Logo
Logo
×
   

শেষ পাতা

কটিয়াদী-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়ক

পুলিশের পোশাকে চাঁদা বাণিজ্যে ওসির ভাগিনা নাঈম

Icon

কিশোরগঞ্জ ব্যুরো ও কটিয়াদি প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পুলিশের পোশাকে চাঁদা বাণিজ্যে ওসির ভাগিনা নাঈম

কিশোরগঞ্জ-ভৈরব আঞ্চলিক মহাসড়কে চলাচলকারী অটোরিকশা থেকে ‘টোকেন’ দিয়ে চলছে হাইওয়ে পুলিশের কোটি টাকার চাঁদা বাণিজ্য। কটিয়াদী হাইওয়ে পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মারগুব তৌহিদ এবং তার ‘ফরেন বডি’ ভাগিনা নাঈম হাসানের নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে এই চাঁদা বাণিজ্যের সিন্ডিকেট। পুলিশের পোশাক পরে দায়িত্ব পালন করায় সড়কে তিনি ‘ভাগিনা নাঈম’ নামে পরিচিত।

ওই মহাসড়কে চলাচলকারী চালকরা জানিয়েছেন, নিয়মিত চাঁদা না দিলে বা মাসিক চুক্তিতে রাজি না হলে গাড়ি রিক্যুইজিশন ও মোটরযান আইনে মামলার ভয় দেখানো হয়। ভৈরব-ময়মনসিংহ সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে চেকপোস্ট বসিয়ে নিয়মিত টাকা আদায়ের কথাও জানিয়েছেন তারা। বটগাছ, মাছ, জোড়া টিয়া পাখি ইত্যাদি প্রতীকের টোকেন তৈরি করে ‘মামা-ভাগিনা’ প্রতি মাসে সিএনজি চালিত অটোরিকশা ও অন্যান্য পরিবহণ থেকে কোটি টাকার চাঁদা বাণিজ্য চালিয়ে আসছে। আঞ্চলিক মহাসড়কে এ ধরনের যান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা থাকায় অটোরিকশাচালকরা বাধ্য হয়ে প্রতি মাসে মোটা অঙ্কের চাঁদা তুলে দিচ্ছে মামা-ভাগনে সিন্ডিকেটের হাতে। 

এ মহাসড়কে চলাচলকারী চালকদের তথ্যমতে এ সড়কে প্রতিদিন প্রায় পাঁচ হাজারেরও বেশি সিএনজি চালিত অটোরিকশা চলাচল করে। তাদের প্রত্যেককেই মাসে ৫০০ টাকা করে চাঁদা দিতে হয়। উপরন্তু; পিকআপ ভ্যানসহ অন্যান্য দুই থেকে তিন হাজার ট্রাসপোর্ট থেকে আদায় করা হয় কমপক্ষে এক হাজার টাকা করে। সব মিলিয়ে কেবল এক থানা থেকেই মাসে অর্ধকোটি টাকা এবং দুই থানা মিলিয়ে কোটি টাকারও বেশি চাঁদা আদায় হয়।

সিএনজি চালক মনির হোসেন বলেন, আমরা চাই চাঁদাবাজি বন্ধ হোক। সড়কে পুলিশের সোর্স আছে। মান্থলি না করলে গাড়ি পুলিশের কাছে ধরিয়ে দেয়। হাইওয়ে রোডে উঠলেই মাসে ৫০০ থেকে ১০০০ টাকা দিতে হয়। না দিলে গাড়ি আটক করে মামলা দেয়। তখন গাড়ি ছাড়িয়ে আনতে খরচ পড়ে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা।

হাইওয়ে থানায় ফুট-ফরমায়েশ খেটে জীবিকা নির্বাহকারী ভুক্তভোগী ছন্দু মিয়া বলেন, ওসি আসার দুই এক মাস পরে নাঈমকে আনছে। নাঈমকে দিয়েই গাড়ি মান্থলি করায়। এসব বলার পরে আমাকে চোর সাব্যস্ত করে মামু-ভাগনে মিলে মারধর করছে। তিনি আরও বলেন, নাঈমই টাকা-পয়সা নেয়। এরপর মামাকে দেয়। পোশাক পইরা পুলিশের লগে লগে ডিউটি করে। লাকড়ির গাড়ি ৫০০ দেয়, গাছের গাড়ি ৮০০ দেয়। বাঁশের গাড়ি ১৫০০ দেয়। অনেক জাতের গাড়ি থেকে টাকা নেয়। গাড়ি আটকাইয়া মামলা দেয়। মামলার টাকা সরকারের ফান্ডে যায় না। এরাই রাতে বণ্টক কইরা নেয়।

সরেজমিন দেখা যায়, মারগুব তৌহিদের সঙ্গে সড়কে তার ভাগনে নাঈম হাসান পুলিশের পোশাক পরিহিত অবস্থায় দায়িত্ব পালন করছেন। সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে মারগুব তৌহিদ সেখান থেকে সরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় প্রশ্নের মুখে নাঈম নিজের প্রকৃত পরিচয় প্রকাশ করেন। একপর্যায়ে মারগুব তৌহিদ নাঈমকে নিজের ভাগনে বলে স্বীকার করে বলেন, বাড়িতে দীর্ঘদিন বেকার থাকায় তাকে এখানে নিয়ে এসেছি। তবে তার ভাগনে কোনো অনিয়ম দুর্নীতিতে জড়িত নয় বলে দাবি করেন। পরে হাইওয়ে পুলিশের গাড়িতে তারা দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন।

কিশোরগঞ্জের ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ আন্দোলনের সভাপতি বিশিষ্ট সমাজকর্মী ফিরোজ উদ্দিন ভূঁইয়া বলেন, হাইওয়ে পুলিশের এ ধরনের টোকেন বাণিজ্যের কারণেই মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ যানবাহনসহ ফিটনেসবিহীন যানবাহন অবাধে চলার সুযোগ পাচ্ছে। এতে মহাসড়কে আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে দুর্ঘটনা। 

এ বিষয়ে হাইওয়ে পুলিশ হেডকোয়ার্টারের ডিআইজি (প্রশাসন), ইমতিয়াজ আহমেদ বৃহস্পতিবার জানান, চাঁদাবাজির অভিযোগ পেয়ে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে একজন অতিরিক্ত ডিআইজির নেতৃত্বে ৩ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। এ কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। আপাতত মারগুব তৌহিদকে দায়িত্ব পালন থেকে বিরত রাখা হয়েছে।


Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম