রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য
মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত সবচেয়ে বেশি
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ২০২৫ সালে ৭ হাজার ৫৮৪টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ৭ হাজার ৩৫৯ জন এবং আহত হয়েছেন ১৬ হাজার ৪৭৬ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ১৩.০৭ শতাংশ এবং শিশু রয়েছে ১৩.৬৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় সবচেয়ে বেশি নিহত হয়েছেন ২৬৭১ জন, যা মোট নিহতের ৩৬.২৯ শতাংশ। মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার হার ৩৯.৯৩ শতাংশ।
শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনী হলে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় সংগঠনটি। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন সংগঠনের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. এআই মাহবুব উদ্দিন আহমেদ।
তিনি জানান, এ সময়ে দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৫৬৪ জন পথচারী নিহত হয়েছেন, যা মোট নিহতের ২১.২৫ শতাংশ। যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৯৪১ জন, অর্থাৎ ১২.৭৮ শতাংশ। এই সময়ে ১৩২টি নৌদুর্ঘটনায় ১৪৯ জন নিহত, ১২৩ জন আহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। ৫১৯টি রেলপথ দুর্ঘটনায় ৪৭৮ জন নিহত এবং ১৫২ জন আহত হয়েছেন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ৯টি জাতীয় দৈনিক, ৭টি অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইলেকট্রনিক গণমাধ্যম এবং সংস্থার নিজস্ব তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে।
সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণ হিসাবে সংগঠনটি বলছে-ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, ওভারলোড, চালকদের অদক্ষতা ও অসুস্থতা, চালকদের বেতন-কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো ও মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল। এছাড়া তরুণ-যুবকদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো; জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা; দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা; বিআরটিএ’র সক্ষমতা ও জবাবদিহিতার ঘাটতি; আইন প্রয়োগে দুর্বলতা ও গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি অন্যতম।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সংগঠনটির পক্ষ থেকে ২১ দফা প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এগুলো হলো-জাতীয় সড়ক নিরাপত্তা কাউন্সিল পুনর্গঠন করে এর অধীনে বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিআইসিএ পরিচালনা; কাউন্সিলের হাতে আইন, বিধি ও নীতিমালা প্রণয়নের ক্ষমতা প্রদান; বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিআইসিএ’র ব্যবস্থাপনা ও কাঠামোগত সংস্কারের মাধ্যমে কার্যকারিতা, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। এছাড়া বিআরটিএ, বিআরটিসি ও ডিআইসিএ’র শীর্ষ পদে প্রশাসন ক্যাডারের পরিবর্তে সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে দক্ষ-অভিজ্ঞ, বিশেষজ্ঞ ব্যক্তিদের নিয়োগ দিতে হবে। মোটরযানে আইটিএস, জিপিএস এবং আরটিএসএমএস-সহ আধুনিক নিরাপত্তা প্রযুক্তির ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে হবে। প্রস্তাবনার মধ্যে আরও রয়েছে-সড়ক নিরাপত্তা আইন প্রণয়ন; মেয়াদোত্তীর্ণ বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যানসহ পণ্যবাহী যানবাহন দ্রুত প্রত্যাহার; দক্ষ চালক তৈরির প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগ বৃদ্ধি; চালকদের বেতন, কর্মঘণ্টা, স্বাস্থ্যসেবাসহ পেশাগত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত; মোটরসাইকেলের গতি নিয়ন্ত্রণে ইন্টারনেট অফ থিংস প্রযুক্তি এবং মানসম্মত হেলমেট ব্যবহার; অটোরিকশা ও নসিমন-ভটভটি ইত্যাদি ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনের নিরাপত্তা ব্যবস্থা উন্নত করে নিবন্ধন ও চালকদের মোটিভেশনাল প্রশিক্ষণ প্রদান; নিয়মিত রোড সেফটি অডিট; রাজধানীতে রুট রেশনালাইজেশনের মাধ্যমে কোম্পানিভিত্তিক আধুনিক বাস সার্ভিস চালু; রাজধানীর স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের জন্য প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব বাস সার্ভিস বাধ্যতামূলক করা; সব রেলক্রসিংয়ে গেট-কিপার নিয়োগ; মহাসড়কের পাশে ট্রমা-কেয়ার সেন্টার স্থাপন; সড়ক, রেল ও নৌপরিবহণ একত্রিত করে একটি অভিন্ন যোগাযোগ মন্ত্রণালয় গঠন; সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে আর্থিক সহযোগিতা নিশ্চিত করার জন্য ট্রাস্ট ফান্ডে বছরে ৭শ কোটি টাকা বরাদ্দ প্রদান; গণপরিবহণে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর উদ্যোগ। সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
