Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

সুজনের সংবাদ সম্মেলন

জাতীয় সংসদে কোটিপতি ও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ২০ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জাতীয় সংসদে কোটিপতি ও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য

Advertisement

সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী প্রার্থীদের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এবারের সংসদে ব্যবসায়ীদের নিরঙ্কুশ আধিপত্য বজায় রয়েছে। এছাড়া কোটিপতি সংসদ সদস্যের সংখ্যা বিগত নির্বাচনের তুলনায় উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)। সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার মন্তব্য করেন, ‘নির্বাচন কমিশন এখন পোস্ট অফিসের ভূমিকা পালন করছে।’

তিনি বলেন, আমরা অনুরোধ করেছিলাম, ঋণ খেলাপি ও দ্বৈত নাগরিকসহ যেসব ক্ষেত্রে অযোগ্যতা আছে, সেগুলোর ব্যাপারে তদন্ত করে সিদ্ধান্ত নিয়ে যেন গেজেট প্রকাশ করে। আমরা আরও বলেছিলাম, নির্বাচন সুষ্ঠু হয়েছে কিনা ভোটগ্রহণের ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে কমিশন সেটা সার্টিফাই করবে। কিন্তু এখন তারা যেটা করে, রিটার্নিং অফিসাররা যে ফলাফল দেয়, সেটাই তারা গেজেট আকারে প্রকাশ করে দেয়।

তারা এখন অনেকটা পোস্ট অফিসের মতো ভূমিকা পালন করে-চিঠি আসল, স্ট্যাম্প দিয়ে পাঠিয়ে দিলো।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সুজনের তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচনে বিজয়ী ২৯৭ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে ১৮২ জনই পেশায় ব্যবসায়ী, যা মোট সদস্যের ৬১.২৮ শতাংশ। রাজনৈতিক দল হিসাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) বিজয়ী সদস্যদের মধ্যে ব্যবসায়ীর হার সবচেয়ে বেশি। দলটির ২০৯ জন বিজয়ীর মধ্যে ১৪৬ জনই (৬৯.৮৬%) ব্যবসায়ী। অন্যদিকে, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর বিজয়ীদের মধ্যে ৩৫.২৯% ব্যবসায়ী এবং ৫৯.৭১% উচ্চশিক্ষিত সদস্য রয়েছেন।

এবারের নির্বাচনে কোটিপতি প্রার্থীদের জয়লাভের হার আগের সব রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তথ্যমতে, বিজয়ীদের মধ্যে ৯১.২৫ শতাংশ (২৭১ জন) সংসদ সদস্যের সম্পদ এক কোটি টাকার উপরে। এর মধ্যে ৫ কোটি টাকার বেশি সম্পদের মালিক ১৮৭ জন (৬২.৯৬%)। সুজন বলছে, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোটিপতিদের হার ছিল ৮৯.৯৭%, যা এবার বেড়ে ৯১.২৫% হয়েছে। স্বল্প সম্পদশালীদের নির্বাচনে অংশগ্রহণের হার ক্রমান্বয়ে হ্রাস পাচ্ছে।

হলফনামার তথ্য অনুযায়ী শীর্ষ তিন সম্পদশালী ব্যক্তি হলেন-সাঈদ আহমেদ (শরীয়তপুর-১, বিএনপি) : সম্পদ ১১৯৯ কোটি ৫৯ লাখ টাকা। আব্দুল আউয়াল মিন্টু (ফেনী-৩, বিএনপি) : সম্পদ ৯৪৬ কোটি ৮১ লাখ টাকা। জাকারিয়া তাহের (কুমিল্লা-৮, বিএনপি) : সম্পদ ৭৭৩ কোটি ৮৯ লাখ টাকা।

সুজনের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বিজয়ী ২৯৭ জন সদস্যের মধ্যে ১৪২ জনের (৪৭.৮১%) বিরুদ্ধে বর্তমানে মামলা রয়েছে। অতীতে মামলা ছিল ১৮৫ জনের (৬২.২৮%) বিরুদ্ধে। গুরুতর অপরাধ বা ৩০২ ধারায় (হত্যা মামলা) বর্তমানে অভিযুক্ত রয়েছেন ৪৩ জন সংসদ-সদস্য। মামলার ক্ষেত্রে বিএনপি ও জামায়াতের বিজয়ীদের হার সবচেয়ে বেশি। সংসদ সদস্যদের শিক্ষাগত যোগ্যতায় ইতিবাচক চিত্র দেখা গেছে। ৮১.৪৮ শতাংশ (২৪২ জন) সদস্য স্নাতক বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।

এর মধ্যে ১১ জনের পিএইচডি ডিগ্রি রয়েছে। বয়সের ক্ষেত্রে দেখা গেছে, ৬০.৬১ শতাংশ সদস্যের বয়স ৫৫ থেকে ৭৫ বছরের মধ্যে। তরুণ সদস্য (৩৫ বছরের নিচে) রয়েছেন ১১ জন (৩.৭০%)। নির্বাচনে ৮৫ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও বিজয়ী হতে পেরেছেন মাত্র ৭ জন। এছাড়া সংখ্যালঘু সম্প্রদায় থেকে বিজয়ী হয়েছেন ৪ জন।

সংবাদ সম্মেলনে সুজন সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার আরও বলেন, সংসদে অধিক সম্পদশালী ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে, যা সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বের ক্ষেত্রে একটি চ্যালেঞ্জ। রাজনীতি এখন ক্রমান্বয়ে পেশাদারিত্ব হারিয়ে বিনিয়োগের মাধ্যমে মুনাফা লাভের ক্ষেত্রে পরিণত হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ভাবার অবকাশ রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে সুজনের অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। উল্লেখ্য, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে বিএনপি ২০৯টি আসন পেয়ে এককভাবে সরকার গঠন করেছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম