জাতীয় সংসদ অধিবেশন
তেল না পেয়ে এমপিরাও সংকটে পুলিশ ডাকার পরামর্শ মন্ত্রীর
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে সংসদ-সদস্যদের অসম্মানিত হওয়া ও সংকটে পড়ার বিষয়টি জাতীয় সংসদে তুলে ধরেন পটুয়াখালী-২ আসনের এমপি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ।
একইসঙ্গে তার এলাকায় ডিলারদের কারসাজি করে বাড়িতে লুকিয়ে তেল বিক্রির অভিযোগও আনেন তিনি। জবাবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, ডিলাররা লুকিয়ে থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাহায্যে তাদের ধরে এনে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে হবে। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে এ ঘটনা ঘটে।
সম্পূরক প্রশ্নে ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, গতকালই (বুধবার) দেখলাম আমাদের একজন সংসদ-সদস্য জ্বালানি সংগ্রহ করতে গিয়ে কিছুটা অসম্মানিত হয়েছেন। এর আগে আরেকজন সংসদ-সদস্য তেল না পেয়ে সংকটে পড়েছিলেন। আমরা প্রতিদিন অন্তত ৩০ থেকে ৪০টা ফোন পাচ্ছি। আমার এলাকা বাউফলে পেট্রোলপাম্প না থাকায় ডিলাররা কারসাজি করছেন।
তারা দোকান বন্ধ করে দিয়ে নিজেদের বাড়িতে তেল বিক্রি করছেন। সেখানে ম্যাজিস্ট্রেট গেলে তাদের কাউকে পাওয়া যায় না। মন্ত্রীর বক্তব্যের বিরোধিতা করে তিনি আরও বলেন, আজ মন্ত্রী যে কথা বলেছেন, তার সঙ্গে আমাদের এলাকার পরিস্থিতির কোনো মিল নেই। রাত ৮টার মধ্যে বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলো বন্ধ করে দিতে বলা হচ্ছে। বাউফলে জ্বালানি সংকটে যে উত্তপ্ত পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে, তা উত্তরণে মন্ত্রণালয় কী পদক্ষেপ নিচ্ছে।
জবাবে মন্ত্রী বলেন, আমাদের মজুত অনুযায়ী যে এলাকায় প্রতিদিন যতটুকু তেল দেওয়ার কথা, আমরা তা সরবরাহ করছি। ডিলাররা ইচ্ছে করে পালিয়ে গেলে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানান। তারা ওই ডিলারকে ধরে এনে তেল সরবরাহের ব্যবস্থা করতে পারে। বর্তমান পরিস্থিতিকে বৈশ্বিক সমস্যা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জ্বালানি সংকট এখন সারা পৃথিবীতেই খুব বড় সমস্যা। তারপরও আমরা বাংলাদেশে এটা সুষ্ঠুভাবে চালিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। কিন্তু মানুষের মধ্যে যদি প্যানিক বায়িং (আতঙ্কিত হয়ে অতিরিক্ত কেনা) সৃষ্টি হয়, তবে তা রোধ করা কঠিন।
মন্ত্রী আরও বলেন, আমরা মানুষের কাছে আবেদন করছি, আপনাদের যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই কিনুন। এটি করলে জ্বালানি নিয়ে সংকটে পড়তে হবে না। রাত ৮টার পর দোকানপাট বন্ধের নির্দেশনার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, পুরো বিশ্বে এখন সবাই সাশ্রয়ী হয়েছে। আমরাও সাশ্রয় করার জন্য জনগণকে অনুরোধ করছি। আশা করি জনগণ আমাদের অনুরোধ রক্ষা করবেন।
