Logo
Logo
×

শেষ পাতা

ময়মনসিংহে পাঁচ পুলিশকে কুপিয়ে আসামি ছিনতাই

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ১৫ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ময়মনসিংহে পাঁচ পুলিশকে কুপিয়ে আসামি ছিনতাই

ময়মনসিংহ নগরীতে এজাহারভুক্ত মামলার এক আসামিকে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে যাওয়ার পথে পুলিশকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া গাজীপুরে পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি আওয়ামী লীগ নেতাকে ছিনিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। পুলিশ টাকার বিনিময়ে আসামি ছিনতাই নাটক সাজিয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন এক আইনজীবী। ব্যুরো ও প্রতিনিধির পাঠানো খবর-

ময়মনসিংহ : আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় পুলিশ ও র‌্যাব রাতভর অভিযান চালিয়ে ওই আসামির বাবাসহ সাতজনকে গ্রেফতার করেছে। গ্রেফতার আতঙ্কে ওই এলাকার বেশির ভাগ পুরুষ এখন গ্রামছাড়া। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন-নগরীর দিঘারকান্দা (ফিশারির মোড়) এলাকার সুমেদ আলীর ছেলে সাগর আলী, সাগর আলীর ছেলে একেএম রেজাউল করিম, মজুর উদ্দিনের ছেলে মো. নাজিম উদ্দিন ও মো. সুজন মিয়া, মোহাম্মদ আলীর ছেলে মো. খলিলুর রহমান, আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে মো. নাজিম উদ্দিন ও সদর ইউনিয়নের চর বড়বিলা এলাকার জবেদ আলী মুন্সির ছেলে জয়নাল উদ্দিন।

মঙ্গলবার বিকালে নগরীর দিগারকান্দা ফিশারি মোড়ে মামলার আসামি স্থানীয় সাগর আলীর ছেলে আরিফুল ইসলামকে ধরতে গেলে এ ঘটনা ঘটে। এ সময় হামলাকারীরা পাঁচ পুলিশ সদস্যকে কুপিয়ে জখম করে এবং হাতকড়াসহ আসামিকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ফরিদ আহমেদ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ভর্তি রয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন বলে জানান কোতোয়ালি থানায় ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুস সাকিব।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার রাতে কোতোয়ালি থানা পুলিশের সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. আরিফুল ইসলাম বাদী হয়ে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় মামলা করেছেন। এতে ২৯ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ১৪০ থেকে ১৫০ জনকে আসামি করা হয়।

কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নাজমুস সাকিব জানান, পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে হাতকড়াসহ আরিফুল ইসলাম নামে আসামিকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

গাজীপুর : পুলিশের ওপর হামলা করে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গাজীপুর মহানগরের গাছা থানার ৩৫ নম্বর ওয়ার্ড কামারজুড়ি রোর্ডের বাধেকল্মেশ্বরের উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ছিনিয়ে নেওয়া আসামি স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ নেতা মো. কামরুজ্জামান জামান। তিনি প্রয়াত আওয়ামী লীগ নেতা মাইনুদ্দিন চেয়ারম্যানের ছেলে এবং গাছা থানার মামলার এজহার নামীয় আসামি।

এ মামলায় পতিত আওয়ামী লীগ নেতা শেখ হাসিনা, ওবায়দুল কাদের, আ ক ম মোজাম্মেল হক, জাহিদ আহসান রাসেল, আজমত উল্লা খান ও একাধিক হত্যাসহ ৩৪ মামলার আসামি মামুন মন্ডলসহ ২২৭ জন আসামি। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গাছা থানার এএসআই রেজাউলসহ কয়েকজন পুলিশ সদস্য মঙ্গলবার বিকালে ওই এলাকায় আসেন। পরে জুলাই আন্দোলনের ছাত্র-জনতার ওপর গুলি বর্ষণসহ সহিংসতার ঘটনায় করা মামলার এজহারভুক্ত আসামি কামরুজ্জামানকে গ্রেফতার করে রাজুর চা-এর দোকানে বসে আলাপ করতে থাকেন।

একপর্যায়ে কিছু লোক পুলিশের সোর্স মো. সুমনকে পিটিয়ে মাটিতে ফেলে দেয় এবং এএসআই রেজাউলকে কিল-ঘুসি মেরে আসামি কামরুজ্জামানকে ছিনিয়ে নিয়ে যান। এ সংবাদে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মনির হোসেন পুলিশ সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। নাম প্রকাশে একজন আইনজীবী জানান, অভিযোগ রয়েছে ওই পুলিশ কর্মকর্তা মামলার এজহার নামীয় আসামিকে ধরে অর্থের বিনিময়ে ছেড়ে দিয়ে আসামি ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজিয়েছেন। না হলে আসামি ধরে চায়ের দোকানে বসিয়ে গল্প করার কী আছে?

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম