Logo
Logo
×
   

Advertisement

শেষ পাতা

ফেনী ও মীরসরাইয়ে পাউবোর সেচ প্রকল্প

দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

যুগান্তরে সংবাদ প্রকাশের পর

Advertisement

Icon

যুগান্তর প্রতিবেদন

প্রকাশ: ১৩ এপ্রিল ২০২৬, ১২:০০ এএম

প্রিন্ট সংস্করণ

দুর্নীতির অভিযোগ তদন্তে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ

Advertisement

ফেনী ও চট্টগ্রামের মীরসরাইয়ে পাউবোর সেচ প্রকল্পে ভয়াবহ দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করতে নির্দেশ দিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে আলোচ্য সেচ প্রকল্প নিয়ে গঠিত শক্তিশালী তদন্ত প্রতিবেদনে উঠে আসা অনিয়ম-দুর্নীতির বিষয়টি সম্পর্কে জানতে চেয়েছেন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন। বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদনটি ‘খামবন্দি’ রেখে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে মন্ত্রণালয় ও বিভাগীয় মামলার দুটি প্রতিবেদনে বিস্তর ফারাক সম্পর্কে জানতে সিনিয়র কর্মকর্তাদের মতামত চাওয়া হয়েছে।

পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একজন সিনিয়র কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে রোববার যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. একেএম শাহাবুদ্দিন বিভাগীয় মামলার তদন্ত প্রতিবেদনটি খামবন্দি রেখে পুনঃতদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। ৭ এপ্রিল, ‘ফেনী ও মীরসরাইয়ে পাউবোর সেচ প্রকল্প : ৫শ কোটি টাকার প্রকল্প থেকে ২শ কোটিই লুট’ শিরোনামে যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির কাটিং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিবের কাছে পাঠানো হয়। এরপরই নড়েচড়ে বসে মন্ত্রণালয়। বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখে দায়ী কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালকের কাছে সিনিয়র সচিব এ বিষয়ে বারবার জানতে চেয়েছেন, তিনি (ডিজি পাউবো) জেনেশুনে কেন বিভাগীয় মামলার এমন প্রতিবেদন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছেন।

এদিকে আলোচ্য প্রকল্পে সংগঠিত অনিয়ম-দুর্নীতির নথিপত্র না পাওয়া নিয়ে পাউবোর বিভাগীয় মামলার তদন্ত কমিটির ভূমিকা নিয়েও তদন্তের দাবি উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডে। সম্প্রতি মহাপরিচালক হিসাবে অবসরে গেছেন এমন একজন কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, সরকারের একজন সিনিয়র কর্মকর্তার নেতৃত্বে তিন সদস্য বিভাগীয় মামলার তদন্ত করেছেন। সেটি মন্ত্রণালয়ে যাওয়ার আগে অভিযুক্ত কর্মকর্তা কীভাবে জানতে পারলেন, তার তদন্ত হওয়া উচিত। এ তিন কর্মকর্তাকেও তদন্তের আওতায় এনে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হলে ভবিষ্যতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কোনো তদন্তই আলোর মুখ দেখবে না। সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার কাজ হয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের মাধ্যমে। আর সেই প্রতিষ্ঠানে যদি মন্ত্রণালয় থেকে গঠিত শক্তিশালী তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে উঠে আসা দিনের আলোর মতো পরিষ্কার অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য গোপন করা হয়, তাহলে সেই আগের যুগেই ফিরে যাবে পাউবো।

তিনি বলেন, বৈদেশিক ঋণের শত শত কোটি টাকা লোপাটের বিষয়টি ঠান্ডামাথায় গোপন করা হয়েছে। এতে দাতা সংস্থার কাছে মন্ত্রণালয়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে।

জানা যায়, বিভাগীয় মামলার তদন্ত করেছেন পাউবোর তিনজন কর্মকর্তা। তারা হলেন-পাউবোর অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) মোল্লা মিজানুর রহমান, পাউবোর কন্টাক্ট অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট সেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. হাফিজুর রহমান এবং যান্ত্রিক সার্কেলের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মো. গোলাম রব্বানী।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. এনায়েত উল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, মন্ত্রণালয় থেকে বিষয়টি নিয়ে কিছু নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। আপাতত তিনি এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাননি।

Advertisement

Advertisement

Logo

সম্পাদক : আবদুল হাই শিকদার

প্রকাশক : সালমা ইসলাম