প্রকৃত ব্যক্তিকে শনাক্তের তাগিদ প্রধানমন্ত্রীর
কৃষকদের ন্যায্য পাওনা দিতে কৃষক কার্ড
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি কৃষি। তাই কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে। প্রকৃত কৃষকদের শনাক্ত করে সরাসরি সরকারি সেবা তাদের পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে তাগিদ দেন প্রধানমন্ত্রী। সোমবার সচিবালয়ে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলনকক্ষে ‘কৃষক কার্ড’ চালুসংক্রান্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন তিনি। সভায় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী-প্রতিমন্ত্রী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা শেষে এ নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমিয়ে কৃষকরা যাতে ন্যায্য পাওনা ও সরকারি ভর্তুকি সহজে পায়-তা নিশ্চিত করতেই স্মার্ট কার্ড ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে।
জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, সভায় প্রান্তিক কৃষকদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানো এবং কৃষি প্রণোদনা বিতরণ আরও স্বচ্ছ ও আধুনিকীকরণ এবং কৃষক কার্ড চালুর বিষয়ে সভায় বিস্তারিত আলোচনা হয়। কৃষক কার্ডের কারিগরি দিক, বিতরণ পদ্ধতি এবং ডাটাবেজ তৈরির অগ্রগতি জানানো হয় প্রধানমন্ত্রীকে। প্রধানমন্ত্রী দ্রুত এ কার্যক্রম মাঠপর্যায়ে বাস্তবায়নের দিকনির্দেশনা দেন। উল্লেখ্য, নির্বাচনি প্রচারকালে ‘কৃষক কার্ড’র প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন তারেক রহমান।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ফ্যামিলি কার্ডের’ মতো কৃষকদের ‘কৃষক কার্ড’ দেবে সরকার। ইনশাআল্লাহ, যত দ্রুত সম্ভব পাইলট প্রকল্প শুরু হতে যাচ্ছে। নীতিগতভাবে এ সিদ্ধান্ত বহু আগেই নেওয়া। বাস্তবায়নের জন্য গতকাল (সোমবার) প্রথম বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী। কৃষক কার্ডের পাইলট প্রকল্প কবে শুরু হবে, ঈদের আগে হবে কি-না জানতে চান সাংবাদিকরা। জবাবে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সময়টি এ মুহূর্তেই বলা যাচ্ছে না। কারণ, এতে প্রস্তুতির বিষয় জড়িত। তবে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশ ও পরামর্শ হচ্ছে, এটা যত দ্রুত করা যায় ততই ভালো।
এই কার্ড পেলে একজন কৃষক কী সুবিধা পাবেন-এমন প্রশ্নে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, একজন কৃষক উৎপাদনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সব ধরনের সুযোগ-সুবিধা পাবেন। যেমন ধরুন, কৃষি জ্ঞান ও কৃষি যন্ত্রপাতি পাওয়া তখন তার জন্য সহজ হবে। সার, কীটনাশক, বীজ, সব কৃষি উপকরণ পেতে তাকে সহযোগিতা করা হবে। সবচাইতে বড় কথা হচ্ছে, এই কার্ডের মাধ্যমে একজন কৃষক খুব স্মার্টলি বাজার, উৎপাদন এবং আবহাওয়া বিষয়ে একটা পরিষ্কার ধারণার মধ্যে আসবেন। যে ধারণার ওপর নির্ভর করে আমরা একটা সঠিক পরিকল্পনা করতে পারব।
এটা কি প্রকৃত কৃষকরা পাবেন, না কি এলাকার মেম্বার বা প্রভাবশালীরা নিয়ে যাবেন? জবাবে মন্ত্রী বলেন, অবশ্যই না। কৃষক কার্ড দেওয়ার ক্ষেত্রে মধ্যস্বত্বভোগীরা যেন কোনো সুযোগ-সুবিধা বাগিয়ে নিতে না পারে বা নেওয়ার সুযোগ না থাকে, সে জন্যই কিন্তু আমরা স্মার্ট কৃষক কার্ডের দিকে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, আমরা যারা মোবাইল ফোন ব্যবহার করি, তারা একটি সিমের মাধ্যমে সরাসরি সব ধরনের সেবা ব্যাংক থেকে পাচ্ছি। অতএব, একটা কৃষক স্মার্ট কার্ড যখন একজন কৃষকের হাতে পৌঁছে দেব, এরপরে কিন্তু রাষ্ট্রের সঙ্গে তার যোগাযোগ হবে সরাসরি। কোনো মধ্যস্বত্বভোগী থাকবে না এবং তার সমস্যা সরাসরি রাষ্ট্র জানতে পারছে।
কত কৃষককে কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা আছে-এমন প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, সব কৃষককে দেব। পরিসংখ্যানে যত আছে। অবশ্য সরকার পাইলট প্রজেক্টে সবাইকে নিতে পারবে না। পাইলট প্রজেক্টের মাধ্যমে আমরা ধীরে ধীরে শুরু করব। কোন অঞ্চলে পরীক্ষামূলকভাবে এ কার্ড দেওয়া শুরু হতে পারে-এ বিষয়ে তিনি বলেন, সেটা এখন বলতে পারছি না।
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে চীনের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ : প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। সোমবার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশের ‘বাংলাদেশ ফার্স্ট’ নীতি চীনের কাছে তুলে ধরেছেন। চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েনও বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় অব্যাহত সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দুই পক্ষ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক ও বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিষয়ে আলোচনা করেছেন।
