বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বন্ধ করলেন অর্ধেক লাইট
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ০৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
বিদ্যুৎ ব্যবহারে সবাইকে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে এ আহ্বান জানান তিনি। বৈঠক শেষে এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। তিনি বলেন, এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বেশকিছু নির্দেশনা দিয়েছেন। তার কার্যালয় থেকেই বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয় কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি নিজ দপ্তরেই লাইট ব্যবহার অর্ধেক করে দিয়েছেন। বলেছেন, কোনো ব্লাইন্ড পর্দা থাকবে না, তাহলে যথেষ্ট পরিমাণ সানলাইট (সূর্যের আলো) আসবে। বাথরুমের লাইট সাধারণত জ্বালানো থাকে, এগুলো থাকবে না। করিডরে এনার্জি সেভিংস লাইট লাগাতে বলেছেন তিনি।
নাসিমুল গনি আরও বলেন, ‘এসির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, অবৈধ এসি থাকলে বন্ধ করে দিতে হবে। ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে কোনো এসি চলবে না।’ মসজিদ ও মন্ত্রীদের কার্যালয়ের এসির বিষয়ে বিশেষ পরামর্শ আছে কি না-এমন প্রশ্নে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, এটা সবার জন্যই প্রযোজ্য। সরকারি সব অফিস-আদালত-সবার জন্য। এসি ২৫ ডিগ্রির ওপর রাখার ঘোষণা আগে দেওয়া হলেও পরে বাস্তবায়ন হয়নি। এখনো বাস্তবায়ন না হলে কী করবেন-এমন প্রশ্নের উত্তরে সচিব বলেন, বাস্তবায়নের জন্য এবার কমিটি করে দেওয়া হচ্ছে। তারা (সদস্যরা) যাবে, সেগুলো কার্যকর করবে। এখন আমাদেরও তো জাতিগতভাবে কিছু উন্নয়ন হতে হবে। আমাদের সব মানতে হবে।
এদিকে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা ১০ মিনিটে প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ে নিজের দপ্তরে আসেন। তিনি অফিসে এসে নিজের কক্ষের ৫০ শতাংশ লাইটের সুইচ অফ করে দেন এবং এসির বিদ্যুৎপ্রবাহ ২৫ দশমিক ১ মাত্রায় নিয়ে আসেন। এই মাত্রা নিলে বিদ্যুৎ খরচ কম হয়। শুধু তাই নয়, প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রবেশ করেই কক্ষের অর্ধেক লাইট বন্ধ করে দিতে এবং এসির মাত্রা কমিয়ে দিতে বলেন। সচিবালয়ের ১নং ভবনটি প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর। এই দপ্তরে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ প্রধানমন্ত্রীর অধীনস্থ বিভিন্ন বিভাগ রয়েছে। অতিরিক্ত প্রেস সচিব আরও জানান, প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের পর তার দপ্তরের সব কক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে অর্ধেক লাইট বন্ধ এবং এসির মাত্রা কমানো হয়।
রুমন বলেন, প্রধানমন্ত্রী সচিবালয়ের সব মন্ত্রণালয়, সারা দেশে সরকারি অফিস-আদালত, বেসরকারি ভবন, শপিংমল, বিপণিবিতানসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে তিনি লাইট কম ব্যবহার করে দিনের বেলা অফিস বা বাড়িঘরের জানালার পর্দা সরিয়ে সূর্যের আলো ব্যবহারের জন্যও সবাইকে পরামর্শ দেন।
বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে ১১ নির্দেশনা : বৈশ্বিক সংকটের প্রেক্ষাপটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ে সরকারি অফিসগুলোয় ১১ দফা নির্দেশনা দিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বৃহস্পতিবার এ সংক্রান্ত চিঠি সব সিনিয়র সচিব, সচিব, বিভাগীয় কমিশনার এবং জেলা প্রশাসকের কাছে পাঠানো হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে জাতীয় পর্যায়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয় অত্যন্ত জরুরি। এ কারণে সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সংস্থা, করপোরেশনসহ সব সরকারি অফিসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। দিনের বেলায় পর্যাপ্ত প্রাকৃতিক আলো থাকলে বৈদ্যুতিক বাতি ব্যবহার পরিহার করতে হবে এবং জানালা ও দরজা কিংবা ব্লাইন্ড খোলা রেখে প্রাকৃতিক আলো ব্যবহার করতে হবে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বিদ্যমান ব্যবহৃত আলোর অর্ধেক ব্যবহার করতে হবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইটের ব্যবহার পরিহার করতে হবে। অফিস চলাকালীন প্রয়োজনের অতিরিক্ত লাইট, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ অন্যান্য বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখতে হবে। এয়ার কন্ডিশনার ব্যবহারের ক্ষেত্রে তাপমাত্রা ২৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বা তার ওপরে রাখতে হবে। অফিসকক্ষ ত্যাগ করার সময় কক্ষের বাতি, ফ্যান, এয়ার কন্ডিশনারসহ সব বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম বন্ধ করতে হবে। অফিসের করিডর, সিঁড়ি, ওয়াশরুম ইত্যাদি স্থানে অপ্রয়োজনীয় বাতি ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করতে হবে। অফিস সময় শেষ হওয়ার পর সব বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি (লাইট, ফ্যান, কম্পিউটার, প্রিন্টার, স্ক্যানার, এয়ার কন্ডিশনার ইত্যাদি) বন্ধ নিশ্চিত করতে হবে।
যাবতীয় আলোকসজ্জা পরিহার করতে হবে। গাড়ির ব্যবহার সীমিত করতে হবে। জ্বালানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য স্ব স্ব নিয়ন্ত্রণাধীন সংশ্লিষ্ট সব দপ্তর-সংস্থাকে নির্দেশনা দেওয়ার জন্য চিঠিতে অনুরোধ করা হয়।
