আদানির চুক্তি চাইলেই বাতিল করা সহজ নয়: জ্বালানি উপদেষ্টা
Advertisement
বিশেষ প্রতিনিধি
প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মোহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেছেন, আদানির চুক্তির অসংগতি নিয়ে সরকার গঠিত জাতীয় কমিটি রিপোর্ট দিয়েছে। চাইলেই আদানির সঙ্গে চুক্তি বাতিল করা যায় না। কারণ এটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। হুট করে বাতিল করলে তারা আন্তর্জাতিক আদালতে যাবে। তখন তাদের অনেক টাকা জরিমানা দিতে হবে। তবে এ ব্যাপারে নির্বাচিত সরকার ব্যবস্থা নিতে পারে। রোববার বিদ্যুৎ ভবনে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভা শেষে ব্রিফিংয়ে তিনি একথা বলেন। এক প্রশ্নের জবাবে জ্বালানি উপদেষ্টা বলেন, আগামী গ্রীষ্মে চরম লোডশেডিং হবে এটা ঠিক নয়। আগামী সরকারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকার সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করে যাচ্ছে। যাতে করে তারা বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়তে না হয়।
তিনি বলেন, অনেক কাজ করতে চেয়েও পারিনি। কারণ বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত ছিল একটি দুর্নীতিগ্রস্ত ও ভঙ্গুর খাত। সেখান থেকে জবাবদিহির মাধ্যমে এ খাতকে স্থিতিশীল করা হয়েছে। তবে এ খাতের উন্নয়নে সময় পাইনি। কারণ ৪-৫ বছর সময় না পেলে এ খাতে উন্নতি করা যায় না।
তিনি উদাহরণ তুলে ধরে বলেন, মহেশখালীতে এলএনজির তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল বসাতে এক বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে গত সপ্তাহে একটি চুক্তি হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সরকারের মেয়াদ নেই বলে ওই কোম্পানি ভাসমান টার্মিনাল বা এফএসআরইউ বসানোর চুক্তি করতে শেষ মুহূর্তে অস্বীকৃতি জানিয়েছে।
আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এলপিজির চাহিদার ৯৮ শতাংশ বিশ্ববাজার থেকে আমদানি করে সরবরাহ করা হয়। ইরান ও ২২টি জাহাজের ওপর নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার কারণে এলপিজি আমদানি কঠিন হয়ে পড়েছে। যার কারণে গত ২ মাস আমদানি কম হয়েছে। তবে আশা করছি আগামী রমজানের আগে পরিস্থিতি অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
এর আগে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের মাস্টার প্ল্যান নিয়ে উপদেষ্টা বলেন, এই সরকার এটি তৈরি করে যাচ্ছে। যাতে করে আগামী সরকার একটি পথ নির্দেশনা পায়। তারা এটি কাজে লাগাতেও পারে। চাইলে ফেলেও দিতে পারে। অনুষ্ঠানে জ্বালানি সচিব মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম এবং বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ বক্তব্য রাখেন। সেখানে বলা হয়, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠবে। জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৫ দশমিক ৯০ শতাংশ হলে ২০৫০ সালে বিদ্যুতের চাহিদা ৫৯ হাজার ৩৫১ মেগাওয়াট হবে। যা এখন আছে ১৭ হাজার মেগাওয়াট। এর মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি থেকে আসবে ৫০ শতাংশ। একই সময়ে ১ কোটি ২০ লাখ টন তেল ছাড়াও বিপুল গ্যাসের দরকার হবে। এজন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিনিয়োগ দরকার হবে ১৭৭ বিলিয়ন ডলার। এর আগে পৃথক এক অনুষ্ঠানে পেট্রোলপাম্পের টয়লেটগুলো পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন, আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল ক্রয়, বিস্ফোরক অধিদপ্তরের লাইসেন্সের আবেদনে পৃথক অ্যাপস এবং জ্বালানি সরবরাহ অনলাইনে নিয়ে আসতে ডিজিটাল সিস্টেম চালুর প্রকল্প উদ্বোধন করেন জ্বালানি উপদেষ্টা।
