জাতীয় সংসদ অধিবেশন
সংসদ-সদস্যরা যেসব সুবিধা পান
Advertisement
সংসদ প্রতিবেদক
প্রকাশ: ১১ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম
প্রিন্ট সংস্করণ
সংগৃহীত ছবি
|
ফলো করুন |
|
|---|---|
সংসদ-সদস্যরা মূলত রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত বিভিন্ন ধরনের বেতন, ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা পেয়ে থাকেন। বাংলাদেশের বর্তমান আইন অনুযায়ী একজন সংসদ-সদস্যের মূল বেতন ৫৫ হাজার টাকা। এর সঙ্গে নির্বাচনি এলাকা পরিচালনার জন্য ১২ হাজার ৫০০ টাকা ভাতা দেওয়া হয়। আপ্যায়ন ভাতা হিসাবে মাসে ৫ হাজার টাকা এবং পরিবহণ বাবদ পান আরও ৭০ হাজার টাকা। পরিবহণ ভাতার মধ্যে জ্বালানি, গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ এবং চালকের বেতন অন্তর্ভুক্ত। এছাড়া অফিস পরিচালনার জন্য মাসে ১৫ হাজার টাকা, লন্ড্রি ভাতা ১ হাজার ৫০০ টাকা এবং অন্যান্য খরচ যেমন বাসনপত্র, বিছানাপত্র, টয়লেট্রিজসহ দৈনন্দিন প্রয়োজনীয় জিনিস কেনার জন্য দেওয়া হয় ৬ হাজার টাকা।
সংসদ-সদস্যদের এসব সুবিধা নির্ধারিত হয়েছে ‘মেম্বার অব পার্লামেন্ট (রিমিউনারেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার, ১৯৭৩’ অনুযায়ী, যা সময়ের সঙ্গে একাধিকবার সংশোধন করা হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে এই আইনে সংশোধনী আনা হয়। সংসদ-সদস্যদের বেতন ও ভাতা আয়করমুক্ত। অর্থাৎ এই সুবিধাগুলোর ওপর তাদের কোনো আয়কর দিতে হয় না। আইন অনুযায়ী এই সুবিধাগুলো সংসদ-সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সহায়তা, নির্বাচনি এলাকায় উপস্থিতি নিশ্চিত করা, গণসংযোগ জোরদার এবং প্রশাসনিক কাজ সহজ করার উদ্দেশ্যে নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ভাতার পরিমাণ, সুবিধার পরিধি এবং জবাবদিহিতা নিয়ে জনপরিসরে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে, বিশেষ করে স্বচ্ছতা, কার্যকারিতা ও জনসেবার সঙ্গে এসব সুবিধার সামঞ্জস্য নিয়ে।
বেতনের বাইরে একজন সংসদ-সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সঙ্গে খরচের জন্য আলাদা ভাতা নির্ধারণ করা আছে। ভ্রমণসংক্রান্ত বেশকিছু সুবিধাও রয়েছে তাদের জন্য। বিমান, রেল বা নৌপথে যাতায়াত করলে সর্বোচ্চ শ্রেণির ভাড়ার দেড় গুণ পর্যন্ত ভাতা পান তারা। সড়কপথে যাতায়াতের ক্ষেত্রে কিলোমিটারপ্রতি নির্ধারিত ভাতা দেওয়া হয়। এছাড়া দেশের অভ্যন্তরে ভ্রমণের জন্য বছরে এক লাখ ২০ হাজার টাকা ভ্রমণ ভাতা বা বিকল্প হিসাবে ট্রাভেল পাশের সুবিধা রয়েছে প্রত্যেক সংসদ-সদস্যদের জন্য। দায়িত্বস্থলে অবস্থান করলে সংসদ-সদস্যরা প্রতিদিন ৭৫০ টাকা দৈনিক ভাতা এবং ৭৫ টাকা যাতায়াত ভাতা পান। সংসদ অধিবেশন বা সংসদীয় কমিটির বৈঠকে উপস্থিত থাকলে দৈনিক ভাতা ৮০০ টাকা এবং যাতায়াত ভাতা ২০০ টাকা পান তারা।
চিকিৎসার ক্ষেত্রেও সুবিধা রয়েছে সংসদ-সদস্য ও তার পরিবারের সদস্যদের জন্য। সরকারি প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তাদের সমমানের চিকিৎসা সুবিধা পান। এ ছাড়া মাসিক ৭০০ টাকা চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় তাদের। দায়িত্ব পালনের সময় দুর্ঘটনায় মৃত্যু বা স্থায়ী পঙ্গুত্বের ক্ষেত্রে ১০ লাখ টাকার সরকারি বিমা সুবিধা প্রযোজ্য হয়। পাশাপাশি বছরে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত একটি ঐচ্ছিক অনুদান তহবিল ব্যবহারের সুযোগ রয়েছে তাদের। টেলিযোগাযোগ সুবিধার অংশ হিসাবে সংসদ-সদস্যদের বাসভবনে সরকারি খরচে টেলিফোন সংযোগ দেওয়া হয়। মাসিক টেলিফোন ভাড়া ও কল খরচ বাবদ ৭ হাজার ৮০০ টাকা বরাদ্দ থাকে তাদের জন্য। যানবাহনের ক্ষেত্রে সংসদ-সদস্যরা শুল্ক, ভ্যাট ও করমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানির সুযোগ পান। দায়িত্বকাল ৫ বছর পূর্ণ হলে একই সুবিধায় আবারও নতুন একটি গাড়ি আমদানির সুযোগ রয়েছে তাদের। যদিও ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সরকারি দল বিএনপি এবং বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছে তারা শুল্ক, ভ্যাট ও করমুক্তভাবে গাড়ি নেবেন না। এছাড়া ঢাকায় প্লট, ফ্ল্যাট না থাকার নিজস্ব কোনো যায়গা না থাকলে সরকারের কাছে আবেদন করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে তাদের প্লট দেওয়া হয়ে থাকে। বিএনপি ও জামায়াতের পক্ষ থেকে সরকারি প্লট নেওয়া হবে না বলেও জানিয়ে দেওয়া হয়েছে এবার।
