Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

রেল-নৌ-সড়কপথে

স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৬ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

স্বস্তিতে বাড়ি ফিরছে মানুষ

Advertisement

ঈদের ছুটিতে রোববারও স্বস্তিতে ঢাকা ছেড়েছেন হাজারও মানুষ। সড়ক, নৌ ও রেলপথে কোনো ধরনের বিড়ম্বনা ছাড়াই নিজ নিজ গন্তব্যে ফিরেছেন ঘরমুখো মানুষ। এখনো সরকারি অফিস, গার্মেন্ট খোলা থাকায় সড়কে মানুষের চাপ কম। তবে ঈদের ছুটি শুরু হলে চাপ বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

রোববার ছিল ট্রেনে ঈদযাত্রার তৃতীয় দিন। শনিবারের তুলনায় রোববার কমলাপুর রেলস্টেশনে ঘরমুখী মানুষের ভিড় কিছুটা বেড়েছে। যাত্রার ভোগান্তি এড়াতে অনেকে কিছুটা আগেই ঢাকা ছাড়ছেন। এছাড়া সময়মতো ট্রেন ছেড়ে যাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশও করেছেন।

সরেজমিন দেখা যায়, রোববার সকাল থেকে দু-একটি ট্রেন সামান্য বিলম্বে ছাড়লেও বাকি সব ট্রেন নির্ধারিত সময়েই গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে গেছে। রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে আজ বিকালের পর থেকে যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় শুরু হতে পারে। স্টেশনে যাত্রীদের উপস্থিতি অন্যান্য সাধারণ দিনের মতোই স্বাভাবিক ছিল। কমলাপুর স্টেশন মাস্টার আনোয়ার হোসেন যুগান্তরকে বলেন, সকালে ‘তিতাস কমিউটার’ ৩০ মিনিট এবং চট্টগ্রাম অভিমুখী একটি ট্রেন ৫০ মিনিট বিলম্বে ছেড়েছে। তবে এর বাইরে সব ট্রেনের সূচি ছিল স্বাভাবিক।

স্টেশন মাস্টার বলেন, এখনো ঈদে বাড়ি ফেরার সেই পরিচিত জনস্রোত শুরু হয়নি। তবে তারা ধারণা করছেন, আজ দুপুরের পর থেকে যাত্রীদের চাপ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে। যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবার কড়া অবস্থানে রয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। আর কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছেন-যার টিকিট নেই, তার প্রবেশের কোনো সুযোগ নেই।

রেলওয়েসংশ্লিষ্টরা জানান, আগে স্টেশনে টিকিটবিহীন যাত্রীদের জরিমানা করে যাতায়াতের সুযোগ দেওয়া হলেও এবার সেই প্রথা বন্ধ করার চেষ্টা চলছে। উপচে পড়া ভিড় সামাল দিতে এবং যারা আগেভাগে টিকিট কেটেছেন তাদের ভোগান্তি কমাতে এ কঠোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পরিবার নিয়ে স্টেশনে অপেক্ষমাণ যাত্রী আরিফুল ইসলাম যুগান্তরকে বলেন, স্টেশনে ট্রেনের জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা বিরক্তির কারণ হলেও ট্রেনের যাত্রা সব সময়ই নিরাপদ ও আরামদায়ক। আর ট্রেন যখন চলতে শুরু করে, তখন সব ক্লান্তি দূর হয়ে যায়। সড়কপথের চেয়ে পরিবার নিয়ে ট্রেনে যাতায়াত অনেক বেশি স্বস্তির। তবে রেলের মান আরও উন্নত করা প্রয়োজন।

কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন ম্যানেজার মো. সাজেদুল ইসলাম যুগান্তরকে জানান, ঈদের বাকি দিনগুলোতে যাত্রী চাপ সামলাতে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। শৃঙ্খলা বজায় রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি রেলওয়ের নিজস্ব নিরাপত্তাকর্মীরাও তৎপর রয়েছেন।

সায়েদাবাদ টার্মিনালে গাড়ির চাপ নেই, সড়কই যেন টার্মিনাল : ঈদের আর মাত্র বাকি আছে ৪-৫ দিন। অথচ সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ নেই। হতাশার মধ্যে দিন পার করছেন বাস মালিক ও শ্রমিকরা। তবে তাদের প্রত্যাশা ২৭ রমজানের পর যাত্রীচাপ বাড়বে।

যাত্রাবাড়ী মোড়ে দেখা যায় তার উলটো চিত্র। সেখানে ঢাকা-মাওয়া সড়কের যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড়। যাত্রাবাড়ী মোড় থেকে পোস্তগোলা ব্রিজ পর্যন্ত বিভিন্ন ব্যানারের শতাধিক বাস কাউন্টার রয়েছে। সড়কেই তাদের বাসগুলো দাঁড়ানো থাকে। এ যেন বাস টার্মিনাল। এক বাস ছেড়ে যাওয়ার পর আরেক বাসে যাত্রী নেয়। এতে সড়কে তীব্র যানজট সৃষ্টি হচ্ছে।

সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালের একাধিক বাস শ্রমিক জানান, ঈদের আর বেশি দিন নেই, অথচ বাস টার্মিনালে এখনো যাত্রীর চাপ নেই। যাত্রী যাই আসে তা নিয়েই বাসের সিট পূরণ না হতেই বিভিন্ন গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে যাচ্ছে বাস। ২৭ রমজানের দিন থেকে যাত্রীর চাপ অনেকাংশে বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

ঢাকা-খুলনা-বরিশাল বিএমএ পরিবহণের কর্মকর্তা মো. লিটন যুগান্তরকে বলেন, মানুষ এখন শৌখিন হয়ে গেছে। অনেকে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাসে বাড়িতে চলে যান। আবার অনেকে বিমান, ট্রেনে ও লঞ্চে যাচ্ছেন। যার ফলে বাস টার্মিনালে যাত্রীর চাপ নেই। তাছাড়া সায়েদাবাদ জনপথ মোড়, গোলাপবাগ মোড়, যাত্রাবাড়ী মোড়, দোলাইরপাড়, পোস্তগোলা সড়ক যেন বাস টার্মিনাল। এসব এলাকায় বিভিন্ন ব্যানারের একাধিক বাস সড়কে স্ট্যান্ড হিসাবে ব্যবহার করে। বাসে যাত্রী নিয়ে বরিশাল, পটুয়াখালী, সিলেট, কক্সবাজারের উদ্দেশে ছেড়ে যায়। যার ফলে যাত্রীরা ওইসব এলাকা থেকেই বাসে উঠে চলে যান। সায়েদাবাদ বাস টার্মিনালে আসতে হয় না। যার ফলে টার্মিনালে যাত্রী কম থাকে। এতে টার্মিনাল নির্ভর বাসের মালিক ও শ্রমিকদের সমস্যা হচ্ছে। অপরদিকে সড়কের বিভিন্ন স্থানে বাস থামিয়ে যাত্রী নেওয়ার কারণে যানজট সৃষ্টি হচ্ছে। টার্মিনালের বাস মালিকদের দাবি সড়কের ওপর যেন কোনো বাস কাউন্টার না থাকে এবং বাস দাঁড়িয়ে না থাকে। সেজন্য বিআরটিএর হস্তক্ষেপের দাবি জানান। এদিকে সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে যাত্রীদের ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন, নিরাপদ ও যাত্রী হযরানি বন্ধে সায়েদাবাদ আন্তঃজেলা বাসমালিক সমিতি বাস টার্মিনালে যাত্রী হেল্পডেস্ক বসিয়েছে।

এছাড়া গাবতলী, মহাখালী, গুলিস্তান, কলাবাগান ও আরামবাগসহ অন্যান্য বাসস্টপেজেও যাত্রীদের বেশি চাপ লক্ষ্য করা যায়নি। সদরঘাট লঞ্চ ঘাটেরও একই চিত্র দেখা গেছে। যাত্রীদের স্বাভাবিক চলাচল লক্ষ্য করা গেছে সদরঘাট লঞ্চ ঘাটেও।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম