ব্যাংক এমডিদের সঙ্গে গভর্নরের বৈঠক
অর্থ পাচারে জড়িত শীর্ষ ১০ শিল্প গ্রুপের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলবে
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১১ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। ফাইল ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
দেশ থেকে যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে টাকা পাচার হয়েছে সেসব ব্যাংকগুলোকে ওই অর্থ ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। একই সঙ্গে ইতোমধ্যে তদন্তে দেশের শীর্ষ যে ১০ শিল্প গ্রুপ দেশ থেকে টাকা পাচার করেছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে তাদের বিষয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলেছেন তিনি। পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে আগে নেওয়া পদক্ষেপগুলার ধারাবাহিকতা চলমান থাকবে। এখন সেই পদক্ষেপগুলোকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হবে। এ জন্য পাচার করা টাকা ফেরাতে মনোনীত বিদেশি ফার্মগুলোর সঙ্গে সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখতে ও তাদের প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর এমডিদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত বৈঠকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান এসব নির্দেশনা দিয়েছেন।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এর আগে গভর্নর পাচার টাকা ফিরিয়ে আনার বিষয়ে টাস্কফোর্সের পরামর্শকের সঙ্গে বৈঠক করেন। ওই বৈঠকেও তিনি পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনতে চলমান প্রক্রিয়া দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেন।
সূত্র জানায়, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংকগুলো থেকে ঋণ জালিয়াতির মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ পাচার হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকার ওইসব অর্থ ফিরিয়ে আনার জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিয়েছিল। ওইসব পদক্ষেপ চলমান থাকবে বলে বৈঠকে ব্যাংকগুলোকে জানানো হয়েছে। পাচার হওয়া টাকা ফিরিয়ে আনতে যে বিদেশি আইনি ফার্মগুলোর সঙ্গে ব্যাংকগুলোর চুক্তি হয়েছে ওই প্রতিষ্ঠানগুলোকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করতে বলা হয়েছে। পাচার হওয়া টাকার বিষয়ে পর্যাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ফার্মগুলোকে দিয়ে বিদেশে মামলা করতে হবে। এসব মামলা পরিচালনার মাধ্যমে টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার পদক্ষেপ নিতে হবে।
বৈঠক শেষে সিটি ব্যাংকের এমডি মাসরুর আরেফিন সাংবাদিকদের বলেন, যেসব ব্যাংকের মাধ্যমে অর্থ পাচারের অভিযোগ রয়েছে, সেসব ব্যাংককে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনতে পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এ ধরনের অর্থ দেশে ফিরিয়ে আনতে সাধারণত তিন থেকে পাঁচ বছর সময় লাগে। তবে তারা আশাবাদী যে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধাপে ধাপে এসব অর্থ ফেরত আনা সম্ভব হবে। এ জন্য ব্যাংকগুলোকে কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর।
বৈঠকে পাচার হওয়া অর্থ ফেরানোর আগে তারল্য বাড়াতে আমানত সংগ্রহ বাড়ানোর দিকেও নজর দিতে বলেছেন তিনি। এছাড়া বিদ্যমান সংকট নিয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়েছে বলে জানা গেছে।
