ইতিহাসের সংযোগে ২০২৫
বদলে গেছে রাজনীতির গতিপথ
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ঘটনাবহুল ২০২৫ বদলে দিয়েছে দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক গতিপথ। শুধু ক্যালেন্ডারের পাতায় নয়, বছরটি ছিল ইতিহাসের সংযোগস্থল। বছরজুড়ে আছড়ে পড়েছে পরিবর্তনের ঢেউ। ছিল দাবি আদায়ের আন্দোলনের উত্তাপ। সব মিলিয়ে বিস্ময় ও প্রত্যাশার এক অনন্য অধ্যায় দেখেছে বাংলাদেশ। বছরের শেষ প্রান্তে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল জাতিকে দিয়েছে নতুন দিশা। যা ভবিষ্যতের ভিত্তি নির্মাণের সূচনা হিসাবে দেখছেন অনেকেই। এ বছরে ঘটে যাওয়া অনেক ঘটনা হবে ইতিহাসের সাক্ষী। আবার কিছু ঘটনা দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বমঞ্চে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বছরের আলোচিত যেসব ঘটনা-
শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড : ২০২৫ সালে দেশে সবচেয়ে আলোচিত ছিল পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ড। জুলাই-হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা হিসাবে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে গত বছরের ১৭ নভেম্বর এই রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। দেশে রাষ্ট্র কিংবা সরকার প্রধানদের মধ্যে তিনিই প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধে দণ্ডিত হলেন। প্রশ্নবিদ্ধ নির্বাচনের মাধ্যমে টানা ১৫ বছর ক্ষমতায় থেকে স্বৈরশাসকের তকমা পান শেখ হাসিনা। শেষ পর্যন্ত ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ক্ষমতা ছেড়ে ভারতে পালিয়েছেন তিনি। এরপর জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের তদন্ত রিপোর্টেও তার ভয়াবহ অপরাধের প্রমাণ মিলেছে। আইন অনুসারে ট্রাইব্যুনালে রায়ের পর আসামিকে আত্মসমর্পণ করে ৩০ দিনের মধ্যে উচ্চ আদালতে আপিল করতে হয়। সে হিসাবে আপিলের শেষ সময় ছিল ১৭ ডিসেম্বর। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে তিনি আপিল করেননি। ফলে এখন ধরা পড়লেই তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হবে। এদিকে শেখ হাসিনাকে দেশে ফেরাতে ভারতের কাছে আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। কিন্তু দেশটি কোনো সাড়া দেয়নি। এছাড়াও রেড অ্যালার্ট জারির জন্য আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের কাছে আহ্বান জানানো হয়েছে।
খালেদা জিয়ার মৃত্যু : দেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে সবচেয়ে আপসহীন নেত্রী বিএনপির চেয়ারপারসন ও তিনবারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। ৩০ ডিসেম্বর সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। বছরের শেষ সময়ে তার মৃত্যু পুরো দেশের হিসাব-নিকাশ পালটে দেয়। দেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এই রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে-দল, মত নির্বিশেষে পুরো দেশ একত্রিত হয়ে যায়। শুধু বাংলাদেশে নয়, বিশ্বের সব প্রভাবশালী মিডিয়ায় বড় আকারে স্থান পেয়েছে খালেদা জিয়ার মৃত্যু সংবাদ। এই ঘটনায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক এবং ১ দিনের সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে সরকার। জাতির উদ্দেশে ভাষণে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বলেন, খালেদা জিয়ার মৃত্যু দেশের জন্য গণতন্ত্রের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে ৩১ ডিসেম্বর তাকে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের সমাধির পাশে লাশ দাফন করা হয়। তার জানাজায় স্মরণকালের সবচেয়ে বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। অংশ নিয়েছেন ভারত পররাষ্ট্রমন্ত্রী, পাকিস্তানের জাতীয় পরিষদের স্পিকারসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কূটনৈতিকরা। ২৩ নভেম্বর হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার মারাত্মক অবনতি ঘটে। ওই দিনই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকেই দলমত নির্বিশেষে দেশের সব শ্রেণি-পেশার সবার দোয়া এবং প্রার্থনায় ছিলেন তিনি। দেশের ইতিহাসে এ ধরনের ঘটনা আর কখনো ঘটেনি। মসজিদে মসজিদে তার জন্য দোয়া ও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
খালেদা জিয়াকে বিশেষ নিরাপত্তা দিয়ে ভিভিআইপি প্রটোকলের আওতায় নিয়ে আসে সরকার।
জুলাই সনদ ও আদেশ : আলোচ্য বছরে দেশে অন্যতম বিষয় ছিল ‘জুলাই জাতীয় সনদ ২০২৫’ ঘোষণা। রাষ্ট্র সংস্কারে ৮৪টি বিষয়ে ঐকমত্য পোষণ করেছে জুলাই অভ্যুত্থানের পক্ষে থাকা বিভিন্ন রাজনৈতিক দল। অধ্যাপক আলী রীয়াজের নেতৃত্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সঙ্গে দলগুলোর তিন দফায় ৭৮টি বৈঠকে এই সনদ চূড়ান্ত হয়। জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় ১৭ অক্টোবর ঐকমত্যের এই দলিলে ২৫টি দল সই করে। প্রধান উপদেষ্টার ভাষায় ‘বর্বরতা থেকে সভ্যতায় আসার প্রমাণ’ এই দলিল। তবে এই সনদের চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি নিয়ে বিভক্ত হয়ে পড়ে বিএনপি-জামায়াত। কারণ সনদে মৌলিক সংস্কারের বেশকিছু ধারায় বিএনপির নোট অব ডিসেন্ট (আপত্তি) ছিল। শেষ পর্যন্ত দুদলই তাদের অবস্থানে কিছু ছাড় দিয়ে ঐকমত্যে এসেছে। এরপর ১৩ নভেম্বর জুলাই সনদ বাস্তবায়ন আদেশ জারি করেন রাষ্ট্রপতি। ওই অনুসারে জুলাই সনদের চূড়ান্ত আইনি ভিত্তি দিতে আগামী বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় নির্বাচনের দিনে গণভোট অনুষ্ঠিত হবে।
মব রাজত্ব : অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশে রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে গুম খুনের অভিযোগ নেই। কিন্তু মানবাধিকার সংগঠন ও সংস্থাগুলোর কাছে বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে অজ্ঞাতনামা লাশের সারি, কারা ও নিরাপত্তা হেফাজতে মৃত্যু ও মব সন্ত্রাস। মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’র প্রতিবেদন অনুসারে শেখ হাসিনার পতনের পর থেকে রাজনৈতিক সহিংসতায় মারা গেছে অন্তত ২৮১ জন। এর মধ্যে অন্তত ৪০ জনকে বিচারবহির্ভূতভাবে এবং ১৫৩ জনকে গণপিটুনিতে হত্যা করা হয়। আইন ও সালিশ কেন্দ্রের তথ্য অনুসারে গত বছরের ৮ আগস্টের পর থেকে চলতি বছর নভেম্বর পর্যন্ত ১৫ মাসে কারা হেফাজতে মারা গেছেন অন্তত ১১২ জন।
রাজনৈতিক অস্থিরতা ও আন্দোলনের বছর : রাজনৈতিক বিবেচনায় আলোচ্য বছর ছিল সবচেয়ে অস্থিরতার। সরকারি তথ্য মতে, গত ১৬ মাসে দেশে ২ হাজারের বেশি আন্দোলন হয়েছে। এর মধ্যে চলতি বছরে আন্দোলন হয়েছে দেড় হাজারের বেশি। অসংখ্য মব, বেশ কয়েকটি অগ্নিসংযোগ, হত্যাকাণ্ড ও বেশ কয়েকটি লুটপাটের ঘটনা ঘটেছে। এ সময়ে বেতন-ভাতার দাবিতে শিক্ষকদের আন্দোলন, নানা দাবিতে সচিবালয় ভেতরে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আন্দোলন, অর্থ উপদেষ্টাকে ঘেরাও করে রাখার ঘটনা ছিল উল্লেখযোগ্য।
তারেক রহমানের দেশে ফেরা : দীর্ঘ ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন শেষে ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসন তারেক রহমান। ওই দিন তাকে সংবর্ধনা জানাতে ঢাকার ৩০০ ফুট এলাকামুখী স্মরণকালের সবচেয়ে বড় জনস্রোত ছিল। বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের শাসন থেকে গণতান্ত্রিক উত্তরণে ফেরার ক্ষেত্রে যে অনিশ্চয়তার আশঙ্কা ছিল, তারেক রহমানের দেশে ফেরার মাধ্যমে তা অনেকাংশেই কেটে গেছে। চাঙা হয়েছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা। বিএনপির এই শীর্ষ নেতার নিরাপত্তা নিশ্চিতে সর্বোচ্চ ব্যবস্থা নিয়েছে সরকার।
ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড : সাম্প্রতিক সময়ে দেশে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছে ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ড। ঢাকা ৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েছিলেন তিনি। নির্বাচনের প্রচার কাজের সময় ১২ ডিসেম্বর রাজধানীর বিজয় নগরে দুর্বৃত্তের গুলিতে গুরুতর আহত হন হাদি। বাংলাদেশে চিকিৎসা শেষে মুমূর্ষু অবস্থায় তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়। হাদির মৃত্যুর প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠে পুরো দেশ। ১ দিনের জাতীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। ১৯ ডিসেম্বর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় তার জানাজায় কয়েক লাখ মানুষ অংশ নিয়েছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় জামে মসজিদের পাশে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সমাধির পাশে তার লাশ দাফন করা হয়। এই ঘটনায় জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের প্রভাবশালী সংস্থাগুলো শোক জানিয়েছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে প্রথম আলো, ডেইলি স্টার পত্রিকায় আগুন দেয় একদল দুর্বৃত্ত।
ভারতের সঙ্গে বৈরী সম্পর্ক : ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর থেকেই দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের শীতল সম্পর্ক তৈরি হয়। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে অভিনন্দন জানিয়েছিল ভারত। কিন্তু ভারতে পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলতে সুযোগ দেওয়ায় দুদেশের সম্পর্কে দূরত্ব আরও বেড়েছে। দুদেশের পালটাপালটি বিবৃতি, রাষ্ট্রদূতকে তলব, রাজনীতিবিদদের উসকানিমূলক বক্তব্য, ভিসা বন্ধ, সীমান্তে শক্তি বৃদ্ধি, ভারতীয় মিডিয়ায় বাংলাদেশবিরোধী প্রোপাগান্ডা এবং রেল যোগাযোগ বন্ধের মতো ঘটনায় সম্পর্কের দূরত্ব আরও স্পষ্ট হয়ে উঠে। চলতি বছরের ৪ এপ্রিল থাইল্যান্ডে বিমসটেক সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং অধ্যাপক ইউনূসের বৈঠকের পরও সম্পর্কের উন্নতি হয়নি।
জাতিসংঘ মহাসচিবের বাংলাদেশ সফর : চলতি বছরের ১৩ থেকে ১৬ মার্চ পর্যন্ত ৪ দিনের সফরে ঢাকায় আসেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। এই সফর ছিল বাংলাদেশের জন্য অনেক গুরুত্বপূর্ণ। সফরের সবচেয়ে বড় বিষয় ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি জাতিসংঘের অকুণ্ঠ সমর্থনের জানান দেওয়া। এছাড়াও সফরে রোহিঙ্গা সংকট মোকাবিলায় করণীয়, বাংলাদেশে জাতিসংঘের সহায়তা বাড়ানো এবং নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা।
ভূমিকম্প আতঙ্ক : চলতি বছরের ২১ নভেম্বর ভূমিকম্প ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে বড় ধরনের ঝাঁকুনি দিয়েছে। ৫ দশমিক ৭ মাত্রার এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ছিল নরসিংদীর মাধবদী। এই ঘটনায় বিল্ডিং ধসে ১০ জন নিহত ও শতাধিক আহত হন। ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আরও কয়েকবার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ফলে পুরো দেশেই ভূমিকম্প আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
মাইলস্টোন ট্র্যাজেডি : ২১ জুলাই রাজধানীর উত্তরায় মাইল স্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ওপর আছড়ে পড়ে প্রশিক্ষণরত বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমান এফ-৭, বিজিআই যুদ্ধ বিমান। এতে বিমানের পাইলট, স্কুলের একজন শিক্ষক এবং ৩৪ শিশুসহ ৩৬ জন মারা গেছেন। আহত হয় ১৭৩ জন কোমলমতি শিক্ষার্থী। এই ঘটনায় ৩ দিনের রাষ্ট্রীয় শোক ঘোষণা করে সরকার। এটা ছিল বছরের সবচেয়ে আলোচিত হৃদয়বিদারক ঘটনা।
ছাত্র সংসদ নির্বাচন : দেশের শীর্ষস্থানীয় চারটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচন ছিল অন্যতম আলোচিত ঘটনা। বিপুল উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু), চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (চাকসু), জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু) এবং রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। চারটি নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ছাত্র সংগঠন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র শিবির নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।
ব্যাংক একীভূত ও এনবিআর দুভাগ : গত এক বছরে দেশের অর্থনীতিতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়েছে। এর মধ্যে পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে লুট হওয়া ৫টি ব্যাংক একত্রিত করে নতুন ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। এর নাম দেওয়া হয়েছে ইউনাইটেড ইসলামী ব্যাংক। যে ৫টি ব্যাংক একীভূত হয়েছে সেগুলো হলো-ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক। এছাড়াও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ভেঙে দুভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো-রাজস্বনীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ। অন্যদিকে প্রথমবারের মতো ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণ প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। যা দেশের বিতরণকৃত মোট ঋণের ৩৬ শতাংশ। সারা বিশ্বে এ ধরনের ঘটনা বিরল।
সাবেক প্রধান বিচারপতির গ্রেফতার : ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমন্ডির একটি বাসা থেকে গ্রেফতার হন দেশের সাবেক প্রধান বিচারপতি এবিএম খায়রুল হক। যাত্রাবাড়ী ও নারায়ণগঞ্জে মোট তিনটি মামলায় তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়। বর্তমানে তিনি কারাগারে। বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো প্রধান বিচারপতি গ্রেফতারের ঘটনা এটাই প্রথম। ১৩ বছর আগে তিনি তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল করে দেশ থেকে গণতন্ত্রের কবর রচনা করেছিলেন। বাংলাদেশের আজকের পরিস্থিতির জন্য এককভাবে যদি কাউকে দায়ী করা যায় তিনি এই খায়রুল হক।

