের কিনার থেকেই উঠে এসেছিলেন বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান কবি আল মাহমুদ। নদীপাড়ের জীবন-জীবিকা নিয়ে ঋত্বিক ঘটকের ছবি ‘তিতাস একটি নদীর নাম’ কিংবদন্তি হয়ে আছে। উপন্যাসটি লিখেছেন অদ্বৈত মল্লবর্মণ। ব্রিটিশ আমলে নির্মিত নান্দনিক স্থাপত্যশৈলীর বাড়িটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করেন দর্শনার্থীরা।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার হরিপুর ইউনিয়নের হরিণবেড় গ্রামে জমিদার বাড়িটির অবস্থান। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে থাকা এই বাড়ি সংরক্ষণের উদ্যোগ নিয়েছে। কয়েক বছর চলছে সংস্কারকাজ। ফলে জৌলুস ফিরে পাচ্ছে বাড়িটি।

জমিদার বাড়িটি নাসিরনগর উপজেলা সদর থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দূরে। নাসিরনগর থেকে মাধবপুর যাওয়ার পথে হরিপুর গ্রামের রাস্তার পশ্চিম পাশে দুই গম্বুজের বাড়িটি। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের অধীনে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের পুরাকীর্তির তালিকায় এর নাম আছে। ১৯ শতকে গৌরী প্রসাদ রায় চৌধুরী ও কৃষ্ণ প্রসাদ রায় চৌধুরী এ বাড়ি নির্মাণ করেন। কৃষ্ণ প্রসাদের মৃত্যুর পর বাড়িটির উত্তরাধিকারী হন হরিপদ রায় চৌধুরী ও শান্তি রায় চৌধুরী। তাদের কাছ থেকে বাড়ির মালিকানা ও জমিদারি আসে উপেন্দ্র রায় চৌধুরী ও হরেন্দ্র রায় চৌধুরীর কাছে। ১৯৪৭ সালে দেশবিভাগের পর জমিদারিপ্রথা উচ্ছেদ হলে তারা কলকাতায় চলে যান। বাড়িটিতে ৬০টি কক্ষ, হলঘর, নাচঘর, রংমহল, অতিথিশালা, বিচারালয়, মলপুকুর, খেলার মাঠ, স্মৃতিমঠ ও সীমানাপ্রাচীর আছে। বাড়ির পশ্চিমপাশের শান বাঁধানো ঘাট নেমেছে তিতাসে।

বিশাল এই ভবনের কোথাও কোনো রডের গাঁথুনি নেই। লাল ইট-সুরকির গাঁথুনি দিয়ে তৈরি বাড়িটি। এ বাড়িতে ১৯৯১ সালে বাংলা চলচ্চিত্র মধু মালতী, ২০০৮ সালে ব্রিটিশ-বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ‘দ্য লাস্ট ঠাকুর’ এবং ২০১২ সালে নন্দিত কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদ পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘ঘেটুপুত্র কমলা’ চিত্রায়িত হয়েছে। দর্শনার্থীদের জন্য বাড়িটি সকাল ১০টা থেকে বিকাল ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে। তবে বর্ষাকালে বিকাল ৬টা পর্যন্ত খোলা রাখা হয়।

নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা জানান, প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে দর্শনার্থীরা এখানে আসেন। বর্ষাকালে নৌকা সাজিয়ে, গান বাজিয়ে আসেন অনেকে।

শিমুল ও জয়নাল নামে দুই দর্শনার্থী একই রকম তথ্য দিয়ে বলেন, আমরা অনেকবার এখানে এসেছি। জমিদার বাড়িটি খুবই সুন্দর। বিশেষ করে বর্ষায় এর সৌন্দর্ষ অনেকগুণ বেড়ে যায়।

প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সূত্রে জানা যায়, ২০১৬ সালে বাড়িটির সংস্কারকাজ শুরু হয়, যা এখনো চলছে। বারান্দা, মন্দির, ছাদ ও ঘাটলার সংস্কার হয়েছে। বছর দু-একের মধ্যে পুরো কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম