Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

জাতীয় সংসদ অধিবেশন

জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিল পাশ

Advertisement

Icon

সংসদ প্রতিবেদক

প্রকাশ: ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

জুলাই যোদ্ধাদের সুরক্ষার বিল পাশ

Advertisement

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকারীদের দায়মুক্তি দিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা অধ্যাদেশবিরোধী দলের আপত্তির মুখে অনুমোদন করেছে সংসদ। বুধবার এ সংক্রান্ত ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) বিল’ জাতীয় সংসদে পাশ হয়েছে। এর আগে বিলটি উত্থাপনে আপত্তি জানান বিরোধী দল এনসিপির সংসদ-সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। এটি নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের মধ্যে বিতর্ক হয়।

বিলে আপত্তি তুলে দেওয়া বক্তব্যের একপর্যায়ে হাসনাত বলেন, বিলটি পাশ করার আগে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনসংক্রান্ত বিষয়ের সুরাহা জরুরি। কারণ ইনডেমনিটির বিষয়টি জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর নির্ভরশীল। এ সময় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে দলীয়করণের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) ‘বাপের দোয়া ক্রিকেট বোর্ডে’ পরিণত হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনে যে দলীয়করণ হবে না, ‘বাপের দোয়া মানবাধিকার কমিশন বা বিরোধী দল দমন কমিশন’ করা হবে না, সে বিষয়ে আস্থা তারা রাখতে পারছেন না।

হাসনাতের বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কারা বাংলাদেশ ব্যাংক দখল করেছিল তা মানুষ জানে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কারা দখলে নিয়েছিল তা তিনি বলতে চান না। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তারা শক্তিশালী মানবাধিকার কমিশন করতে চান। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি সংসদে উত্থাপনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোট জয়যুক্ত হয়। এতে হাসনাত আবদুল্লাহর আপত্তি নাকচ হয়ে যায়। পরে বিলটি সংসদে তোলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। কণ্ঠভোটে বিলটি সংসদে পাশ হয়। রাষ্ট্রপতি ২৫ জানুয়ারি ‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ’ জারি করেছিলেন।

পাশের আগে বিলের সংজ্ঞার দুটি বিষয়ে আপত্তি জানান হাসনাত। বিলে কমিশন অর্থ বলা হয়েছে ‘জাতীয় মানবাধিকার কমিশন’। এই কমিশনকে স্বাধীন করতে অন্তর্বর্তী সরকার যে অধ্যাদেশ জারি করেছিল, তা অনুমোদন না করে ২০০৯ সালের আইনটি পুনঃপ্রচলনের জন্য ইতোমধ্যে সংসদে বিল আনা হয়েছে। এটি পাশ হওয়ার অপেক্ষায় আছে। বিলের সংজ্ঞায় ‘বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির অপরাধমূলক অপব্যবহার’ এর অর্থ বলা হয়েছে, রাজনৈতিক প্রতিরোধের পরিবর্তে সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড।

এ দুটি বিষয় উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডগুলো একভাবে দেখা হবে। আর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনরুদ্ধারের উদ্দেশ্যে যেই কার‌্যাবলিগুলো সংঘটিত হয়েছে, সেটাকে একভাবে দেখা হবে। তিনি বলেন, সমস্যা হলো সংকীর্ণ ও ব্যক্তিগত স্বার্থে যে ধরনের হত্যাকাণ্ড হয়েছে, সেটাকে এই আইন অনুযায়ী সংজ্ঞায়িত করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন। অর্থাৎ এই ইনডেমনিটির বিষয়টা নির্ভর করবে জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের ওপর।

হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, মানবাধিকার কমিশনকে মন্ত্রণালয়ের অধীনে রাখা হলে এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের এই কার্যক্রমগুলোকে বিচারের এবং নিরীক্ষণের দায়িত্ব ওই কমিশনকে দেওয়া হলে এই নিরীক্ষণ প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তিনি বলেন, যেভাবে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানগুলো নগ্নভাবে দলীয়করণ করা হচ্ছে, সেখানে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন যে দলীয়করণ করা হবে না, আবার ‘বাপের দোয়া একটা মানবাধিকার কমিশন বা বিরোধী দল দমন কমিশন’ করা হবে না, সেটাতে তারা আস্থা রাখতে পারছেন না।

পরে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এখন কীসের মধ্যে কী পান্তা ভাতে ঘি। এখানে বিষয়টি হচ্ছে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষা দেওয়ার জন্য। এটা জুলাই যোদ্ধাদের দাবি ছিল। এই দাবি জাতীয় দাবিতে পরিণত হয়েছে। সেই পরিপ্রেক্ষিতে জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরিত হয়েছে। তার মধ্যে অঙ্গীকারনামার একটা দফা ছিল। তিনি আরও বলেন, যারা জুলাই ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদের ওপরে হানাদার বাহিনীর মতো গণহত্যাকারী আওয়ামী লীগ এবং তাদের সন্ত্রাসী গোষ্ঠী ও পেটোয়া বাহিনী নিপীড়ন চালিয়েছে, অত্যাচার চালিয়েছে, গণহত্যা চালিয়েছে। জনতার প্রতিরোধের মধ্যে তাদেরও কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছে। এটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে।

বিসিবি নিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহর বক্তব্যের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিলের মধ্যে ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড কীভাবে এলো। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৎকালীন ক্রীড়া উপদেষ্টা ক্ষমতার প্রয়োগ করে সারা বাংলাদেশে জেলা কমিটিগুলোকে প্রভাবিত করেছিলেন। বাংলাদেশে যেসব রেজিস্টার্ড ক্লাব ছিল, তাদের কাউন্সিলরদের প্রভাবিত করে সরকারি সর্বোচ্চ ক্ষমতা প্রয়োগ করে একতরফাভাবে ক্রিকেট বোর্ডে একটি বডি করা হয়েছিল। হাইকোর্টে রিট নিষ্পত্তি না করেই এটা করা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকারের সময়ে একটি তদন্ত বোর্ড গঠন করা হয়। সেই তদন্ত কমিটি রিপোর্টে বলেছে, যথেষ্ট অনিয়ম হয়েছে। ওই কমিটির রিপোর্টের ভিত্তিতে আগের বোর্ড ডিজলভড (ভেঙে দেওয়া) হয়েছে। এরপর একটি ক্রিকেট কন্ট্রোল বোর্ড গঠন করা হয়েছে। অ্যাডহক কমিটি হয়েছে। কাকে দিয়ে হয়েছে? এই দেশের কৃতী ক্রিকেটার তামিম ইকবালকে দিয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে।

এই কমিটি বিধি মোতাবেক তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন দেবে উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এখানে বাপের দোয়া-মায়ের দোয়া করিনি। এতদিন শুনতাম মায়ের দোয়া পরিবহণ আছে। আজকে মাননীয় সংসদের কল্যাণে দেখলাম বাপের দোয়া কমিটি আছে।’

মানবাধিকার কমিশন প্রশ্নে মন্ত্রী বলেন, জাতির কাছে একটি ভুল বার্তা যাচ্ছে। মানবাধিকার কমিশন, গুম কমিশন এবং আইসিটি অ্যাক্ট-তিনটার মধ্যে ওভারল্যাপিং আছে। আইনমন্ত্রী কয়েক দিন আগে পরিষ্কার করে বলেছেন। আমরা একটা স্বাধীন মানবাধিকার কমিশন করতে চাই। যার সঙ্গে মিল থাকবে গুম আইনে, মিল থাকবে আইসিটি আইনের। কারণ, গুমের কারণে যে বিচারটা আইসিটি কোর্টে এখন করা হচ্ছে, আইনটা পরিবর্তন করে। যার সাজা যাবজ্জীবন এবং মৃত্যুদণ্ডও আছে। ইনভেস্টিগেটিং এজেন্সি তাদের আছে। প্রসিকিউশন টিম আছে। তদন্ত টিম আছে। তারা ফরমাল চার্জ দাখিল করে। ওই চার্জ দাখিলের পর ইভেন নির্বাচন করার উপযুক্ত থাকে না। এই শক্তিশালী আইনের সঙ্গে ম্যাচিং না করে আরও কম সাজার বিধান করে টেম্পরারি তদন্ত করার একটা দায়িত্ব মানবাধিকার কমিশনকে দিয়ে এক-দেড় বছর সময় বিনষ্ট হবে। তার চেয়ে যিনি গুমের ভিকটিম, তিনি সরাসরি আইসিটি অ্যাক্টে মামলা করতে পারেন। তদন্ত হবে। তদন্তের জন্য আলাদা টিম আছে। এর সঙ্গে মানবাধিকার কমিশনের সঙ্গে একটা মিল থাকবে।

বিলে বলা হয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের কারণে গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা সব দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা নির্ধারিত বিধান অনুসরণ করে প্রত্যাহার করা হবে। এছাড়া নতুন কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা গণ-অভ্যুত্থানকারীদের বিরুদ্ধে করা আইনত বারিত (নিষিদ্ধ) হবে। এতে আরও বলা হয়েছে, গণ-অভ্যুত্থানকারীর বিরুদ্ধে কোনো মামলা, অভিযোগ বা কার্যধারা জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করার কারণে করা হয়ে থাকলে পাবলিক প্রসিকিউটর বা সরকার নিযুক্ত কোনো আইনজীবী এই প্রত্যয়নের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট আদালতে আবেদন করবেন। এ আবেদনের পর আদালত ওই মামলা বা কার্যধারা সম্পর্কে আর কোনো কার্যক্রম গ্রহণ করবেন না। তা প্রত্যাহারকৃত বলে গণ্য হবে এবং অভিযুক্ত ব্যক্তি অবিলম্বে অব্যাহতিপ্রাপ্ত বা ক্ষেত্রমতে খালাসপ্রাপ্ত হবেন।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম