টাকা খরচে ব্যর্থতা
অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্পের বরাদ্দ কাটছাঁট
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
টাকা খরচ করতে না পারায় অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্পের বরাদ্দ কাটছাঁট করা হচ্ছে। এর আগে মূল বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) থেকে একদফা কমেছিল। এবার সংশোধিত এডিপি থেকেও বরাদ্দ কমানোর আবেদন জানানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। সময়মতো টাকা খরচে ব্যর্থতা, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে চলতি অর্থবছরে কাঙ্ক্ষিত ব্যয় করতে পারেনি বিবিএস। তবে এতে ব্যর্থতা দেখছেন না প্রকল্পসংশ্লিষ্টরা। ইতোমধ্যে মেয়াদ শেষ হওয়ায় আরও এক বছর বাড়িয়ে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে। খবর সংশ্লিষ্ট সূত্রের।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রকল্পটির পরিচালক ড. দীপঙ্কর রায় বুধবার যুগান্তরকে বলেন, এখানে ব্যর্থতার বিষয় নয়। প্রকল্পের সঙ্গে নতুন কম্পোনেন্ট যুক্ত করা হয়েছে। যেমন শুমারিতে পাওয়া তথ্য দিয়েই স্টাটিসটিক্যাল বিজনেস রেজিস্ট্রার তৈরি করা হবে। পাশাপাশি ক্ষুদ্র ও মাঝারি (এসএমই) শিল্পের একটি সার্ভে পরিচালনা করা হবে। এসব নতুন কাজের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ প্রয়োজন হবে না। আমরা প্রকল্পটির নো কস্ট এক্সটেনশন (ব্যয় বাড়ানো ছাড়া মেয়াদ বৃদ্ধি) করেছি। তবে মূল প্রকল্পের আওতায় এখনো যেসব কাজ বাকি রয়েছে সেগুলো হলো, ৬৪ জেলার ওপর আলাদা প্রতিবেদন তৈরি এবং জাতীয় পর্যায়ে চূড়ান্ত প্রতিবেদনের কাজ। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, নতুন কম্পোনেন্টগুলো যোগ হওয়ায় মূলত এক বছর মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
বিবিএস সূত্র জানায়, বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বাস্তবায়নাধীন ‘অর্থনৈতিক শুমারি-২০২৩’ শীর্ষক প্রকল্পটির প্রথম সংশোধন বিষয়ে ২০২৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর প্রশাসনিক অনুমোদন করা হয়। এটির মোট ব্যয় হচ্ছে ৫২৯ কোটি ৯২ লাখ টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি তহবিলের অর্থে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন কাজ চলছে। এর মূল অনুমোদিত বাস্তবায়ন মেয়াদকাল হলো, ২০২৩ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। এখন নতুন বর্ধিত মেয়াদ ধরা হয়েছে ২০২৬ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত। প্রকল্পের অনুকূলে চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপিতে ৪৭ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। কিন্তু সময়মতো খরচ করতে না পারায় সংশোধিত এডিপিতে কাটছাঁট করা হয় ১০ কোটি ৩৫ লাখ টাকা। সে সময় বরাদ্দ দেওয়া হয় ৩৬ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। এখন সংশোধিত এডিপি থেকে ফের ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা কাটছাঁট করে নতুন বরাদ্দ ধরা হয়েছে ১৮ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। বাকি ১৭ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ২০২৬-২৭ অর্থবছরের এডিপিতে স্থানান্তর এবং এএমএস সফটওয়্যারে এন্ট্রি করার জন্য ১১ মার্চ অনুরোধ জানানো হয়েছে পরিকল্পনা কমিশনে। এ পরিপ্রেক্ষিতে ১২ মার্চ পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগ থেকে কার্যক্রম বিভাগে একটি চিঠি পাঠানো হয়।
সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর থেকে চতুর্থ অর্থনৈতিক শুমারির মূল তথ্য সংগ্রহের কাজ শুরু হয়েছিল। ১৫ দিন চলে সেটি শেষ হয় ২৬ ডিসেম্বর। ৯৫ হাজার তথ্য সংগ্রহকারী শুমারিতে তথ্য সংগ্রহ করেছেন। দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে প্রতি ১০ বছর পর এমন শুমারি করছে বিবিএস। এ শুমারির মাধ্যমে প্রায় ৭০টি প্রশ্ন করে উত্তর সংগ্রহ করা হয়। এবারই প্রথম ট্যাবের মাধ্যমে ক্যাপি পদ্ধতিতে এই শুমারির তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছিল।
শুমারির ফলাফলে দেখা যায়, ১০ বছর আগে করা শুমারির তুলনায় দেশে অর্থনৈতিক ইউনিটের সংখ্যা ৪০ লাখ ৪৮ হাজার ৭৯৯টি বেড়ে দাঁড়িয়েছে এক কোটি ১৮ লাখ ৭৭ হাজার ৩৬৪টিতে। প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে বর্তমানে ৬২ লাখ ৮৮ হাজার ২১৪টি স্থায়ী, ৫৭ লাখ ৬৬ হাজার ২১টি অস্থায়ী এবং ৫০ লাখ ১২ হাজার ৫২৯টি পারিবারিক অর্থনৈতিক ইউনিট রয়েছে। এর মধ্যে ৭০ দশমিক ২৭ শতাংশ ইউনিট গ্রামে এবং ২৯ দশমিক ৭৩ শতাংশ শহরে অবস্থিত। তবে শুমারির পরে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করা হয়। এতে বাদ পড়ে ২ লাখ ৬৫ হাজার ইউনিট। অর্থাৎ বাদ পড়ার হার ছিল ২ দশমিক ৯৫ শতাংশ ইউনিট।

