তবুও বিদেশ ভ্রমণ থেমে নেই সংসদের কর্মকর্তাদের
সরকারের নির্দেশ অমান্য
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৩ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
ফাইল ছবি।
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সংসদ নেই। নেই সংসদীয় কর্মকাণ্ডও। তবুও সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ থেমে নেই। সরকারের নির্দেশনাকে বৃদ্ধাঙ্গুল দেখিয়ে একের পর এক শীর্ষ কর্মকর্তা ব্যস্ত বিদেশ ভ্রমণে। যেন দেখার কেউ নেই।
জানা যায়, ‘সংসদ লার্নিং’ ভিজিটের নামে আজ ইউরোপের দুই দেশ ইতালি ও এস্তোনিয়া সফরে যাচ্ছেন সংসদ সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব একেএম বেঞ্জামিন রিয়াজী, যুগ্মসচিব (লাইব্রেরি অ্যান্ড রিসার্চ) মো. নাজমুল হক, উপসচিব মোহাম্মদ কাওসার আলম, সার্জেন্ট অ্যাট আর্মস মোহাম্মদ রাশেদ সাত্তার, পরিচালক আসিফ ইকবাল এবং কম্পিউটার প্রোগ্রামার মো. আল আমিন হোসাইন।
এর আগে একই প্রোগ্রামের নামে এ দুই দেশ ভ্রমণ করে এসেছেন সংসদ সচিব কানিজ মওলাসহ ৬ জন কর্মকর্তা। তারা সফরে যান ২১ নভেম্বর, ফেরেন ৩০ নভেম্বর। সংসদ সচিবালয়ের এই কর্মকর্তারা হলেন অতিরিক্ত সচিব জহির রায়হান, যুগ্মসচিব মোহাম্মদ সামসুদ্দিন খালেদ, উপসচিব আলী আশরাফ, পরিচালক খলিলুর রহমান খান এবং মেইনটেন্যান্স ইঞ্জিনিয়ার সাদী আনোয়ার চৌধুরী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বিদেশ ভ্রমণের তালিকায় থাকা একজন কর্মকর্তার মেয়ের বিয়ে ২৮ ডিসেম্বর। এ কারণে তিনি ব্যাংককে ট্রানজিট নিয়ে টিকিট করিয়েছেন বিয়ের কেনাকাটার জন্য। বিষয়টি নিয়ে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যেও আলোচনা হচ্ছে। এ বিষয়ে সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলার সঙ্গে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
সংসদ সচিবালয়ের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, বিদেশ ভ্রমণসংক্রান্ত সরকারের নির্দেশনাকে পাশ কাটিয়ে যে ১২ জন বিদেশ ভ্রমণ করছেন, এর মধ্যে সংসদ সচিবালয়ের নিজস্ব কর্মকর্তা রয়েছেন মাত্র তিনজন। বাকিরা ৫ আগস্টের পর প্রেশনে (ডেপুটেশন) সংসদ সচিবালয়ে যোগ দেন। তাদের মধ্যে আবার অনেকে ভালো কোনো মন্ত্রণালয়ে পদায়নের চেষ্টাও করছেন। ফলে মোটা অঙ্কের অর্থ ব্যয় করে ইতালি ও এস্তোনিয়ায় সংসদ লার্নিং ভিজিটের অভিজ্ঞতা সংসদ সচিবালয়ের কোনো কাজে আসবে না বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তারা জানান, শুধু বেড়াতে যাওয়ার জন্যই ইউএনডিপিকে রাজি করিয়ে সংসদের প্রকল্প থেকে লার্নিং ভিজিটের আয়োজন করা হয়েছে। বিদেশ ভ্রমণের বিষয়ে সংসদ সচিবালয় থেকে ১০ নভেম্বর আদেশও জারি করা হয়। অথচ বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের ১ নভেম্বরের নির্দেশনায় আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তাদের একান্ত প্রয়োজন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতন ঘটে। এর একদিন পর ৬ আগস্ট দ্বাদশ জাতীয় সংসদ বিলুপ্ত ঘোষণা করেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। এরপর থেকে প্রায় ১৬ মাস সংসদ সচিবালয়ের ১৪০০ কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে বেশির ভাগেরই তেমন কোনো কাজ নেই। এ অবস্থায় ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগমুহূর্তে সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তাদের বিদেশ ভ্রমণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একান্ত অপরিহার্য কারণ ছাড়া আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগ পর্যন্ত সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদেশ ভ্রমণ না করতে বলা হয়েছে। ২১ অক্টোবর এক পরিপত্রে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দেয় উপদেষ্টার কার্যালয়। নির্বাচন কমিশনের সংস্থাপন শাখার সহকারী সচিব মো. মমতাজ আল শিবলী ইতোমধ্যে আদেশটি সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠিয়েছেন। এ চিঠির আলোকে ইসি এনআইডি মহাপরিচালকসহ সব মাঠ কর্মকর্তাকে বিদেশ সফর সংক্রান্ত সরকারি সিদ্ধান্ত মানতে নির্দেশ দিয়েছে। কিন্তু সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা এটি আমলে নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি।
