Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

অনলাইনে ফরেক্স ট্রেডিংয়ে মুনাফার ফাঁদ

পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা সিআইডির হাতে

Advertisement

Icon

আসাদুল্লা লায়ন

প্রকাশ: ৩০ মার্চ ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

পাচার হওয়া ৪৪ কোটি টাকা সিআইডির হাতে

Advertisement

অনলাইনে ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে হাতিয়ে নেওয়া টাকা পাচার করেছে মেটাভার্স ফরেন এক্সচেঞ্জ (এমটিএফই) নামের একটি প্রতারক প্রতিষ্ঠান। ভুক্তভোগীদের অতি মুনাফার লোভ দেখিয়ে চক্রটির হাতিয়ে নেওয়া টাকা ক্রিপ্টোকারেন্সি বা ব্লকচেইন প্রযুক্তির মুদ্রায় রূপান্তরের মাধ্যমে পাচার করে। দীর্ঘ তদন্তের পর সেই অর্থের একটি অংশ দেশে ফেরাতে সক্ষম হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। যার পরিমাণ ৩৬ দশমিক ২২ লাখ ডলার সমমূল্যের ক্রিপ্টোকারেন্সি। টাকার অঙ্কে ৪৪ কোটি ৪৫ লাখ টাকা। কর্মকর্তারা জানান, শিগগিরই ভুক্তভোগীরা আদালতের মাধ্যমে তাদের কাছ থেকে হাতিয়ে নেওয়া টাকা ফেরত পাবেন।

জানা যায়, এমটিএফইর প্রতারণার ঘটনাটি ২০২৩ সালে সামনে আসার পর থেকে পাচারের টাকা ফেরাতে বিভিন্ন আর্থিক ও কূটনৈতিক প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে চেষ্টা চালায় সিআইডি। বাকি অর্থ ফেরাতে বিভিন্ন সূত্র ধরে তদন্ত চলছে।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ বশির উদ্দিন রোববার বিকালে যুগান্তরকে বলেন, গত সপ্তাহে সুইফট ব্যাংকিং ব্যবস্থার মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রধান শাখায় এই টাকা ফেরত আনা হয়েছে। পরে আজ (রোববার) সিআইডির অ্যাকাউন্টে জমা হয়েছে। তিনি বলেন, টাকা প্রতারিত ভুক্তভোগীদের বণ্টনের বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত নেবেন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে দেশ থেকে অর্থ পাচারের ঘটনা আগেও ঘটেছে। তবে টাকা ফিরিয়ে আনার ঘটনা এটিই প্রথম। দেশে ক্রিপ্টোকারেন্সি লেনদেনসংক্রান্ত আইন ও পুলিশের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা না থাকায় পাচারকৃত অর্থ ফেরত আনার কাজটি অত্যন্ত কঠিন। সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সম্মিলিতভাবে উদ্যোগ নিলে এই প্রক্রিয়ায় পাচার হওয়া সব অর্থ ফিরিয়ে আনা সম্ভব।

এমটিএফইর বিরুদ্ধে ২০২৩ সালের আগস্টে দেশ থেকে প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার বা ১১ হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের মাধ্যমে পাচারের অভিযোগ ওঠে। একজন ভুক্তভোগীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তে নেমে চলতি বছরের মার্চে ৩ দশমিক ৭ মিলিয়ন ডলার মূল্যমানের ক্রিপ্টোকারেন্সি ভিত্তিক ডিজিটাল মুদ্রা (ইউএসডিটি) জব্দের কথা জানায় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার-সিপিসি। ২০২৫ সালের ২৪ নভেম্বর চুক্তিভিত্তিক বিদেশি প্রতিষ্ঠান অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকে সিআইডির খোলা অ্যাকাউন্টে পরীক্ষামূলক লেনদেন চালানো হয়। এতে ইউএসডিটি থেকে মার্কিন ডলার, এরপর টাকায় রূপান্তরের মাধ্যমে লেনদেনটি সফল হয় বলে জানান তদন্তসংশ্লিষ্টরা। একই প্রক্রিয়া অবলম্বন করে অ্যাসেট রিয়েলিটি ১৪ মার্চ জেপি মরগান চেজ ব্যাংকের মাধ্যমে সোনালী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে পাঠায় বিদেশি প্রতিষ্ঠান অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেড। রোববার (২৯ মার্চ, ২০২৬) সিআইডির অ্যাকাউন্টে টাকা যোগ হয়।

এমটিএফইর প্রতারণা : এমটিএফই ক্রিপ্টোকারেন্সি ও ফরেক্স ট্রেডিংয়ে উচ্চ মুনাফার লোভ দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করত এমটিএফই। এমএলএমের মতো নেটওয়ার্কের মাধ্যমে স্থানীয় দলনেতারা সাধারণ মানুষকে তাদের সঞ্চয় বিনিয়োগে উদ্বুদ্ধ করে। যাদের মধ্যে অনেকেই ছিলেন শিক্ষিত ও প্রযুক্তিবান্ধব। বিনিয়োগের জন্য কেউ সম্পদ বিক্রি করেন, আবার কেউ কেউ ঋণ নিয়ে টাকা জোগাড় করে বিনিয়োগ করেন। প্ল্যাটফর্মটি শুরুতে ভুয়া মুনাফা দেখিয়ে আস্থা অর্জন করে। ২০২৩ সালের মাঝামাঝি টাকা উত্তোলন বন্ধ করে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। পরে জানা যায়, হাতিয়ে নেওয়া টাকার মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই বাংলাদেশিদের।

এরই ধারাবাহিকতায় গ্রাহকের করা মামলার তদন্তে নেমে সিআইডি দেখতে পায়, এমটিএফইর সাইটে থাকা ভুক্তভোগীদের অ্যাকাউন্টে প্রদর্শিত ভার্চুয়াল মুদ্রাটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক। সিআইডি জানতে পারে শ্রীলংকার কর্তৃপক্ষ ওকেএক্স এক্সচেঞ্জ প্ল্যাটফর্ম থেকে এমটিএফইসংশিষ্ট তহবিল উদ্ধার করেছে। এই সূত্র ধরে এক্সচেঞ্জটির সঙ্গে প্রমাণাদিসহ আনুষ্ঠানিক যোগাযোগ করে সিআইডি। জব্দ হওয়া টাকা ফেরানোর প্রতিক্রয়ায় ঢাকার মার্কিন দূতাবাস, ইউএস সিক্রেট সার্ভিস, এফবিআই এবং মার্কিন বিচার বিভাগের আইসিআইটিএপি প্রোগ্রামের সহযোগিতায় নেয়। টাকা ফেরানোর জন্য গত বছরের নভেম্বরে অ্যাসেট রিয়েলিটি লিমিটেডের সঙ্গে ২ দশমিক ৫ শতাংশ ফি দেয়ার শর্তে চুক্তি করে সিআইডি। পরে ওকেএক্স ওয়ালেটে থাকা জব্দকৃত ক্রিপ্টোকারেন্সি প্রথমে অ্যাসেট রিয়েলিটিতে স্থানান্তরের পর মার্কিন ডলারে রূপান্তরের মাধ্যমে বাংলাদেশি মুদ্রায় ফিরে পায় সিআইডি। অবশ্য এর জন্য টাকা গ্রহণের জন্য সোনালী ব্যাংকের মালিবাগ শাখায় তিনজন সিআইডি কর্মকর্তার নামে একটি বিশেষ অ্যাকাউন্ট খোলা হয়। বর্তমানে এই অ্যাকাউন্টে টাকা জমা আছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম