Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

অর্থ পাচারসংক্রান্ত জাতীয় কমিটির সভা

পাচারের ৬৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ

Advertisement

Icon

বিশেষ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ১৮ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাচারের ৬৬ হাজার কোটি টাকার সম্পদ অবরুদ্ধ

Advertisement

বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে দেশে ও দেশের বাইরে ৬৬ হাজার ১৪৬ কোটি টাকার মূল্যের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ফ্রিজ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। এর মধ্যে দেশের অভ্যন্তরে ৫৫ হাজার ৬৩৮ কোটি টাকা এবং বিদেশে অবরুদ্ধ সম্পদের পরিমাণ ১০ হাজার ৫০৮ কোটি টাকা। বুধবার অর্থ পাচারসংক্রান্ত জাতীয় সমন্বয় কমিটির সভা শেষে এ তথ্য জানানো হয়। মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিভিন্ন দিকনির্দেশনা এবং নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এ সভা করা হয়।

সভায় বিদেশে টাকা পাচার প্রতিরোধ এবং পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনতে বিদ্যমান মানি লন্ডারিং আইনের কিছু ধারা সংশোধনের মাধ্যমে আইনটি আরও বাস্তবসম্মত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সভায় সভাপতিত্ব করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।

বৈঠকে অগ্রাধিকার কেসগুলোর দ্রুত সম্ভব চার্জশিট দাখিল, সংশ্লিষ্ট দেশে এমএলএআর প্রেরণ এবং মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে কার্যকরী উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেওয়া হয়। অবশ্য ১১টি অগ্রাধিকার কেসের জন্য ২১টি এমএলএআর সংশ্লিষ্ট দেশে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে বিদেশে পাচার করা অর্থ ও সম্পদ উদ্ধারের লক্ষ্যে অগ্রাধিকার হিসাবে চিহ্নিত ১১টি কেসের জন্য গঠিত যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দলের কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে বৈঠকে। এছাড়া বৈঠকে অগ্রাধিকার কেসের ক্ষেত্রে এরই মধ্যে ১০৪টি মামলা এবং ১৪টি মামলায় চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। এছাড়া আদালত ৪টি মামলার রায় দিয়েছেন এমন তথ্য তুলে ধরা হয়।

এদিকে বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ বিদেশ থেকে ফেরত আনতে ৪ থেকে ৫ বছর লাগবে। এ বিষয়ে অনেক অগ্রগতি হয়েছে। সরকার এ বিষয়ে আন্তরিক। কতগুলো কেস চিহ্নিত করতে পেরেছেন জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, ‘সংখ্যাটা এ মুহূর্তে মনে নেই। অনেক মামলা হয়েছে।’

মামলা থেকে অর্থ আসবে কিনা এ ধরনের কোনো আশা পাচ্ছেন কিনা জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, ‘আমাদের কথা বলতে হবে। তবে আমরা খুবই ভাগ্যবান, লন্ডন থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরীর মামলার সমাধান হয়ে যাবে। কারণ মামলাটায় তারা লড়েনি। ফলে এমনিতেই মামলাটা তারা হেরে গেছে। সেখানে একটা সুযোগ আছে। সে টাকাটা কবে আসবে সেটাতো আমি বলতে পারব না। সেটা ফেব্রুয়ারি, মার্চ, এপ্রিল, মে, জুন মাস লাগতে পারে।’ বাকিগুলো আবেদনের ওপর নির্ভর করে। সেটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া। সেখানে আমাদের কিছু করার নেই।

এস আলমের বিষয়ে কি হলো এমন প্রশ্নের জবাবে ড. আহসান এইচ মনসুর বলেন, ‘আমাদের বিরুদ্ধে ওয়াশিংটনে এস আলম আরবিট্রেশন ফাইল মিউটেশন করেছে। চোরের মায়ের বড় গলা। মামলাটা আমরা লড়ব।’

মানি লন্ডারিং ও সন্ত্রাসে অর্থায়ন প্রতিরোধে বিদ্যমান আন্তর্জাতিক মানদণ্ড পরিপালনে বাংলাদেশের অবস্থান মূল্যায়নের জন্য এশিয়া প্যাসিফিক গ্রুপ অন মানি লন্ডারিং (এপিজি) কর্তৃক ২০২৭-২৮ মেয়াদে ৪র্থ পর্বের মিউচুয়্যাল ইভ্যালুয়েশন সম্পন্ন হবে। সভায় মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশনকে সর্বোচ্চ গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম হিসাবে বিবেচনাপূর্বক মিউচ্যুয়াল ইভ্যালুয়েশন মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়, বিভাগ, সংস্থাকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি গ্রহণের নির্দেশনা প্রদান করা হয়।

সভায় দুর্নীতি দমন কমিশনের চেয়ারম্যান, প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, অর্থ সচিব, আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব, লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগের সচিব উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের চেয়ারম্যান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (দ্বিপাক্ষিক), অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, সিআইডি প্রধান, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ পুলিশ ও বিএফআইইউর প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম