প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে বৈঠক
ইমাম মুয়াজ্জিন সম্মানি পাচ্ছেন ঈদের আগে
তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবার অফিস করলেন তারেক রহমান, খোঁজ নিলেন কর্মীদের
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবার অফিস করলেন তারেক রহমান, খোঁজ নিলেন কর্মীদের
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন-খতিব ও বিভিন্ন ধর্মগুরুকে সম্মানি দেবে সরকার। এর মধ্যে পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই কিছু কিছু জায়গায় ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খতিবের সম্মানি দেওয়া হবে। শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। এদিন প্রথমবারের মতো তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তবে প্রধানমন্ত্রী হিসাবে এটি তার তৃতীয় কর্মদিবস। এর আগে দুই দিন বাংলাদেশ সচিবালয়ে তিনি অফিস করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে বৈঠকের তথ্য জানান প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন। আরও বক্তব্য দেন প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ। এ সময় স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ও প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন উপস্থিত ছিলেন।
উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন বলেন, বৈঠকে বিএনপির নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। একটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল বিভিন্ন মসজিদে ইমাম, মুয়াজ্জিন, খতিব এবং অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ধর্মগুরুদের মাসে একটি সম্মানি ও উৎসবভাতা দেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ঈদের আগেই পর্যায়ক্রমে প্রস্তুতি শুরু করে কিছু কিছু জায়গায় ইমাম, মুয়াজ্জিন-খতিবের একটি সম্মানি দেওয়া হবে। কত টাকা সম্মানি ভাতা দেওয়া হবে জানতে চাইলে মাহ্দী আমিন বলেন, আন্তঃমন্ত্রণালয়ের বৈঠকে তা চূড়ান্ত করা হবে।
এ ছাড়া বৈষম্যহীনভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। এ জন্য শিক্ষাব্যবস্থার প্রয়োজনীয় সংস্কারসহ অন্যান্য বিষয়ে আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান এবং শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের এ উপদেষ্টা বলেন, বিএনপির একটি বড় নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি ছিল, সারা দেশে মেধার ভিত্তিতে বৈষম্যবিহীনভাবে যেন আমরা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে পারি। সরকারি চাকরির ক্ষেত্রে, বেসরকারি চাকরির ক্ষেত্রে, উদ্যোক্তা হিসাবে গড়ে ওঠার ক্ষেত্রে এবং বহির্বিশ্বে জনশক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে কীভাবে আরও দক্ষ ও যোগ্য জনশক্তি গড়ে তুলতে পারি। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার কীভাবে আনব এবং তার মাধ্যমে জনশক্তিকে কীভাবে কর্মক্ষম করব; দ্রুততার সঙ্গে তাদের জন্য চাকরি ও ব্যবসার সুব্যবস্থা করতে পারব; তার জন্য যে ডিরেগুলেশন প্রয়োজন, ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্পকারখানার নীতিমালা প্রয়োজন; টেকনিক্যাল ও ভোকেশনাল এডুকেশনকে আরও কীভাবে প্রাধান্য দেব আমরা-এগুলো নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এ ছাড়া বিদেশে যেসব দূতাবাস রয়েছে এবং বাংলাদেশে যেসব দূতাবাস রয়েছে, তাদের সঙ্গে সমন্বয়ের মাধ্যমে কীভাবে আমাদের জনশক্তিকে আরও দক্ষ ও যোগ্য করে বিদেশে পাঠাতে পারব-এসব নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
তিনি বলেন, সংশ্লিষ্ট যেসব মন্ত্রী রয়েছেন, সচিববর্গ রয়েছেন, তারা মূল্যবান মতামত দিয়েছেন। ইনশাআল্লাহ খুব দ্রুততম সময়ের ভেতরে জনগণের প্রতি জবাবদিহিমূলক এ রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং জনগণের সরকার আমাদের প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বাস্তবায়ন করা শুরু করব।
এর আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রেস সচিব আবু আবদুল্লাহ এম ছালেহ বলেন, শনিবার ছিল প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তৃতীয় কর্মদিবস। নির্বাচনের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে বেশ কিছু দিক-নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি আরও জানান, তেজগাঁও কার্যালয়ে প্রথমবারের মতো অফিস করেছেন তারেক রহমান।
শিক্ষাব্যবস্থাকে আনন্দমুখর ও কর্মমুখী করে গড়ে তোলা, কর্মসংস্থানের সুযোগ বাড়ানো এবং ক্রীড়া অবকাঠামো ও প্রশিক্ষণ সুবিধা সম্প্রসারণের বিষয়ে এদিন তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সভায় মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মীদের খোঁজ নিলেন প্রধানমন্ত্রী : শনিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অফিস করতে যান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কার্যালয়ের মুখ্য সচিব এ বি এম আবদুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। প্রধানমন্ত্রী নিজের কার্যালয়ের মূল ভবনে ঢোকার আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া সরকারের সময় দায়িত্বপালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের খোঁজখবর নেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কার্যালয়ের পুরোনো অনেক কর্মকর্তা ও কর্মচারীর নাম ধরে কাছে ডেকে কথা বলেন। কার্যালয়ে ঢুকে প্রধানমন্ত্রী একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা কার্যালয় চত্বরে রোপণ করেন। তিনি মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে বিশেষ মোনাজাত করেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) শামসুল ইসলামসহ অন্য কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
ডাকটিকিট উন্মোচন : এছাড়াও প্রধানমন্ত্রী মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষ্যে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন। তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে তিনি এ ডাকটিকিট উন্মোচন করেন।
