Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

সংরক্ষিত নারী আসন

দুই দিনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম তুলেছেন ১০২৫ জন

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১২ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুই দিনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম তুলেছেন ১০২৫ জন

Advertisement

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন ফরম বিতরণ ও জমাদান ঘিরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে উৎসবমুখর পরিবেশ। শুক্র ও শনিবার দুই দিনে ১ হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন দলটির নেত্রীরা। শতাধিক নেত্রী ফরম পূরণ করে জমাও দিয়েছেন। আজ মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দেওয়ার শেষ দিন। বিকাল ৫টার মধ্যে জমা দেওয়া যাবে।

মনোনয়ন ফরম বিতরণ ঘিরে কর্মচঞ্চল কেন্দ্রীয় কার্যালয়। সামনের সড়কজুড়ে নেতাকর্মীদের স্লোগান। কোথাও ছোট ছোট জটলা। কেউ ফরম সংগ্রহ করছেন, কেউবা সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছেন। সব মিলিয়ে পুরো এলাকা যেন এক রাজনৈতিক উচ্ছ্বাসের কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। সংরক্ষিত নারী আসন ঘিরে বিএনপির ভেতরে শুধু প্রতিযোগিতা নয়, বরং রাজনৈতিক অংশগ্রহণের একটি বিস্তৃত আগ্রহ তৈরি হয়েছে। তৃণমূল থেকে শুরু করে পরিচিত মুখ-সবাই এই প্রক্রিয়ার অংশ হতে চাইছেন।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত নারী আসনে যোগ্যদেরই বেছে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, ‘দলের আন্দোলন-সংগ্রামে যাদের ভূমিকা রয়েছে, যাদের সংসদে কথা বলার দক্ষতা রয়েছে, সমাজে যাদের সুনাম আছে-তাদের নিশ্চয়ই দল বাছাই করবে বলে আমার দৃঢ়বিশ্বাস।’

রিজভী বলেন, ‘সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনয়ন পাওয়ার জন্য ১০ এপ্রিল পাঁচ শতাধিক ফরম বিক্রি হয়েছে। ১১ এপ্রিল সকাল ১০টা থেকে আমাদের অফিসের কর্মকর্তারা ফরম বিতরণ করছেন। গত দুই দিন ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া হয়েছে। আগামীকালও (আজ) ফরম বিতরণ ও জমা নেওয়া হবে। শুক্রবারও অনেকে জমা দিয়েছেন। দলের সিনিয়র নেতাদের সমন্বয়ে যে বোর্ড আছে, সেখানে আবেদনটি যাবে। কী পদ্ধতিতে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে, সেটি আজ-কালের মধ্যে জানা যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা প্রত্যাশা করছি, গণতান্ত্রিক রীতিনীতি অনুযায়ী বিএনপি যেভাবে তাদের সংসদ-সদস্যদের বাছাই করে, একইভাবে এবারও সেই পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে। অর্থাৎ, যারা প্রার্থী হতে ইচ্ছুক, তাদের মনোনয়ন ফরম বিতরণ করছি। সেটি তারা পূরণ করে যেসব ডকুমেন্ট চাওয়া হয়েছে, সেসবসহ ফরম আমাদের কাছে জমা দেবেন।’

রিজভী বলেন, ‘এবারের প্রত্যাশা অত্যন্ত বেশি এই কারণে যে, দীর্ঘ ১৬/১৭ বছর এক ভয়ানক দুর্বিষহ পরিস্থিতি অতিক্রম করে আজ এ জায়গায় উপনীত হয়েছি। একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য দীর্ঘ লড়াই করতে হয়েছে। ১৬ বছরের লড়াইয়ের পর গণতান্ত্রিক চর্চার যে পরিবেশটি পাওয়া গেছে, সেটির সর্বোচ্চ ব্যবহার আমাদের করতে হবে।’

শনিবার সকাল থেকেই কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে মনোনয়নপ্রত্যাশীদের ভিড় ছিল। এর মধ্যেই ফরম সংগ্রহ করতে গিয়ে তোপের মুখে পড়েন কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা। আওয়ামী লীগ সরকারবিরোধী আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ছিলেন-এমন নেত্রীদের একাংশ তার প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করে। তারা অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত না থেকেও হঠাৎ মনোনয়নপ্রত্যাশী হওয়া সুবিধাবাদিতার শামিল। ঘটনাস্থলে উপস্থিত বগুড়া জেলা বিএনপির সহসাংগঠনিক সম্পাদক ও কেন্দ্রীয় মহিলা দলের নির্বাহী সদস্য সুরাইয়া জেরিন রনি বলেন, ‘কণ্ঠশিল্পী কনকচাঁপা বিএনপির কে? তিনি কি দল করেছেন? যারা আন্দোলনে ছিলেন, ১৭ বছর আমরা দলের জন্য খেটেছি, তাদের মূল্যায়ন কোথায়?’ তিনি আরও বলেন, ‘বগুড়ার রাজপথে, ঢাকার রাজপথে ছিলাম। ১৭ বার জেলে গেছি। নারীদের মধ্যে সর্বোচ্চ মামলা খেয়েছি। কনকচাঁপা এতদিন কোথায় ছিলেন? আমাদের সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে কেন? আমরা সুবিধাবাদীদের দেখতে চাই না।’

হেভিওয়েট যেসব নেত্রী মনোনয়ন ফরম তুলেছেন : বিএনপির অর্ধশতাধিক হেভিওয়েট নেত্রী মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ করেছেন। তারা হলেন-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক শিরীন সুলতানা, স্বনির্ভরবিষয়ক সহসম্পাদক নিলুফার চৌধুরী মনি, বিএনপির মানবাধিকারবিষয়ক সহসম্পাদক সৈয়দা আসিফা আশরাফী পাপিয়া, মিডিয়া সেলের সদস্য শাম্মী আক্তার, প্রশিক্ষণবিষয়ক সম্পাদক রাশেদা বেগম হীরা, সহ-শিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, নির্বাহী কমিটির সদস্য রেহানা আক্তার রানু, বিলকিস ইসলাম, ফরিদা ইয়াসমিন, বিএনপির নেত্রী ডা. জেরিন দেলোয়ার হোসেন, জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের প্রতিষ্ঠাতা আহবায়ক কাজী আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী ফাতেমা আসাদ, ঢাকা জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নিপুণ রায় চৌধুরী, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য আরিফা সুলতানা রুমা, বিএনপির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা বেবি নাজনীন, মায়ের ডাকের সমন্বয়ক সানজীদা ইসলাম তুলি, কণ্ঠশিল্পী রিজিয়া পারভীন ও রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপা, মহিলা দলের সহ-স্বনির্ভরবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আসমা আজিজ, সহ-গ্রাম সরকারবিষয়ক সম্পাদক মৌসুমী নাছরিন, শেরপুর বিএনপির যুগ্ম-আহ্বায়ক ডা. সানসিলা জেবরিন প্রিয়াংকা, প্রয়াত মহাসচিব আব্দুস সালাম তালুকদারের মেয়ে আর্কিটেক্ট ডিজাইনার সালিমা বেগম আরুণি, প্রয়াত মহাসচিব খোন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মেয়ে ডা. খন্দকার আখতারা খাতুন লুনা, স্বেচ্ছাসেবক দলের প্রয়াত সভাপতি শফিউল বারী বাবুর স্ত্রী বীথিকা বিনতে হোসাইন, ঢাকা মহানগর মহিলা দলের নেত্রী বেগম মেহেরুন্নেসা হক, আলোচিত মডেল ও অ্যাক্টিভিস্ট ফারজানা সিঁথি, সাবেক হুইপ সৈয়দ ওয়াহিদুল আলমের মেয়ে ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা, সাবেক সংসদ-সদস্য ড. সৈয়দ মকবুল হোসেন লেচু মিয়ার মেয়ে বিএনপি নেত্রী সৈয়দা আদিবা হোসেন, ময়মনসিংহ উত্তর জেলা মহিলা দলের সভাপতি তানজিন চৌধুরী লিলি প্রমুখ।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম