১৪ এপ্রিল উদ্বোধন
কৃষি কার্ডে ১০ রকমের সুবিধা পাবেন কৃষক
Advertisement
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
আগামী ১৪ এপ্রিল সরকার কৃষি কার্ড বিতরণ শুরু করবে। একসঙ্গে ২০ হাজার কৃষককে এ সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। তিন শ্রেণির কৃষক এ সুবিধার আওতায় আসছেন। কার্ডের সুবিধাভোগী কৃষকরা প্রতি মাসে ২৫০০ টাকা করে পাবেন। কার্ড গ্রহণকারী কৃষকদের দেওয়া হবে ১০ ধরনের সুবিধা। এগুলো হলো-সরাসরি সরকারি ভর্তুকি; ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ যেমন-সার, বীজ ও কীটনাশক সংগ্রহের সুবিধা; সহজশর্তে কৃষিঋণ; শস্য ও কৃষি বিমার সুবিধা; কৃষি খাতে সরাসরি সরকারি প্রণোদনা; ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা; উৎপাদিত কৃষিপণ্য সরাসরি বিক্রির সুযোগ; নতুন ও আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতির সহায়তা; উন্নত চাষাবাদের ওপর প্রশিক্ষণ এবং কৃষি কাজের জন্য প্রয়োজনীয় আবহাওয়ার পূর্বাভাস।
সংশ্লিষ্টরা জানান, গত সোমবার কৃষকদের কার্ড প্রদানের বিষয়ে চূড়ান্ত প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয় কৃষি মন্ত্রণালয়ে। এতে সভাপতিত্ব করেন কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ। সভায় আমন্ত্রিত অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। সভায় কৃষি সচিবসহ সংশ্লিষ্ট শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। তারা আরও জানান, কৃষি কার্ডে প্রাপ্ত সুবিধা দেওয়া হবে সরকারি ব্যাংকের মাধ্যমে। তিন শ্রেণির কৃষক অর্থাৎ ক্ষুদ্র, মাঝারি ও প্রান্তিক কৃষকরা কৃষি কার্ড পাবেন। ৮ বিভাগের ১১টি উপজেলার ১১ স্থানে বিতরণ করা হবে কৃষি কার্ড। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইল সদর উপজেলায় কৃষি কার্ড বিতরণ করবেন।
আগাম সার সংগ্রহের উদ্যোগ : এদিকে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধের প্রভাবে সার সংকটের আশঙ্কা মাথায় রেখে সার কারখানা চালু রাখতে সরকার জ্বালানির বিকল্প উৎস খুঁজছে। একই সঙ্গে পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম সার সংগ্রহের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। সংশ্লিষ্টরা জানান, নিয়মিত উৎসের পাশাপাশি সরকার বিকল্প উৎস সন্ধান করছে।
জানতে চাইলে সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক যুগান্তরকে বলেন, বর্তমানে দেশে সারের কোনো সংকট নেই। বাজারে খুচরা বিক্রেতারা ডিলারদের সহায়তায় দাম বাড়ান। তবে যুদ্ধ যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে সারের সংকট হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার সার ও জ্বালানির বিকল্প খুঁজছে বলে সংবাদ বেরিয়েছে।
বর্তমানে ১৭টি বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে সার সরবরাহ করে। হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে সময়মতো সার পাওয়া যাবে কি না তা নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। অন্য বিকল্প উৎস থেকে সার সংগ্রহ করতে আন্তর্জাতিক দরপত্র আহ্বান করেছে বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি)। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ইউরিয়া সারের দরপত্র আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত করা হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জুন পর্যন্ত দেশে সারের কোনো সংকট নেই। সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতসহ বিভিন্ন উৎস থেকে সার আমদানির চেষ্টা চলছে। নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও বিকল্প হিসাবে রাশিয়ায় সার খোঁজা হচ্ছে। পাশাপাশি ব্রুনেই, মালয়েশিয়া ও ভিয়েতনামের মতো দেশগুলোও বিবেচনায় রয়েছে।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ফয়সাল ইমাম যুগান্তরকে বলেন, রাশিয়া থেকে সার আমদানির সুযোগ তৈরি করতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিল করা যায় কি না, তা নিয়েও সরকার কাজ করছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্য থেকে যাতে নিরাপদে চালান আসতে পারে, সেজন্য ২৯ মার্চ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ইরানকে একটি চিঠি পাঠানো হয়েছে বলে জানান তিনি। একই দিন শিল্প মন্ত্রণালয়ের এক বৈঠকে অতিরিক্ত ২ লাখ টন ইউরিয়া সার আমদানির জন্য দরপত্র আহ্বানের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, ঘোড়াশাল পলাশ ফার্টিলাইজার পিএলসি শিগগির উৎপাদন শুরু করবে এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি ও শাহজালাল ফার্টিলাইজার কোম্পানি মে মাসের মধ্যে চালু হতে পারে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও তদারকি শাখার একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, ইউরিয়া ছাড়া অন্যান্য সারের যা মজুত আছে, তাতে অক্টোবর পর্যন্ত চলবে। বাংলাদেশে বছরে ২৬ লাখ টনের বেশি ইউরিয়া সারের প্রয়োজন হয়, যার মধ্যে প্রায় ১০ লাখ টন দেশে উৎপাদিত হয়। বাকি অংশ সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার থেকে আমদানি করতে হয়। এই সারের চালান হরমুজ প্রণালি দিয়ে দেশে আসে।

