শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ দর্শনার্থীদের পছন্দের শীর্ষে
ঈদের ছুটিতে লোকারণ্য যমুনা ফিউচার পার্ক
Advertisement
যুগান্তর প্রতিবেদন
প্রকাশ: ২৫ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
যমুনা ফিউচার পার্কের ফিউচার ওয়ার্ল্ডে নতুন সংযোজন করা ডাইনোসর স্কুটি রাইডে শিশুদের ভিড়। মঙ্গলবার তোলা -যুগান্তর
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
শহুরে ঈদ-ছুটি উপভোগ করতে দর্শনার্থীদের পছন্দের শীর্ষে দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমল যমুনা ফিউচার পার্ক। সুবিশাল পরিসর ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত এবং রোদ-বৃষ্টির ভোগান্তি না থাকায় দর্শনার্থীদের স্বস্তি ছিল তুঙ্গে। পাশাপাশি ফুডকোর্টে বাহারি খাবারের সঙ্গে ছিল হরদম আড্ডা। এন্টারটেইনমেন্ট জোনে খেলাধুলা, সিনেমা দেখা ও বিভিন্ন রাইড উপভোগ ছিল চোখে পড়ার মতো। এছাড়া ঈদ ঘিরে বাড়তি আনন্দ যোগ করেছে কনসার্ট ও পাপেট শো। ছিল ঈদ সেলিব্রেশন অনুষ্ঠান ও ম্যাজিক শো। তাই ঈদ ঘিরে আনন্দের কোনো কমতি নেই এই শপিংমলে। বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন নিয়ে আগতরা আনন্দে মেতেছেন। মা-বাবার হাত ধরে এসেছে পরিবারের ছোট সদস্যরাও। সব মিলে ঈদের দিন থেকে লোকারণ্য ছিল যমুনা ফিউচার পার্ক।
এদিকে একই ছাতার নিচে বহুমুখী আয়োজনে ঈদের আগের দিন ভোররাত পর্যন্ত ক্রেতার ভিড়ে সরগরম ছিল শপিং কমপ্লেক্স। ঈদের দিন থেকে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার বিনোদনপ্রেমীরা ঈদ বিনোদন উপভোগ করতে যমুনায় ভিড় করেন। ফুডকোর্টে বাহারি খাবারের আয়োজনের সঙ্গে শিশুদের ফিউচার ওয়ার্ল্ডেও চোখে পড়ার মতো ভিড় ছিল। কারণ, সেখানে ছিল বিভিন্ন রাইডের ব্যবস্থা। সেক্ষেত্রে বাস্কেটবল ট্রাম্পেলিনের পাশাপাশি সুপার সুইং, ড্রাঙ্কার্ড বক্সিং, বাম্পার কার, সেভেন ডি রাইডার, ইভিল স্লাইড, নিনজা কোর্স, ডজবল এরিনা, আর্কেড গেমস, ফান ট্রেন ও ডায়নোসর স্কুটি। এছাড়া প্লেয়ার্স ক্লাবে বিলিয়ার্ড, বোলিং খেলে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেছেন অনেকে। সবচেয়ে বেশি ভিড় ছিল ব্লকবাস্টার সিনেমাসে। টিকিট পেতে হুমড়ি খেয়ে পড়েন সিনেমাপ্রেমীরা। সাতটি হলে পাঁচটি শোতে সিনেমা দেখানো হয়। সবকটিই দর্শকদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ ছিল।
পাশাপাশি দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিং গন্তব্য যমুনা ফিউচার পার্কে ছিল তিন দিনব্যাপী বর্ণাঢ্য ‘ঈদ সেলিব্রেশন ২০২৬’। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ মোবাইল মার্কেট যমুনা ফিউচার পার্কের লেভেল-৪-এর প্রযুক্তি পণ্য ব্র্যান্ড ‘টেকনো বাংলাদেশের’ সৌজন্যে আয়োজিত হয়েছে এই সেলিব্রেশন। যেখানে প্রতিদিনই উপচে পড়া দর্শনার্থীর উপস্থিতি লক্ষ করার মতো। সঙ্গে শপিংমলের লেভেল-৫ জুড়ে আয়োজনটি বিস্তৃত করা হয়েছে। বিশেষ লেভেল-৫ জুড়ে দর্শনার্থীদের জন্য রাখা হয়েছে নানা বিনোদনমূলক কার্যক্রম। ইস্ট কোর্টে প্রতিদিন অনুষ্ঠিত হয়েছে মন মাতানো লাইভ মিউজিক। যেখানে জনপ্রিয় শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ। নর্থ কোর্টের ফিউচার ওয়ার্ল্ডে শিশু-কিশোর ও পরিবারের সদস্যদের জন্য রয়েছে আকর্ষণীয় ম্যাজিক শো, পাপেট শো ও বর্ণিল মাসকট পারফরম্যান্স, যা দর্শকদের মধ্যে দারুণ সাড়া ফেলেছে।
ধানমন্ডি-১৫ থেকে সপরিবারে যমুনা ফিউচার পার্কে ঘুরতে আসা নেহারিকা ভাবনা যুগান্তরকে বলেন, রাজধানীতে পরিবারের সবার জন্য বিনোদনকেন্দ্রের খুবই অভাব। এখানে মন খুলে ঈদের ছুটি উপভোগ করার মতো কোনো জায়গা নেই। তবে যমুনা ফিউচার পার্কে একটু স্বস্তি পাই। সুবিশাল পরিসর ও শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ থাকায় তীব্র গরমে কোনো অসুবিধা হয় না। সকাল থেকে রাত পর্যন্ত পরিবার নিয়ে ভালো সময় কাটানো যায়। মুভি দেখা, পরিবারের সবাই একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া, ছোট ছেলেমেয়েদের জন্য বিভিন্ন রাইডে চড়ার ব্যবস্থা একমাত্র যমুনা ফিউচার পার্কেই আছে। এছাড়া শপিংমলের বাইরেও সুবিশাল সবুজ পরিবেশ আছে। যেখানে একটু স্বস্তির নিশ্বাস নিয়ে হাঁটাচলা করা যায়। ছেলেমেয়েরাও একটু দৌড়ঝাঁপ করতে পারে। সব মিলে শহরে ঈদ আনন্দ উপভোগের জন্য একটি শ্রেষ্ঠ জায়গা যমুনা ফিউচার পার্ক।
ফিউচার ওয়ার্ল্ডে মা-বাবার সঙ্গে ঘুরতে আসা তুলতুল জানায়, ঈদে বাবার অফিস ছুটি। তাই বাবা আমাদের নিয়ে এখানে ঘুরতে এসেছে। আমিও বাবাকে বলেছিলাম ফিউচার ওয়ার্ল্ডে নিয়ে আসতে। এখানে খেলাধুলা করেছি। বিভিন্ন রাইডে চড়েছি। ভিডিও গেমিং করেছি। আমার খুব ভালো লাগছে।
প্লেয়ার্স ক্লাবে বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া লামিয়া বলেন, ঈদের পর বন্ধুদের নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছি। বরাবরের মতো সবাই সিদ্ধান্ত নিলাম যমুনা ফিউচার পার্কে আসার। প্লেয়ার্স ক্লাবে বোলিং খেলছি। শেষ করে ফুডকোর্টে গিয়ে সবাই মিলে খাওয়াদাওয়া করব। সেখানে জম্পেশ আড্ডা হবে। এরপর সিনেমা দেখে বাড়ি ফিরব।
আজিমপুর থেকে আসা পারভীন রহমান যুগান্তরকে বলেন, এবারের যমুনা ফিউচার পার্কের আয়োজন অন্যবারের চেয়ে অনেক প্রাণবন্ত ছিল। কোনটা রেখে কোনটা উপভোগ করব, তা নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছি। যেহেতু ঢাকায় ঈদ করছি, এমন সব আয়োজন যমুনা ফিউচার পার্ক ছাড়া সম্ভব না।
যমুনা বিল্ডার্সের পরিচালক (মার্কেটিং, সেলস অ্যান্ড অপারেশনস) ড. আলমগীর আলম বলেন, ঈদকে ঘিরে পরিবারের সবাইকে একসঙ্গে আনন্দ দেওয়ার লক্ষ্যেই দক্ষিণ এশিয়ার সর্ববৃহৎ শপিংমলে এই আয়োজন করা হয়েছে। কেনাকাটার পাশাপাশি বিনোদনের সমন্বয়ে দর্শনার্থীদের জন্য একটি পূর্ণাঙ্গ উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করাই মূল উদ্দেশ্য ছিল। ঈদের আনন্দকে আরও কাছ থেকে অনুভব করতে এবং পরিবার-পরিজন নিয়ে ব্যতিক্রমধর্মী সময় কাটাতে সবাইকে যমুনা ফিউচার পার্কের এই বিশেষ আয়োজনে অংশ নেওয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি। পাশাপাশি দর্শনার্থীদের উপস্থিতি ও অংশগ্রহণে ইতোমধ্যেই জমজমাট হয়েছে ‘ঈদ সেলিব্রেশন’ অনুষ্ঠান। বিশেষ করে শিশুদের আনন্দঘন অংশগ্রহণ ও পরিবারের সম্মিলিত উপস্থিতি এই আয়োজনকে আরও প্রাণবন্ত করে তুলেছে।
