Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

বেপরোয়া কিশোর গ্যাং

বরিশালে জামিনে বেরিয়েই যুবককে কুপিয়ে জখম

Advertisement

Icon

যুগান্তর ডেস্ক

প্রকাশ: ২৭ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

বরিশালে জামিনে বেরিয়েই যুবককে কুপিয়ে জখম

Advertisement

বরিশালে মাদক ব্যবসার প্রতিবাদ করায় কারাগার থেকে জামিনে বেরিয়েই প্রকাশ্য দিবালোকে এক যুবককে কুপিয়ে জখম করেছে কিশোর গ্যাং লিডার অলি। ফরিদপুরের মধুখালীতে অনৈতিক কাজের প্রতিবাদ ও কলেজ নির্বাচনে অংশ নিতে চাওয়ায় এক শিক্ষার্থীকে তুলে নিয়ে রড ও লাঠি দিয়ে বেদম পিটিয়েছে স্থানীয় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। ব্যুরোর পাঠানো খবর-

বরিশাল : চিহ্নিত কিশোর গ্যাং লিডার অলি জামিনে বেরিয়ে তরিকুল ইসলাম নামের এক যুবককে প্রকাশ্যে কুপিয়েছে। বুধবার রাতে নগরীর বাংলাবাজার নিউ হাউজ রোড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গুরুতর আহত তরিকুলকে প্রথমে শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অলি দীর্ঘদিন রিফিউজি কলোনি ও আশপাশ এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল।

তার বিরুদ্ধে এলাকাবাসী ও স্থানীয় যুবকদের নিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তোলেন তরিকুল। এরই ধারাবাহিকতায় পূর্বে পুলিশের অভিযানে অলিকে ৭৫ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়। দীর্ঘদিন কারাভোগের পর সম্প্রতি জামিনে মুক্ত হয়ে আবার এলাকায় সক্রিয় হয়ে ওঠে সে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার দিন তরিকুলকে একা পেয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে হামলা চালায় অলি ও তার সহযোগীরা। উজ্জ্বল, রাহাতসহ ৩-৪ সন্ত্রাসী ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকে। হামলার পর রক্তাক্ত ফেলে রেখে দ্রুত এলাকা ত্যাগ করে তারা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অলি বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত ছিল এবং প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করে আসছিল। সেই প্রভাবের কারণেই সে বারবার আইনের ফাঁক গলিয়ে এসে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত অভিযুক্তদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জানান, হামলার বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। ইতোমধ্যে ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।

ফরিদপুর: মধুখালীতে কলেজছাত্রকে আটকে রেখে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্যদের বিরুদ্ধে। ভিকটিমের নাম শাওন ইসলাম নাবির (২০), স্থানীয় সরকারি আইনউদ্দিন কলেজে অনার্স প্রথমবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি মধুখালী পৌর সদরের পশ্চিম গাড়াখোলা এলাকার জাহিদুল ইসলাম পলাশের ছেলে। বর্তমানে মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নিচ্ছেন। কিশোর গ্যাং সদস্যরা স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী হওয়ায় বিচার নিয়ে সংশয়ে শিক্ষার্থীর পরিবার। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

নাবির ২৪ মার্চ রাতে বাড়ি ফেরার পথে স্থানীয় কিশোর গ্যাং সদস্যরা তাকে রেলগেট এলাকা থেকে তুলে উপজেলা চত্বরের কাছে বেঙ্গল ক্লাবে নিয়ে আটকে রাখে। এরপর ১০-১২ জন মিলে জানালার গ্রিলে হাত-পা বেঁধে রড, লাঠি, কাঠের বাটাম দিয়ে বেদম প্রহার করে। তারা মারধরের একটি ভিডিও ধারণ করে রাখে। একপর্যায়ে নাবিরকে সেখানে ফেলে যায়। নাবিরের দাবি, কলেজে ভিপি নির্বাচন করার ইচ্ছা প্রকাশ করায় তার ওপর এই নির্যাতন চালানো হয়। এছাড়া তিনি বিভিন্ন সময় কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের অনৈতিক কাজে বাধা দিতেন বলেও তারা ক্ষুব্ধ ছিল। নাবিবের পরিবার ও বন্ধুরা জানান, কিশোর গ্যাং লিডার গোলাম শারাফাত শরতের নেতৃত্বে নাবিরের ওপর এই নারকীয় নির্যাতন চালানো হয়। তারা দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন।

নাবিরের বাবা জানান, তার ছেলেকে মেরে ফেলার জন্যই ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। এ বিষয়ে তিনি গোলাম শরাফতসহ ৪ জনের নাম উল্লেখ ও অজ্ঞাত ৪-৫ জনকে আসামি করে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চান তিনি। মধুখালী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার কবির সরদার জানান, নাবিরের অবস্থা আশঙ্কামুক্ত নয়। তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।

এদিকে, নাবিরকে মারধরে নিজের সংশ্লিষ্টতা অস্বীকার করে গোলাম শরাফাত শরত জানান, ঘটনাটি জানতে পেরে তিনি ক্লাবে গিয়ে তাদের বাধা প্রদান করেন। তাকে জড়িয়ে থানায় মিথ্যা অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, একটি মেয়েকে যৌন হয়রানির কারণে নাবিরকে মারা হতে পারে। মধুখালী থানার পরিদর্শক (ওসি) ফকির তাইজুর জানান অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম