Logo
Logo
×

Advertisement

শেষ পাতা

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলার শুনানি জানুয়ারিতে

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে গণহত্যা মামলার শুনানি জানুয়ারিতে

Advertisement

রাখাইনের রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যার অভিযোগে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা মামলার শুনানি শুরু হচ্ছে জানুয়ারিতে। শুক্রবার জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালত আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) জানিয়েছে, ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি এ মামলার শুনানি অনুষ্ঠিত হবে। খবর রয়টার্সের।

মিয়ানমারের বিরুদ্ধে করা এ মামলাকে ঐতিহাসিক হিসাবে দেখা হচ্ছে। কারণ, এক দশকের বেশি সময় পর প্রথমবার আইসিজে কোনো গণহত্যা মামলার মূল বিষয়ের ওপর শুনানি করতে যাচ্ছে। এর প্রভাব গাজা যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার করা মামলায়ও পড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

শুনানির প্রথম সপ্তাহে, ১২ থেকে ১৫ জানুয়ারি নিজেদের যুক্তি তুলে ধরবে পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ গাম্বিয়া। ইসলামি সহযোগিতা সংস্থার (ওআইসি) সমর্থনে ২০১৯ সালে গাম্বিয়া এই মামলা করে। মামলায় অভিযোগ করা হয়, মিয়ানমার রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে গণহত্যা চালিয়েছে।

মিয়ানমার বরাবরের মতোই গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। মিয়ানমার ১৬ থেকে ২০ জানুয়ারি আদালতে নিজেদের অবস্থান উপস্থাপন করতে পারবে। একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত হিসাবে আন্তর্জাতিক আদালত তিন দিন সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য বরাদ্দ করেছে। তবে এই সাক্ষ্যগ্রহণ হবে গোপনে, সেখানে গণমাধ্যম ও জনসাধারণের প্রবেশ থাকবে না।

জাতিসংঘের একটি অনুসন্ধানী মিশন এর আগে জানিয়েছিল, ২০১৭ সালে মিয়ানমারের সামরিক অভিযানে ‘গণহত্যামূলক কর্মকাণ্ড’ অন্তর্ভুক্ত ছিল। ওই অভিযানের ফলে প্রায় ৭ লাখ ৩০ হাজার রোহিঙ্গা পালিয়ে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। মিয়ানমার অবশ্য জাতিসংঘের ওই প্রতিবেদনকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও ত্রুটিপূর্ণ’ বলে উল্লেখ করে প্রত্যাখ্যান করেছিল। কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, তাদের অভিযান ছিল রোহিঙ্গা বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে।

এই মামলা ১৯৪৮ সালের গণহত্যা সনদের আওতায় আনা হয়েছে। নাৎসি হলোকাস্টের পর এই সনদ প্রণীত হয়। এতে গণহত্যাকে এমন কর্মকাণ্ড হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে, যার উদ্দেশ্য কোনো জাতি, জাতিগত, বর্ণগত বা ধর্মীয় গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ধ্বংস করা।

গাম্বিয়া ও মিয়ানমার দুই দেশই এই সনদের স্বাক্ষরকারী। ফলে মামলা শুনানির এখতিয়ার পেয়েছে আইসিজে। সনদ অনুযায়ী, গণহত্যার মধ্যে পড়ে কোনো গোষ্ঠীর সদস্যদের হত্যা, গুরুতর শারীরিক বা মানসিক ক্ষতি করা এবং পরিকল্পিতভাবে এমন জীবনযাপন পরিস্থিতি তৈরি করা, যা ওই গোষ্ঠীর ধ্বংস ডেকে আনে।

১৯৪৮ সালের পর আইসিজে মাত্র একবার গণহত্যা নিশ্চিত করেছে। সেটি ১৯৯৫ সালে বসনিয়ায় প্রায় ৮ হাজার মুসলিম পুরুষ ও কিশোর হত্যার ঘটনা।

এ মামলার রায় ভবিষ্যতের গণহত্যা মামলাগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে। বিশেষ করে গাম্বিয়া এবং মামলায় হস্তক্ষেপকারী কানাডা, ফ্রান্স, জার্মানি ও যুক্তরাজ্য যুক্তি দিয়েছে, গণহত্যা শুধু ব্যাপক হত্যাকাণ্ডেই সীমাবদ্ধ নয়। লিখিত বক্তব্যে তারা আদালতকে গণহত্যার উদ্দেশ্য নির্ধারণে শুধু নিহতের সংখ্যা নয়, বরং জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুতি, শিশুদের বিরুদ্ধে অপরাধ এবং যৌন ও লিঙ্গভিত্তিক সহিংসতার দিকেও নজর দিতে অনুরোধ করেছে।

Advertisement

Advertisement

সম্পর্কিত খবর

৫ বছরেরও বেশি সময় পর ছেলের সঙ্গে কথা বললেন অং সান সু চি

৫ বছরেরও বেশি সময় পর ছেলের সঙ্গে কথা বললেন অং সান সু চি

জাপানে ফের যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক

জাপানে ফের যুক্তরাষ্ট্র ও মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের গোপন বৈঠক

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার-মালয়েশিয়ার আলোচনা

রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমার-মালয়েশিয়ার আলোচনা

মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

মালয়েশিয়া সফরে যাচ্ছেন মিয়ানমারের প্রেসিডেন্ট

মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ, জানালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে প্রায় ১০ হাজার মানুষ, জানালেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী

রাখাইনে বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে বিমান হামলা, নিহত ৮

রাখাইনে বাস্তুচ্যুতদের শিবিরে বিমান হামলা, নিহত ৮

আরও পড়ুন

প্রশাসনের নাকের ডগায় ভুয়া জার্মান ক্লাব বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা

বিদেশি ক্লাবের সাইনবোর্ডে রমরমা মাদক ব্যবসা

যেন হাজারো লাল-বুক টিয়ার বাড়ি

যেন হাজারো লাল-বুক টিয়ার বাড়ি

বনপাড়া-হাটিকুমরুল মহাসড়কে মৃত্যুর মিছিল এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি সুপারিশ

এক যুগেও বাস্তবায়ন হয়নি সুপারিশ

পানাম ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ

অর্থনৈতিক জরুরি অবস্থায় বাংলাদেশ

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম