Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

থানা জ্বালিয়ে দেওয়ার হুমকি

মধ্যরাতে আদালতে নেওয়া হলো আটক মাহদী হাসানকে

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন ও হবিগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ০৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

মধ্যরাতে আদালতে নেওয়া হলো আটক মাহদী হাসানকে

Advertisement

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় হবিগঞ্জের বানিয়াচং থানায় আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়ার বক্তব্যে গ্রেফতার বৈষম্যবিরোধী সেই নেতা মাহদী হাসানকে মধ্যরাতে আদালতে পাঠানো হয়েছে। শনিবার রাত ১২টায় তাকে হবিগঞ্জ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পাঠানো হয়। এদিকে, মাহদী গ্রেফতারের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগ মোড় অবরোধ করে সংগঠনটির নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ করেন। শনিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে তারা শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি শুরু করেন। তবে রাত সাড়ে ১২টার দিকে তারা শাহবাগ ছেড়ে চলে যান। এর আগে মাহদীর নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দেওয়া হয়। 

শনিবার রাত পৌনে ৮টার দিকে হবিগঞ্জ শহরের শাস্তানগর এলাকার একটি বাসা থেকে মাহদীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এ খবর পেয়ে ছাত্রজনতা সদর থানার সামনে অবস্থান নিয়ে তার মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এ সময় তারা নানা স্লোগান দেন। ক্রমেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে সেনাবাহিনী থানার সামনে অবস্থান নেয়। বৈষম্যবিরোধী নেতারা থানায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। এরপর রাতেই তাকে আদালতে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়।

জামিনে তাকে ছাড়ার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। জেলা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের আহ্বায়ক আরিফ তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করে সবাইকে শান্ত থাকার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, হাদি সারা বাংলাদেশে জন্মেছে। এ মাহদী হবিগঞ্জের হাদি। পুলিশ জানিয়েছে, সন্তোষ হত্যার কোনো মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়নি। ৫ আগস্টের ঘটনায় কোনো মামলা যেহেতু চলবে না, সেহেতু এ মামলায় গ্রেফতার করার কোনো সুযোগ নেই। আমরা মাহদীকে জামিনে মুক্ত করে আনন্দ মিছিল করব। তবে এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে অংশ নেওয়া এক ছাত্রলীগ নেতাকে গ্রেফতারের পর থানা থেকে তাকে ছাড়াতে গিয়ে এ বক্তব্য দেন মাহদী হাসান। বক্তব্যের ভিডিও তিনি নিজের ফেসবুকে শেয়ারও করেন। ভিডিওতে তাকে বলতে দেখা যায়, ‘আন্দোলনের সময় আমরা বানিয়াচং থানা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম। এসআই সন্তোষকে পুড়িয়ে মারা হয়েছিল।’ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মাহদীর ওই বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।

রাতে শাহবাগ মোড়ের মাঝখানে অবস্থান নেন বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। সেখানে তারা আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করছেন। এর মধ্যে একটু পর পর তারা ‘জ্বালো রে জ্বালো, আগুন জ্বালো’; ‘ইনকিলাব ইনকিলাব, জিন্দাবাদ জিন্দাবাদ’; ‘মুক্তি মুক্তি চাই, মাহদীর মুক্তি চাই’ এমন স্লোগান দিচ্ছেন।

শোকজ ও সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার নির্দেশ : এদিকে এ ঘটনার পরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জ জেলার সদস্য সচিব মাহদী হাসানকে কারণ দর্শানোর (শোকজ) চিঠি দেওয়া হয়েছে। শনিবার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দপ্তর সম্পাদক শাহাদাত হোসেন স্বাক্ষরিত চিঠিটি তাকে পাঠানো হয়। চিঠিটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে পোস্ট করা হয়। বক্তব্য ‘স্লিপ অব টাং’ : অন্যদিকে শনিবার নিজের ফেসবুকে একটি ব্যাখ্যা দিয়েছেন বৈষম্যবিরোধী নেতা মাহদী হাসান। সেখানে তিনি বলেছেন, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এক ভাইকে গ্রেফতারের ঘটনায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতিতে তার একটি বক্তব্য ‘স্লিপ অব টাং’ হয়েছে। যা ছড়িয়ে দেশবাসীর কাছে ভুল বার্তা যাচ্ছে। আমি মূলত উক্ত থানায় গিয়েছিলাম আমার একজন জুলাই সহযোদ্ধা ভাইকে বাঁচানোর জন্য। মূলত আন্দোলনে তার ভূমিকার যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ আমি প্রশাসনের কাছে পাঠানোর পরও তারা তাকে ছাড়তে টালবাহানা করে। একপর্যায়ে আমি নিজের ওপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি।


Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম