Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

সংসদে রুমিন ফারহানা

৩০০ জন হামের রোগীর সামনে কথা বলছি না

Advertisement

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

৩০০ জন হামের রোগীর সামনে কথা বলছি না

Advertisement

দেশে হাম সংক্রমণ পরিস্থিতি এবং মৃত্যুর পরিসংখ্যান তুলে ধরে সংসদে তীব্র সমালোচনা করেছেন স্বতন্ত্র সংসদ-সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা। তিনি বলেন, রোগীদের ভয় দেখানো নয়, বরং সাহস দেওয়া প্রয়োজন। এ সময় ‘প্যানিক’ তৈরি না করার বিষয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যেরও জবাব দেন রুমিন ফারহানা। তিনি আরও বলেন, আমি তো জানতাম আমি ৩০০ জন সংসদ-সদস্যের সামনে কথা বলছি, ৩০০ জন হামের রোগীর সামনে তো কথা বলছি না। সংসদে যদি স্বার্থের প্রশ্নে বলতে না পারি, অথচ এই সংসদে যারা আছেন, আপনারা সবাই কোনো-না-কোনো সন্তানের পিতা। সন্তানের লাশ কাঁধে নেওয়ার চেয়ে ভারী কিছু নেই। আমরা যে পরিসংখ্যান দিচ্ছি, এর পেছনে আছে একটি মায়ের কান্না, একটি পিতার আর্তনাদ, একটি পরিবারের ভেঙে পড়া।

বুধবার জাতীয় সংসদের জরুরি জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ৭১ বিধির ওপর আলোচনায় স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেনকে উদ্দেশ করে তিনি এসব কথা বলেন। এর আগে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হামের রোগীদের ভয় দেখানো উচিত নয়, এতে আতঙ্ক সৃষ্টি হতে পারে। রুমিন ফারহানা সংসদে হামে আক্রান্ত রোগীদের একটি ডেটাবেজ উপস্থাপন করলে সেটির প্রসঙ্গ টেনে তিনি এ মন্তব্য করেন। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আল্লাহর রহমতে আমরা সবাই সন্তানের পিতা। আমাদের দরদ আছে। সন্তান হারানোর কষ্ট আমরা বুঝি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ৪১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, আমি আপনাকে সংসদে কথা বলতে নিষেধ করিনি, শুধু প্যানিক সৃষ্টি না করার কথা বলেছি। আমরা এর বিরুদ্ধে লড়াই করছি। আশা করি, সম্মানিত সংসদ-সদস্য ভবিষ্যতে আমাদের গঠনমূলকভাবে সহযোগিতা করবেন।

এর আগে রুমিন ফারহানা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য তুলে ধরে বলেন, ১৫ মার্চ থেকে ৪ এপ্রিল পর্যন্ত ১০ দিনে ৯৮ জন শিশুর সন্দেহজনকভাবে হামে মৃত্যু হয়েছে এবং নিশ্চিত মৃত্যু হয়েছে ১৬ জনের। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় সন্দেহজনকভাবে চারজন এবং নিশ্চিতভাবে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তবে গত দুই সপ্তাহে বিভিন্ন হাসপাতালের তথ্য অনুযায়ী একটি জাতীয় দৈনিক ৬১ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে। তিনি বলেন, দেশে আগে হামে মৃত্যুহার ছিল প্রতি ১০ লাখে ১ শতাংশ, যা এখন বেড়ে ১৬ দশমিক ৮ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগে টিকাদান কর্মসূচিতে জনবল সংকট, ইপিআই স্বাস্থ্যকর্মীদের ৯ মাস ধরে বেতন বন্ধের বিষয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করে হাম নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ জানতে চান তিনি।

রুমিন ফারহানা আরও বলেন, এর মধ্যে একটি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব পালন করেছে দেড় বছর এবং এই দেড় বছরে কর্মকর্তাদের মধ্যে পরিবর্তন এসেছে, নতুন করে টিকার কোনো অর্ডার দেওয়া হয়নি। আমাদের যারা স্বাস্থ্যকর্মী আছেন, যারা টিকা পরিবহণ করেন, ৯ মাস ধরে তারা কোনো বেতন পাননি। আমাদের প্রায় ৩৫টি জেলায় ৪৫ শতাংশ স্বাস্থ্যকর্মী বা টিকাদান কর্মসূচিতে যুক্ত, এমন জনবলের অভাব আছে। প্রায় অর্ধেক জেলায় এ সংক্রান্ত স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব আছে। সবকিছু মিলিয়ে আজ হামের এই ভয়াবহতা।

তিনি বলেন, একবার হাম আক্রান্ত হলে শিশুর শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বছরের পর বছর দুর্বল থাকে। যার ফলে অন্য কোনো সাধারণ রোগেও সে মারা যেতে পারে। স্বতন্ত্র এই সংসদ-সদস্য আরও বলেন, সম্প্রতি ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচও সতর্ক করেছে বিশ্বজুড়ে হামের সংক্রমণ ৭৯ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বাংলাদেশেও এর ঢেউ এসেছে। এ সময় রুমিন ফারহানা মাঠ পর্যায়ের চিত্র, টিকার মজুত ও বিতরণের পরিসংখ্যান সম্পর্কে জানতে চান।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, জাতিকে যদি আমরা খুব ভয় দেখিয়ে ফেলি, তাহলে কিন্তু জাতি রোগগ্রস্ত হয়ে যায়। রোগীর পাশে ইতিবাচক কথা বলতে হবে। হাম কিন্তু আমারও ছোটবেলায় হয়েছে। নিশ্চয়ই আপনারও হয়েছে। সব শিশুর হাম হয়, আমরা কিন্তু সব মরে যাইনি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ৯ মাস আগে থেকে পোর্টাররা বেতন পান না, এটা সত্যি। আমরা ক্ষমতায় এসেছি আজ ৫১ দিন চলছে। ৫ এপ্রিল টিকাদান কর্মসূচি শুরুর আগে আমরা ইপিআই স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে বসেছি। আমরা তাদের সন্তুষ্ট করেছি, আজ (বুধবার) সকালে সচিবালয়ে বৈঠক করেছি। দু-একদিনের মধ্যে বেতন দেওয়া শুরু করব। তিনি বলেন, অ্যাসিস্ট্যান্ট হেলথ অফিসার, ওয়ার্কার, সহকারী কর্মকর্তা ও ইনস্পেকটর (হেলথ) এবং পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের আর্থিক সুবিধা ছাড়াই গ্রেড উন্নীত করার দাবি বিবেচনা করা হচ্ছে। টিকাদান কর্মসূচির জন্য মাঠপর্যায়ে স্বাস্থ্যকর্মীর অভাব নেই জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সার্বিকভাবে স্বাস্থ্য খাতে লোকবল সংকট আছে।

প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় আমরা বিভিন্ন পদে ১ লাখ নিয়োগ দিতে যাচ্ছি। ভ্যাকসিনের মজুত এখন স্থিতিশীল আছে জানিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মানদণ্ড অনুযায়ী কোল্ড চেইন বজায় রেখে ইপিআই টিকা সংরক্ষণ ও পরিবহণ করা হচ্ছে।

দেশব্যাপী হামের টিকাদান শুরু ২০ এপ্রিল : স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাম নিয়ন্ত্রণে সরকার ১৪ দিন এগিয়ে এনে ২০ এপ্রিল থেকে সারা দেশে একযোগে টিকাদান কার্যক্রম শুরু হবে। দেশে হামের টিকার মজুত স্থিতিশীল আছে। আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের টিকা ব্যবস্থাপনায় অবহেলার কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়েছে। সেই সংকট কাটিয়ে উঠছে সরকার। ২ কোটি ১৯ লাখ হামের টিকা পাওয়া গেছে।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম