Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন

ভারতে বসে ফেরার ছক কষছেন আ.লীগ নেতারা

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

ভারতে বসে ফেরার ছক কষছেন আ.লীগ নেতারা

Advertisement

মানবতাবিরোধী অপরাধ, হত্যা, রাষ্ট্রদ্রোহ ও দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হয়ে পলাতক থাকা আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতারা ভারতে বসে বাংলাদেশের রাজনীতিতে ফেরার ছক কষছেন। বর্তমানে তারা কলকাতা ও দিল্লিতে আত্মগোপনে আছেন। শহর দুটিকে কেন্দ্র করে দল পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের কৌশল নির্ধারণে তারা ধারাবাহিক বৈঠক, যোগাযোগ ও সমন্বয় চালাচ্ছেন। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে এমন তথ্য পাওয়া গেছে। নিষিদ্ধ দলটির নির্বাসিত নেতাকর্মীদের বিশ্বাস-পরিস্থিতি বদলে যাবে এবং খুব দ্রুতই তাদের নির্বাসনের সময় শেষ হবে।

মঙ্গলবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কলকাতার শপিংমলের ভিড় ঠাসা ফুডকোর্টে কালো কফি আর ভারতীয় ফাস্টফুড খেতে খেতে নির্বাসিত আওয়ামী লীগের রাজনীতিকরা বসে নিজেদের রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের ছক কষছেন। প্রায় ১৬ মাস আগে এক গণ-অভ্যুত্থানে শেখ হাসিনা দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। এরপর তার দলের হাজার হাজার নেতাকর্মী দেশ ছাড়েন। দলীয় শাসনামলের অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে তারা জনরোষ ও একের পর এক মামলার মুখে পড়েন। আওয়ামী লীগের ৬০০ নেতা কলকাতায় আশ্রয় নেন। সেখানে তারা আত্মগোপনে রয়েছেন।

গত বছরের মে মাসে অন্তর্বর্তী সরকার জনচাপের মুখে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে। হত্যা ও দুর্নীতিসহ নানা অপরাধের অভিযোগে দলের শীর্ষ নেতাদের বিরুদ্ধে তদন্ত ও বিচার শুরু হয়। আসন্ন নির্বাচনে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। গত বছরের শেষদিকে একটি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন। তার রাজনৈতিক জীবন শেষ হয়ে গেছে-এমনটা মানতে নারাজ শেখ হাসিনা। এ রায়কে ‘মিথ্যা’ বলে তিনি উড়িয়ে দিয়েছেন। ভারত থেকে তিনি প্রত্যাবর্তনের পরিকল্পনা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসাবে আসন্ন নির্বাচন ভন্ডুল করতে হাজার হাজার সমর্থককে তিনি সক্রিয় করার চেষ্টা করছেন।

দিল্লিতে কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত গোপন আশ্রয় থেকে শেখ হাসিনা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা দলীয় বৈঠক ও বাংলাদেশের ভেতরে থাকা নেতাকর্মীদের সঙ্গে ফোনালাপ করছেন। দলীয় কৌশল ঠিক করতে সাবেক এমপি ও মন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতাদের নিয়মিত কলকাতা থেকে দিল্লিতে ডেকে পাঠানো হয়েছে। তাদের একজন ছিলেন ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন। তিনি বলেন, আমাদের নেত্রী শেখ হাসিনা সারাক্ষণ বাংলাদেশের নেতাকর্মী, তৃণমূল ও বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। আসন্ন সংগ্রামের জন্য তিনি দলকে প্রস্তুত করছেন। সাদ্দাম হোসেনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহ ও মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘কখনো কখনো তিনি (শেখ হাসিনা) দিনে ১৫-১৬ ঘণ্টা ফোনে কথা বলেন বা বৈঠক করেন। আমরা বিশ্বাস করি শেখ হাসিনা একজন নায়ক হিসাবে দেশে ফিরবেন।’

সাবেক মন্ত্রী জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, আমরা আমাদের কর্মীদের বলেছি-এ ভুয়া নির্বাচনে অংশ না নিতে। ভোট বর্জন করতে এবং কোনো প্রচারণায় না যেতে। বাংলাদেশে যারা আওয়ামী লীগের ১৫ বছরের শাসনকে স্বৈরতন্ত্র ও লুটপাটের শাসন বলে মনে করেন, তাদের কাছে দলটির হঠাৎ করে গণতন্ত্র, মানবাধিকার ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার কথা বলা গভীর সন্দেহের জন্ম দিয়েছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম