Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

বকেয়া পাওনা ৪৭০০ কোটি টাকা

এবার এসএস পাওয়ারের বিদ্যুৎ বন্ধের নোটিশ

Advertisement

Icon

শাহেদ সিদ্দিকী

প্রকাশ: ১১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

এবার এসএস পাওয়ারের বিদ্যুৎ বন্ধের নোটিশ

Advertisement

দেশের অন্যতম বৃহৎ কয়লাভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্র ১৩২০ মেগাওয়াটের এসএস পাওয়ারের বকেয়া বিল পরিশোধ না করলে ১৫ ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করা হবে বলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড-পিডিবিকে জানিয়ে দিয়েছে এসএস পাওয়ার। বুধবার কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক থেন জেলিং পিডিবির চেয়ারম্যানকে এক চিঠি দিয়ে বলেছেন, ১৪ ডিসেম্বরের মধ্যে বিদ্যুৎ ক্রয় বাবদ বকেয়া বিলের কমপক্ষে ২০ কোটি ডলার (আড়াই হাজার কোটি টাকা) পরিশোধ করতে হবে। নতুবা ১৫ ডিসেম্বর থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখা হবে। উপরন্তু এ সময়ে বিলের টাকা না পেলে পিডিবির ৬ কোটি ৬০ লাখ ডলারের ব্যাংক গ্যারান্টি ক্যাশ করা হবে।

এর আগে ৫ নভেম্বর আদানি গ্রুপ অনুরূপ চিঠি দেওয়ার পর সরকার তাদের বকেয়া বিল থেকে ৩ কোটি ডলার পরিশোধ করে।

দেশের বহুল আলোচিত এবং বিতর্কিত ব্যবসায়ী গ্রুপ এস আলম এসএস পাওয়ার বিদ্যুৎকেন্দ্রের বেশির ভাগ শেয়ারের মালিক। প্রায় ৭০ শতাংশ। বাকি ৩০ শতাংশ শেয়ারের মালিক চীনা কোম্পানি পাওয়ার চায়না।

এসএস পাওয়ার এক চিঠিতে বলেছে, ১৩২০ মেগাওয়াটের এই কেন্দ্র ২০২৩ সালের অক্টোবরে বাণিজ্যিকভাবে চালু হয়। কিন্তু এরপর থেকে এসএস পাওয়ারকে নিয়মিত বিল দেওয়া হয়নি। যার কারণে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত পিডিবির কাছে এসএস পাওয়ারের পাওনা ৪ হাজার ৭৭৯ কোটি ৩৩ লাখ টাকা বা ৩৯ কোটি ৭৮ লাখ ডলার। চিঠিতে বলা হয়, ঠিকমতো বিল না দেওয়ার কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য নিয়মিত কয়লা, পার্টস ক্রয় এবং ব্যাংক লোন পরিশোধ করা যাচ্ছে না। বিদ্যুৎকেন্দ্রটি চুক্তির বিনিময়ে চালাচ্ছে একটি চাইনিজ কোম্পানি। তার বিলও দেওয়া যাচ্ছে না। এ ব্যাপারে পিডিবিকে বারবার চিঠি দেওয়া হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। তাই বিদ্যুৎ ক্রয়-বিক্রয় চুক্তির (পিপিএ) ১৩.২ (আই) ধারা অনুযায়ী এ চিঠি দেওয়া হচ্ছে। ওই ধারা অনুযায়ী বিল পরিশোধে ব্যর্থ হলে কেন্দ্র বন্ধ ছাড়াও পিডিবির দুই মাসের ব্যাংক গ্যারান্টি ক্যাশ করা হবে।

পিডিবির সদস্য (উৎপাদন) জহিরুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, এখন পর্যন্ত এসএস পাওয়ারের সেই চিঠি পাইনি। তবে তারা পিডিবির চেয়ারম্যানের সঙ্গে বকেয়া বিল নিয়ে দেখা করে গেছেন বলে জানতে পেরেছি। তিনি বলেন, এসএস পাওয়ার অনেক বড় বিদ্যুৎকেন্দ্র। এত বড় কেন্দ্র বন্ধ থাকলে লোড ম্যানেজমেন্ট কঠিন হবে।

তবে পিডিবি জানিয়েছে, এসএস পাওয়ারের বকেয়া বিলের ৪ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা পাওয়ার দাবি ঠিক নয়। তাদের সঙ্গে ৭০০ থেকে ৮০০ কোটি টাকার বিল নিয়ে বিরোধ আছে। পিডিবি জানিয়েছে, এসএস পাওয়ারকে বুধবার বকেয়া বিলের একটি অংশ দিতে রাজি হয়েছে পিডিবি। তবে তারা সেই টাকা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। বিষয়টি জ্বালানি উপদেষ্টা ফাওজুল কবির খানকে জানানো হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এস আলম গ্রুপ ২০১৪ সালের পর এ কেন্দ্র স্থাপনের অনুমতি পায় বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে। কিন্তু এটি চালু হয় ২০২৩ সালের অক্টোবরে। কয়লাভিত্তিক এ কেন্দ্রটি বসাতে বিনিয়োগ হয়েছে দুই বিলিয়ন ডলারের মতো। পিডিবি জানায়, প্রতিমাসে কেন্দ্রটিতে কয়লা ব্যবহার হয় সাড়ে চার লাখ টনের মতো। যার আমদানি মূল্য ৪৫০ কোটি টাকা। এছাড়া এসএস পাওয়ারের ক্যাপাসিটি চার্জ হিসাবে মাসে ৪০০ কোটি টাকা দিতে হয় পিডিবিকে।

এসএস পাওয়ারের উৎপাদিত বিদ্যুতের দাম পড়ে প্রতি ইউনিট ১১ টাকা ৫০ পয়সা। তবে আদানির বিদ্যুতের দাম পড়ে ১৫ টাকার বেশি বলে জানা গেছে। পিডিবি প্রতি ইউনিট বিদ্যুৎ গড়ে ১৫ টাকা দিয়ে কিনে বিক্রি করে ৮ টাকায়। এতে করে তাদের লোকসান হয় কয়েক হাজার কোটি টাকা।

শীত মৌসুমে বিদ্যুতের চাহিদা থাকে অনেক কম। সন্ধ্যাকালীন পিক আওয়ারে বিদ্যুতের চাহিদা ১০ হাজার মেগাওয়াটের মতো। এর মধ্যে বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয় কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে। পিডিবি জানিয়েছে, বুধবার বিকালে এসএস পাওয়ার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে ৬১২ মেগাওয়াট এবং আদানি থেকে হয়েছে এক হাজার ৮০ মেগাওয়াট।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম