Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

বিআইডিএস’র সম্মেলনে রেহমান সোবহান

ঋণখেলাপি নিয়ে সব সংসদ ছিল নীরব

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ০৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ঋণখেলাপি নিয়ে সব সংসদ ছিল নীরব

ছবি: সংগৃহীত

Advertisement

গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. রেহমান সোবহান বলেছেন, অনেক আগে থেকেই ঋণখেলাপির সংকট শুরু হলেও তা নিয়ে সব সংসদই ছিল নীরব। কোনো সংসদে যথাযথ আলোচনা হয়নি। একই সঙ্গে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনার মাধ্যম সংসদ হলেও সেখানে দুর্নীতি, সরকারের অর্থনৈতিক নীতি প্রণয়ন বা উন্নয়নচর্চার মতো বিষয়ে সেই অর্থে সংসদে কোনো আলোচনা হয়নি। সোমবার বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) বার্ষিক সম্মেলনে ‘উন্নয়ন ও গণতন্ত্র’ বিষয়ক আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে পর্যটন ভবন সম্মেলন কক্ষে এ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। দুদিনের গবেষণা সম্মেলনের সমাপনী দিন ছিল এদিন।

এতে সভাপতিত্ব করেন ড. রেহমান সোবহান। অতিথি ছিলেন-বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর, বিআইডিএস’র সাবেক মহাপরিচালক ড. কে.এ.এস মুর্শিদ, সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের সদস্য (সচিব) ড. মঞ্জুর হোসেন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসরিয়াল ফেলো সুলতান হাফিজ রহমান। সভা পরিচালনা করেন বিআইডিএসের মহাপরিচালক এ.কে.এনামুল হক।

রেহমান সোবহান বলেন, আমাদের এখানে একটি বড় সমস্যা হলো আমাদের ‘অকার্যকর সংসদের’ উপস্থিতি। আমরা কখনোই এমন একটি কার্যকর সংসদ পাইনি যেখানে একটি শক্তিশালী বিরোধী দল সংসদে উপস্থিত ছিল এবং পাঁচ বছর ধরে প্রয়োজনীয় সব বিষয় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহিতার আওতায় এনেছে। আমাদের উন্নয়ন সংকট, সুশাসনের অভাব এবং সামগ্রিকভাবে আমরা যেসব সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, তার অন্যতম প্রধান কারণ হলো এমন কোনো সংসদ আমরা পাইনি যেখানে ক্ষমতাসীন সরকারকে তাদের দুঃশাসন, নীতিমালা ও ব্যর্থতার জন্য জবাবদিহিতার মুখোমুখি করা সম্ভব ছিল। এমনকি ‘তথাকথিত গণতান্ত্রিক’ আমলেও বাজেটের ওপর যথাযথ আলোচনার মতো পরিস্থিতি আমাদের ছিল না। এমনকি বাজেটের মতো বিষয়েও বিরোধী দলকে বর্জন করতে দেখা গেছে।

অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেন, সংসদে যখন বাজেট অধিবেশন চলত, বিরোধী দল প্রায় সবসময়ই তা বর্জন করত। ফলে সরকারকে ‘জবাবদিহিতার আওতায়’ আনার জন্য তাদের অর্থনৈতিক নীতিমালা, উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, দুর্নীতি ও এসব বিষয়ে সংসদে কখনোই সেভাবে আলোচনা হয়নি। আপনারা কি কল্পনা করতে পারেন, এত বছর ধরে চলে আসছে খেলাপি ঋণের সংকট, তা নিয়ে সংসদে কখনোই যথাযথ আলোচনা হয়নি? এমনকি এ নিয়ে কোনো অর্থবহ বা জোরাল বিতর্কও অনুষ্ঠিত হয়নি।

তিনি এ উদাহরণ টেনে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্র ও উন্নয়নের মধ্যে সমন্বয় করার ক্ষেত্রে বাস্তবিক অর্থে যে সমস্যা রয়েছে, তা কিছুটা আঁচ করা যাবে বলে তুলে ধরেন। তিনি এ সময় বাংলাদেশের ‘এলিটরা’ অর্থ ও সম্পদ ব্যবহার করে ভোটে নির্বাচিত হয়ে আসছেন বলে তুলে ধরেন। বলেন, এটার মানে আপনারা এমন একটা সংসদ পাচ্ছেন, যা ‘অভিজাতদের’, ‘অভিজাতদের দ্বারা’ এবং ‘অভিজাতদের জন্য’। তারাই প্রকৃতপক্ষে নীতিনির্ধারণ করছে।

এ সময় রাজনৈতিক সংস্কৃতির উদাহরণ বোঝাতে গিয়ে ১৯৭০ সালের নির্বাচনের কথা তুলে ধরেন। বলেন, এটি মনে রাখা উচিত যে, ১৯৭০ সালে যারা সংসদে যাওয়ার জন্য নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন, সে সময়কার অধিকাংশ প্রার্থীই বাস ও রিকশায় চড়ে তাদের নির্বাচনি এলাকায় যেতেন। তাদের আয় ও সম্পদের সক্ষমতা তেমনই ছিল। আর আজ, নিজের একটি পাজেরো গাড়ি না থাকলে কেউ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কথা কল্পনাও করতে পারেন না। বরং তাদের আকাঙ্ক্ষা থাকে, একবার নির্বাচিত হতে পারলেই সংসদ-সদস্য হিসাবে বিশেষ সুবিধায় তারা অন্তত একটি শুল্কমুক্ত পাজেরো গাড়ি তো পাবেনই।

রাজনৈতিক সংস্কৃতির সমালোচনা করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেন, ভোটের সংস্কৃতিতে ‘মার্কা’ দেখে ভোট দেওয়ার প্রবণতা ঠিক নয়। আমরা যদি শুধু মার্কার ভিত্তিতে ভোট দেই, তাহলে অবশ্যই আমরা একজন ‘স্বৈরাচারী প্রধানের জন্য’ পরিবেশ তৈরি করছি। যিনি প্রথমে দল, এরপর সরকার এবং পরবর্তীতে পুরো দেশ পরিচালনার পুরো প্রক্রিয়াটিই দখল করে নিচ্ছেন। আর এরপর যা ঘটে তা হলো এই ‘প্যাট্রন-ক্লায়েন্ট’ সম্পর্ক; অর্থাৎ আমি যদি টিকে থাকতে চাই, যদি ব্যবসায় ভালো করতে চাই, তবে আমাকে সরকারের সঙ্গে আপস করতে হবে। সরকারের সঙ্গেই থাকতে হবে। সে থেকেই ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা বিগত সরকারের সামনে তার পক্ষে রায় দিয়েছেন। ঘুরে ঘুরে যে কথাগুলো আসে-শেখ হাসিনার সময়ের শেষদিককার একটা মিটিংয়ে বলা হয়, ‘আমি তোমাকেই চাই, বারে বারে শুধু তোমাকেই চাই।’ আমাদের বিজনেস কমিউনিটি বলছে যে, ‘তাকে ছাড়া দেশ চলবে না’। এই যে একটা অবস্থায় আমরা নিজেদের নিয়ে যাই, এটার পেছনে কিন্তু আমাদের আত্মবিশ্লেষণের প্রয়োজন আছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম