মন্ত্রিসভার বৈঠক
নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে সমন্বিত পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত
পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ১৮ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সচিবালয়ে মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদের সভায় সভাপতিত্ব করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান -পিআইডি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন মামলায় সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থা সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। সরকারের অগ্রাধিকার হিসাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে মন্ত্রিসভার বৈঠকে সব মন্ত্রণালয়কে সমন্বিত অ্যাকশনে যাওয়ার এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব মো. নাসিমুল গনি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে ছুটির দিনে বেলা ২টায় মন্ত্রিসভার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠক শেষে সচিবালয়ে ব্রিফিংয়ে মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, মন্ত্রিসভা সুয়োমুটো একটা সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, ধর্ষণ মামলা যেগুলো আছে বা এর আগে হয়েছে, এগুলোর জন্য একটা বিশেষ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। সব মন্ত্রণালয় সমন্বিতভাবে এ পদক্ষেপ নেবে। বৈঠকে আন্তঃসংস্থা সমন্বয় বাড়ানো, জনসচেতনতা তৈরি এবং আইনি প্রক্রিয়ার প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে কাজ করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।
মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে প্রতিটি জেলায় বিশেষ আদালতের কার্যক্রমও জোরদার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ঈদের সময় এ বিষয়টি নিয়ে কাজ করা হবে। কোন প্রসঙ্গে এই নির্দেশনা দেওয়া হলো-জানতে চাইলে সচিব বলেন, সরকারের কতগুলো অগ্রাধিকার আছে। তার মধ্যে এটা একটা।
পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু : নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসাবে আগামী পহেলা বৈশাখ কৃষক কার্ড কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। উদ্বোধনী দিনে তিনি টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষকদের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্ড বিতরণ করবেন। প্রি-পাইলটিং প্রকল্পের আওতায় সরকার এ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। মন্ত্রিপরিষদ সচিব জানান, প্রথম ধাপে টাঙ্গাইল সদরসহ দেশের মোট ১১টি উপজেলায় একযোগে এ কার্যক্রম শুরু হবে। এসব উপজেলার ২১ হাজার ৫০০ কৃষকের কাছে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে অর্থ সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হবে।
সচিব আরও বলেন, এ কার্ড কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের চাষি এবং খামারিদের দেওয়া হবে। এটি মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসাবে কাজ করবে। এছাড়া ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষককে কৃষি উপকরণ কিনতে প্রণোদনা হিসাবে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হবে। এ কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা সার, বীজ, কীটনাশক ও পশুখাদ্য কিনতে পারবেন। বৈঠকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে কৃষকের তথ্য সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনা নিয়েও আলোচনা হয়। এতে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং খাদ্যমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াসিন, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
যমুনায় উঠবেন প্রধানমন্ত্রী : জাতীয় নির্বাচনের পর ২৮ ফেব্রুয়ারি মিন্টো রোডের রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’ ছেড়েছেন সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এবার সেই ভবনেই উঠবেন দেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ইতোমধ্যে তার বসবাসের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত করা হয়েছে যমুনাকে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ সুযোগ-সুবিধার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে যমুনাকে প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসাবে প্রস্তুত করা হয়েছে। তবে তারেক রহমানের সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে অপচয় রোধ করার। তাই এর সংস্কারকাজে কোনো বাড়তি বা অপ্রয়োজনীয় খরচ করা হয়নি। এ বিষয়ে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সবসময়ই বাহুল্য পরিহার করতে চান। তাই আমরা কোনো ধরনের বাহুল্যে যাইনি। ভেতরে শুধু রং করা হয়েছে। এর পাশাপাশি ভবনটিকে জীবাণুমুক্ত করতে হাইজেনিক ওয়াশ করা হয়েছে। খুব অল্প বাজেটের মধ্যে সাশ্রয়ীভাবে আমরা কাজগুলো সম্পন্ন করেছি। জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইতোমধ্যে প্রস্তুতকৃত এই অতিথি ভবনে কয়েকটি সরকারি কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে তিনি কবে বসবাসের জন্য যমুনায় উঠবেন, সে বিষয়ে এখনো কিছু জানানো হয়নি।
দুর্গতদের সহায়তার নির্দেশ : দেশের উত্তরাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের সহায়তায় কৃষি ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে একযোগে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছে মন্ত্রিসভা। মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, শিলাবৃষ্টি ও আকস্মিক বন্যায় সাধারণ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তাদের দ্রুত সহায়তায় কৃষি ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়কে সমন্বিতভাবে প্যাকেজ তৈরি করে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঈদের ছুটির মধ্যেও এ সহায়তা অব্যাহত রাখতে বলা হয়েছে। জেলা প্রশাসকদের (ডিসি) হাতে থাকা স্থানীয় তহবিল থেকেও প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে বলা হয়েছে। বিশেষ করে সুনামগঞ্জ ও সিলেট অঞ্চলের বন্যার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।
